আড়ংঘাটায় সংঘবদ্ধ ডাকাতদল লুট করে নিয়ে গেল ৩১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ!

# ঘটনাস্থলে সিআইডি ক্রাইম সীন ইউনিট ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা #
# দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি, এলাকায় চাঞ্চল্য, মামলা #
স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা মহানগরীর আড়ংঘাটা থানাধীন মোড়ল পাড়া এলাকায় শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারী) দিবাগত রাতে সংঘবদ্ধ দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ওই এলাকার মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমীনের পুত্র ও দৌলতপুর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, আড়ংঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মতলুবুর রহমান মিতুলের ছোট চাচা কামাল মোড়লের বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারী) ভোরে ওই ঘটনার খবর পেয়ে সিআইডি ক্রাইম সীন ইউনিট ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি বিভিন্ন আলামত জব্দসহ বিভিন্ন বিষয়কে সামনে রেখে তদন্তের কাজ চলমান রেখেছেন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে কাজ শুরু করেছেন। ভিকটিম পরিবার, প্রশাসনের দ্রুত সময়ের মধ্যে এমন দুর্ধর্ষ ডাকাতির কাজে জড়িতদের সামনে আনার পাশাপাশি গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। শনিবার রাতে বাড়ীর মালিক কামাল মোড়ল বাদী হয়ে সংশ্লিস্ট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারী) দিনগত রাত সোয়া ২টার দিকে খুলনা মহানগরীর আড়ংঘাটা থানাধীন মোড়ল পাড়া এলাকার মরহুম বীরমুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমীনের পুত্র ও দৌলতপুর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, আড়ংঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মতলুবুর রহমান মিতুলের ছোট চাচা কামাল মোড়লের বাড়ীতে একদল সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্রের সদস্যরা গ্রীল কেটে বাড়ীর ভেতর প্রবেশ করে। মুখোশ পরা ডাকাতদলের ৮ সদস্যে বাসার ভেতর ও ৪ জন বাড়ীর প্রধান ফটক ও অন্য ৪ জন বাড়ীর পেছন ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল বলে সূত্রে জানা গেছে। রাত সোয়া ২টার দিকে ডাকাতদলের ৮ সদস্যেরা ঘরের ভেতর প্রবেশ করে কামাল মোড়ল, তার স্ত্রী ও কন্যা দো-তলায় ধারালো দেশীয় অস্ত্র (দা) মুখে ফেলে হাত বেঁধে লুটের কার্যক্রম শুরু করে। সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্রের সদস্যরা দ্বিতল ভবনের প্রতিটি বেড রুম তল্লাসী করে ঘরে থাকা পরিবারের সদস্যদের হাত বেঁধে ৩১ ভরি স্বর্ণালংকার ও অনুমানিক পৌনে ২ লাখ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে প্রধান ফটকের তালা খুলে পালিয়ে চলে যায় এবং এ ঘটনায় কোনো মামলা না করার জন্য হুমকি-ধামকি দেয়। শনিবার ভোরে ঘটনার পর ওই বাড়ীতে তাদের নিকটস্থ আত্মীয়-স্বজন ও উৎসুক এলাকার সাধারন মানুষ ভীড় জমাতে থাকে। এমন আলোচিত ঘটনা পুলিশকে অবিহিত করার পর ঘটনাস্থলে সিআইডি ক্রাইম সীন, নগর গোয়েন্দা পুলিশ ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। দুর্ধর্ষ এ ডাকাতির ঘটনায় গোটা আড়ংঘাটা এলাকার চাঞ্চল্য সৃষ্টিসহ নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে।
এ বিষয়ে ওই এলাকার বাসিন্দা মো. হাছান জানান, আড়ংঘাটা এলাকায় এতো বড় ডাকাতির ঘটনা আগে কোনো দিন ঘটেনি। এমন ঘটনায় আমরা এলাকাবাসী এখন নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। একদল ডাকাত এসে সোনা-গহনা, টাকা-পয়সা নিয়ে চলে গেলো। পাশে বাইপাস সড়ক, এ সড়ক ধরে প্রায় ছোট-বড় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেই চলেছে। প্রশাসনের যে ধরনের জোরদার ভূমিকায় থাকার কথা তা দৃশ্যমান নয়। পুলিশের টহল জোরদার করা উচিৎ। পাশাপাশি এই ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি এলাকাবাসী হিসাবে।
এ বিষয়ে বাড়ীর মালিক কালাম মোড়ল জানান, রাত সোয়া ২টা বাজে, রুমের ভেতর শুয়ে ছিলাম। আমার ছোট মেয়ে পাশের রুমে শুয়ে ছিল। হঠাৎ মুখোশ পরা একদল লোক রুমের ভেতর ঢুকে বলে আমরা ডাকাত, কোনো শব্দ করবেন না। এরপর আমাদের ফোনগুলি নিয়ে নেয়। সব ঘর তল্লাশী করে। ওরা ঘরের ভেতর ৮ জন ঢোকে এবং বাইরে মেইন গেটে ৪ জন এবং পেছন গেটে ৪ জন দাড়িয়ে ছিল। ওরা ৩১ ভরি স্বর্ণালংকার, পৌনে ২ লাখ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন লুট করে চাবি নিয়ে মেইন গেট খুলে চলে যায়। ওদের সবার হাতে ধারালো দা ছিল। ঘটনার পর ভোরে বিষয়টি সর্বপ্রথম ভাইপো মিতুলকে জানায়। এরপর পুলিশ ও বিভিন্ন প্রশাসনের লোকজন আসতে থাকে। ওই ঘটনায় আমি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েক করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে বাড়ীর মালিক কালাম মোড়লের ছোট মেয়ে দিয়া জানান, আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। আব্বুর সাথে গিয়ে একদল লোক আমাকেও আব্বুর ঘরে নিয়ে আসে। তারা আমাদের হাত বেঁধে রেখে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। ওরা সবাই মুখোশ পরা ছিল এবং হাতে দা ছিল। ওদের দেখে বেশ ভয় পেয়ে গিয়ে ছিলাাম।
এ বিষয়ে ভিকটিমের ভাতিজা, দৌলতপুর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও আড়ংঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মতলুবুর রহমান মিতুল মোড়ল জানান, রাতের শেষাংশের দিকে ছোট চাচা ফোন দিয়ে আমাকে ডাকাতির বিষয়টি অবগত করলে, তাৎক্ষনিক আমি প্রশাসনের উপর মহল ও আড়ংঘাটা থাকাকে অবগত করি। ঘটনাস্থলে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের সদস্যরা এসে পরিদর্শনসহ বিভিন্ন আলামত ও তদন্ত শুরু করে। ডাকাতির ঘটনায় ইতোমধ্যে চাচা সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করেছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ দুর্ধর্ষ ডাকাতি কাজের সাথে কারা জড়িত তাদের সামনে দেখতে চায়।
এ বিষয়ে আড়ংঘাটা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহাজাহান আহমেদ জানান, ডাকাতির ঘটনার বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করার পাশাপাশি ঘটনাস্থল পরিদর্শন, ঘটনাস্থল হতে আলামত জব্দ এবং বিভিন্ন বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত শুরু করেছি। ইতোবাদী মামলা দায়ের করেছেন। আশাবাদি দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামী গ্রেপ্তারে সক্ষম হবো।
এ বিষয়ে ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায় জানান, ডাকাতির ঘটনার বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনাস্থল হতে আলামত জব্দ এবং বিভিন্ন বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। আশাবাদি দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের শণাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবো।



