বিদ্রোহীরা ভাবাচ্ছে বিএনপিকে : স্বস্তিতে জামায়াত

# খুলনা বিভাগের ৩৬ আসন #
স্টাফ রিপোর্টারঃ এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ৩৬টি আসনে ২০৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এসব আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা। এগুলোর ১৮টিতে বিএনপি ও ১৩টিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। বাকিগুলোতে দ্বিমুখী-ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে। তবে বিএনপির দলীয় কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ভালো অবস্থানে থাকা কিছু আসনে চাপে আছে বিএনপি। এগুলোর মধ্যে ১২টি আসনে দ্বিমুখী ও ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
খুলনার ছয় আসনের হালচালঃ খুলনা-১ আসনে (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) মোট ভোটার ৩ লাখ ৭ হাজার ১০৩ জন। দাকোপ হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ উপজেলা। এখানে ৫৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ বাসিন্দাই হিন্দু। বটিয়াঘাটা উপজেলার ২৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ বাসিন্দা হিন্দু সম্প্রদায়ের। ফলে এই আসনে হিন্দুদের ভোটেই জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়। আসনটিতে বরাবরই আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিতে যান। এবার এই আসনে হিন্দু প্রার্থী হয়েছেন আট জন। বেশি প্রার্থী থাকায় কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বিএনপির আমির এজাজ খান। তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন জামায়াতের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী। তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।কৃষ্ণ নন্দী বলেন, ‘জামায়াত ক্ষমতায় এলে এ দেশে হিন্দুরা জামাই-আদরে থাকবে। কাজেই দাকোপ-বটিয়াঘাটার মানুষ এবার আমাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে। আমি আশাবাদী।’ খুলনা-২ (সদর) আসনে বিএনপির কোন্দল প্রকাশ্যে। তবে ব্যক্তি ইমেজ এবং প্রবীণ রাজনীতিবিদ হিসেবে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর গ্রহণযোগ্যতা আছে। তার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।খুলনা বড় বাজারের ব্যবসায়ী আসাদ বলেন, ‘নজরুল ইসলাম মঞ্জু সৎ, বিচক্ষণ ব্যক্তি। তিনি নির্বাচিত হলে খুলনার রাজনীতিতে একটা ভারসাম্য হবে।’ স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন তরুণ। ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। তবে এই আসনে জামায়াতের ভোট বেড়েছে অনেক। লড়াই হতে পারে।’
শিল্পাঞ্চল হিসেবে খ্যাত খুলনা-৩ আসনে বিএনপির রকিবুল ইসলাম বকুল, জামায়াতের মোহাম্মাদ মাহফুজুর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আ. আউয়ালের মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিয়েছেন ভোটাররা। এ ছাড়া বিএনপি থেকে এনসিপিতে যাওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম আরিফুর রহমান মিঠুর নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম ইজমের ভোট রয়েছে। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হবে বিএনপি এবং জামায়াতের।খুলনা-৪ আসন বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত। ফলে বিএনপির এস কে আজিজুল বারী হেলাল সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বলে ভোটাররা জানিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামী আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় শরিক খেলাফত মজলিসের এস এম সাখাওয়াত হোসাইনের (দেয়াল ঘড়ি) সঙ্গে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।খুলনা-৫ আসন এবার বেশ আলোচিত। হিন্দু-অধ্যুষিত এই আসনে দুই শক্তিশালী প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার এবং সাবেক বিসিবি পরিচালক বিএনপির মোহাম্মাদ আলী আসগার লবীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। গোলাম পরওয়ারের অবস্থা অনেকটাই ভালো বলে জানান ভোটাররা। তবে হিন্দুদের বাগে আনতে দিনরাত কাজ করছেন বিএনপির প্রার্থী। জানতে চাইলে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘২০০১ সালে সংসদ সদস্য হয়ে এলাকার রাস্তাঘাট, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দিরের ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। কাজেই সেই মূল্যায়নটা এবার ভোটাররা করবেন।’মোহাম্মাদ আলী আসগার লবী বলেন, ‘এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে এবার ভোটাররা আমাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন বলে আশাবাদী।’খুলনা-৬ আসনের কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবু জামায়াতে ইসলামীর মো. আবুল কালাম আজাদ ও বিএনপির এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীর মধ্যে লড়াই হবে। এই আসনে ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়েছেন। তবে এ আসনে খুলনায় বিএনপির স্থানীয় মেরুকরণের কৌশল চলছে।
বাগেরহাটের চার আসনে যার সঙ্গে যার লড়াইঃ বাগেরহাট-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম (ঘোড়া) এবং বিএনপির কোপিল কৃষ্ণ ম-ল এবং জামায়াত জোটের প্রার্থী মাওলানা মশিউর রহমান খানের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। এই আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. মাসুদ রানাও (ফুটবল) বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাকে সমর্থন দিয়েছে। তা ছাড়া এই আসনে আরও চার জন প্রার্থী রয়েছেন। তবে ভোটের মাঠে তাদের তেমন অবস্থান নেই। বিদ্রোহী থাকায় বিএনপির শঙ্কা বেশি।বাগেরহাট-২ আসনেও স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম, বিএনপির ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মাদ জাকির হোসেন ও জামায়াতের শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শেখ আতিয়ার রহমানও মাঠে আছেন।বাগেরহাট-৩ আসনে মূল লড়াই হবে বিএনপির শেখ ফরিদুল ইসলাম ও জামায়াতের অ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াদুদের মধ্যে। ফরিদ এলাকার অনেক সামাজিক কর্মকা-ে জড়িত আছেন এক যুগ ধরে। ফলে তার অবস্থান অনেক ভালো। এই আসনে এম এ এইচ সেলিম প্রার্থী থাকলেও এখানে তার তেমন প্রচার নেই। এম এ এইচ সেলিম বলেন, ‘বিএনপির প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচন করছি। কারণ আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটি যে বিবেচনায় প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে, তারা কেউই জামায়াতের সামনে পাস করতে পারবে না। এজন্য তিনটি আসনে প্রার্থী হয়েছি।’বাগেরহাট-৪ আসনে মূল লড়াই হবে জামায়াতের অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম ও বিএনপির প্রার্থী সোমনাথ দের মধ্যে। তবে বিএনপির জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে নিজ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী খায়রুজ্জামান শিপন (হরিণ)। এর বাইরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ওমর ফারুক ভোটের মাঠে রয়েছেন। এই আসনে আরও দুজন প্রার্থী থাকলেও ভোটের মাঠে তাদের উপস্থিতি নেই। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি-জামায়াতের।
সাতক্ষীরার চার আসনে স্বস্তিতে জামায়াতঃ সাতক্ষীরার চারটি আসনে মোট ২০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে সাতক্ষীরা-১ আসনে বিএনপি এবং ২, ৩ ও ৪ আসনে জামায়াত শক্ত অবস্থানে রয়েছে। সাতক্ষীরা-১ আসনে বিএনপির হাবিবুল ইসলাম হাবিব এগিয়ে থাকলেও জামায়াতের মো. ইজ্জত উল্লাহর সঙ্গে তুমুল লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তালা উপজেলার বাসিন্দা মুদিদোকানি আবুল কালাম সানা বলেন, ‘এই আসনে আমরা বিএনপির হাবিবুল ইসলাম হাবিব এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ইজ্জত উল্লাহর মধ্যে তুমুল লড়াই দেখতে পাচ্ছি।’ একই কথা বলেছেন কলারোয়ার বাসিন্দা আলী আক্কাস। সাতক্ষীরা-২ আসনে জামায়াতের আব্দুল খালেকের অবস্থান খুবই শক্ত। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির আব্দুর রউফের। তবে মাঠ পর্যায়ে শক্ত অবস্থানে জামায়াত প্রার্থী। সাতক্ষীরা-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ডা. শহিদুল আলম (ফুটবল) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দল তাকে মনোনয়ন না দিলেও তার অবস্থান ভালো। এই আসনে বিএনপির ড. মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান দলীয় ভোট টেনে নিলে জামায়াতের হাফেজ রবিউল বাশার জিতে যেতে পারেন।
সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতের জি এম নজরুল ইসলাম ও বিএনপির ড. মুহাম্মদ মনিরুজ্জামানের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে। মাঠপর্যায়ে দুজনের অবস্থানই শক্ত।
যশোরের ছয় আসনের একটিতে স্বস্তিতে বিএনপিঃ যশোর-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আজিজুর রহমানের সঙ্গে বিএনপির নুরুজ্জামান লিটনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ভোটাররা বলছেন, আগে থেকে আসনটিতে জামায়াতের প্রভাব বেশি। যশোর-২ আসনে জামায়াতের মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের অবস্থান শক্ত। তবে বিএনপির সাবিরা সুলতানা ভোটারদের মন জয় করতে কাজ করে যাচ্ছেন। যদিও আসনটিতে মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের বিভেদ কাটাতে পারেননি তিনি।যশোর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। যশোরে ছয়টি আসনের মধ্যে বিএনপির একমাত্র এই প্রার্থী নির্ভার। দলের কেন্দ্রীয় নেতা এবং প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের সন্তান হওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এই আসনে ছয় জন প্রার্থী থাকলেও মূলত অমিতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে জামায়াতের আব্দুল কাদেরের। তবে মাঠপর্যায়ে শক্ত অবস্থানে আছেন অমিত।যশোর-৪ আসনে বিএনপির মতিয়ার রহমান ফারাজি শঙ্কায় আছেন। আসনটিতে বিএনপি বহু ভাগে বিভক্ত থাকায় দলীয় প্রার্থী ঝুঁকির মধ্যে আছেন। এই অবস্থায় জামায়াতের প্রার্থী গোলাম রসুল নির্ভার রয়েছেন। যশোর-৫ আসনে বিএনপির বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) শহীদ মো. ইকবাল হোসেনের (কলস) সঙ্গে জামায়াতের গাজী এনামুল হকের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে বিএনপির রশীদ আহমাদ প্রার্থী হওয়ায় দলটির ভোট ভাগাভাগি হলে আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এমন আভাস পাওয়া গেছে। ভোটাররা বলছেন, হিন্দু-অধ্যুষিত মনিরামপুরে হিন্দুরা যার দিকে ঝুঁকবেন; তার পাল্লা ভারী হবে। যশোর-৬ আসনে জামায়াতের মোক্তার আলী প্রচারে এগিয়ে আছেন। ভোটাররা তার দিকেই ঝুঁকছেন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ।
চুয়াডাঙ্গার দু’ আসনে লড়াইয়ের আভাসঃ চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেলা ও দলের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল ভোটযুদ্ধে সমানে সমান। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু এবং জামায়াতের প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমিনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।
নড়াইলের দু’টির একটিতে শঙ্কায় বিএনপিঃ নড়াইল-১ সংসদীয় আসনে জেলা বিএনপি সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম প্রচারে এগিয়ে আছেন। জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি মো. ওবায়দুল্লাহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপির বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের জয়লাভের আশা বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।নড়াইল-২ আসন স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম (কলস) শক্ত অবস্থানে আছেন। তার সঙ্গে জামায়াতের আতাউর রহমান বাচ্চুর প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে। এই আসনে এখন পর্যন্ত বিএনপির প্রার্থী ড. এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ মাঠে শক্ত অবস্থান গড়তে পারেননি।
ঝিনাইদহে দুটিতে দ্বিমুখী-ত্রিমুখী লড়াইঃ ঝিনাইদহ-১ আসনে বিএনপির মো. আসাদুজ্জামান ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থানে আছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের এ এস এম মতিউর রহমানও প্রচারণার মাঠে আছেন।ঝিনাইদহ-২ আসনে বিএনপির মো. আব্দুল মজিদের সঙ্গে লড়াই হবে জামায়াতে ইসলামীর আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকরের।ঝিনাইদহ-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মতিয়ার রহমান প্রচারে এগিয়ে আছেন। বিএনপির মেহেদী হাসানের সঙ্গে তার তুমুল লড়াই হবে বলছেন ভোটাররা।ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির রাশেদ খান, জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আবু তালেব, স্বতন্ত্র ও বিএনপির বিদ্রোহী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ (কাপ পিরিচ) প্রতীকের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। ভোটাররা বলছেন, শেষ পর্যন্ত জামায়াতের প্রার্থী শক্ত অবস্থানে আছেন। কারণ বিএনপির ভোট বিভক্ত হয়ে গেছে।
মাগুরার দুটিতেই শক্ত অবস্থানে বিএনপিঃ মাগুরা-১ আসনে বিএনপির মনোয়ার হোসেন খান শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল মতিনও লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন। মাগুরা-২ আসনে বিএনপির নিতাই রায় চৌধুরী অনেকটা নির্ভার। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মুরতারশেদ বিল্লাহ।
কুষ্টিয়ায় দুটিতে শক্ত অবস্থানে বিএনপি, দুটিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইঃ কুষ্টিয়া-১ আসনে বিএনপির রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। বিএনপির বিদ্রোহী দৌলতপুর উপজেলার সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মো. নুরুজ্জামান (মোটরসাইকেল) ও জামায়াতে ইসলামীর মো. বেলাল উদ্দিনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে বিএনপির ভোট বিভক্ত হয়ে গেলে শঙ্কা আছে।কুষ্টিয়া-২ আসনে বিএনপির রাগীব রউফ চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল গফুরের মধ্যে লড়াই হবে। কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে বিএনপির জাকির হোসেন সরকার ও জামায়াতে ইসলামীর আমির হামজার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার কথা বলছেন ভোটাররা। কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনে বিএনপির সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বলে ভোটাররা জানিয়েছেন। তার সঙ্গে লড়ছেন জামায়াতে ইসলামীর আফজাল হোসেন।মেহেরপুরের দুটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবেঃ মেহেরপুর-১ আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুণ শক্ত অবস্থান ধরে রাখলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উঠে এসেছেন জামায়াতের জেলা আমির তাজ উদ্দিন খান। মেহেরপুর-২ আসনে বিএনপির আমজাদ হোসেন ও জামায়াতে ইসলামীর মো. নাজমুল হুদার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।



