আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পদক্ষেপ নিন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের যেসব আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়েছিল; সেগুলো দেড় বছরেও পুরোপুরি উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়া এক হাজারেরও বেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং দুই লাখের বেশি গোলাবারুদেরও হদিস মেলেনি এখনো। ফলে নির্বাচনের আগে এসব অস্ত্র উদ্ধার না হলে সেগুলো বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন চলাকালে বিতর্কিত ভূমিকার কারণে পুলিশের ওপর সাধারণ মানুষের ব্যাপক ক্ষোভ জন্ম নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাড়ে চারশর বেশি থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। একইসঙ্গে, গণভবন থেকে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) অস্ত্রপাতিও লুট হয়। হামলাকারীরা তখন সবমিলিয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার আগ্নেয়াস্ত্র এবং সাড়ে ছয় লাখের মতো গোলাবারুদ লুট করে নিয়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল পুলিশ। জুলাই অভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রায় সবাই এখন ভারতে অবস্থান করছে। সেখান থেকে তারা দেশকে অস্থিতিশীল এবং নির্বাচন বানচাল করতে ডি-স্ট্যাবিলাইজেশন পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। নির্বাচনসংশ্লিষ্ট অনেকেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। তাঁদের মতে, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও কেন্দ্রে পর্যাপ্ত ভোটার উপস্থিত করতে পারাটাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে নির্বাচনী প্রচার শেষ হবে। তাই শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণায় জমে উঠেছে সারা দেশ। প্রার্থী ও তাঁদের কর্মী-সমর্থকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন। দিনে-রাতে মাইকিং চলছে। ব্যানারে ছেয়ে গেছে রাজধানীর প্রায় সব খোলা জায়গা। এর মধ্যে ভোটারদের মনে আশঙ্কা জাগিয়ে কিছু সংঘাত-সংঘর্ষ এবং হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। অতীতের নির্বাচনগুলোর তুলানায় এবারের সংসদ নির্বাচনে নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ রয়েছে বলে জানাচ্ছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। ড. ইউনূস সুষ্ঠু অবাধ ও উৎসবমুখর নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সে লক্ষ্য অর্জন করতে হলে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনের সময়েও যদি মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকে যায়, তাহলে তারা ভোটকেন্দ্র যাওয়ার ব্যাপারে কতটা আগ্রহ দেখাবেন, সেটা একটা বড় প্রশ্ন।
