স্থানীয় সংবাদ

তেরখাদায় মহিলা সমাবেশ গণতন্ত্র রক্ষায় জনগণের ঐক্যই শেষ ভরসা : আজিজুল বারী হেলাল

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, দেখতে দেখতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একেবারে দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে। এই নির্বাচনকে ঘিরে দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যে প্রত্যাশা লালন করে আসছে, তা হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট। তিনি বলেন, এই নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য দু-একটি দল নানা ধরনের ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা চালালেও বর্তমান সরকার জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। কোনোভাবেই যেন গণতন্ত্র হুমকির মুখে না পড়েÑবাংলাদেশের মানুষ এটা কখনোই চায় না। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় তেরখাদা উপজেলার আনন্দনগরে আয়োজিত এক বিশাল মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক নারী উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দৃঢ় প্রত্যয়। আজিজুল বারী হেলাল বলেন, বিএনপি বারবার জনগণের সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে এবং প্রতিবারই জনগণের কল্যাণে কাজ করেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যতবার সুযোগ পেয়েছেন, ততবারই তিনি নারীদের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। বিএনপি সরকারের সময় নারীদের জন্য বিনা বেতনে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়, বিধবা ভাতা ও বয়স্ক ভাতা চালু করা হয় এবং দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারী ও শিশু মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা নারীদের উন্নয়নে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে একাধিক যুগোপযোগী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ড। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা হবে। নিজ নির্বাচনী এলাকার প্রসঙ্গে আজিজুল বারী হেলাল বলেন, আপনারা আমার এলাকার সহজ-সরল মানুষ। আপনাদের দুঃখ-কষ্ট, সমস্যা ও বঞ্চনার কথা আমি দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছি। আপনাদের জন্য আমি কী কী করবো, তার বিস্তারিত আমার নির্বাচনী ইশতেহারে তুলে ধরেছি। আমি কথা দিচ্ছি, এই এলাকায় কোনো চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি কিংবা বিচারের নামে যারা অবিচার করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তাদেরকে কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনা হবে এবং দলীয় পদ আজীবনের জন্য স্থগিত করা হবে। একটি সুশাসিত ও নিরাপদ সমাজ গঠনের জন্য এসব পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের জন্য আমাদের জরুরি ভিত্তিতে বেশ কিছু কাজ হাতে নিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ, স্কুল ও মাদ্রাসার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র আধুনিকীকরণ এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন। দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষ যেসব ন্যায্য দাবি জানিয়ে আসছেন, সেগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমেই তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খান জুলফিকার আলি জুলু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রনু এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চৌধুরী কাওছার আলী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ফখরুল ইসলাম বুলু চৌধুরী, হাবিবুর রহমান হাবি, নাইমুল ইসলাম নাইম, সাজ্জাদ হোসেন নান্টা, হুমায়ুন মোল্লা, মিলটন মুন্সি, ইউসুফ আলী, জাহিদ শেখ, জাহাঙ্গীর লস্কর, সোহাগ মুন্সি, টগর শামিম আহমেদ রমিজসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button