কেশবপুরে জামায়াত প্রার্থীর বাড়িতে মধ্যরাতে ক’কটেল বিস্ফোরণ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : যশোর-৬ আসনের (কেশবপুর) জামায়াত প্রার্থী মোক্তার আলীর বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার রাত একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে সোমবার জামায়াত প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট সাইদুর রহমান সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি বলেন, এ ঘটনার পর ভোটার এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি জানানো হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো দল বা কারও প্রতি তিনি অভিযোগ করেননি। কেশবপুরের পৌরসভা সড়কে পৌর জামায়াতের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাইদুর রহমান। তিনি জানান, রোববার দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য–সমর্থিত জামায়াত ইসলামীর মোক্তার আলীর নিজ বাসভবনে দুটি ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা আইনশৃঙ্খলা অবনতির একটি বহিঃপ্রকাশ। এর মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশ আতঙ্কিত করা, সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখানো এবং জনপ্রিয় প্রার্থীকে দমিয়ে রাখার জন্য এ ধরনের সন্ত্রাসী কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে চার দফা দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে শনাক্ত করা ও গ্রেপ্তার করা। ঘটনা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্ত করে ঘটনার নেপথ্যে যাঁরা জড়িত, তাঁদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া। কেশবপুরের নির্বাচনের সময়ে ভোটার–প্রার্থী–সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দৃশ্যমান কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের সব অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাইদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় নির্দিষ্টভাবে কোনো দল বা কারও প্রতি তাঁদের সন্দেহ নেই। তবে যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের ধরে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনাটি উন্মোচন করবেন বলে তিনি মনে করেন।
আজ দুপুরে কেশবপুর শহরের বায়সা সড়কের মোক্তার আলীর বাসার সামনে গিয়ে দেখা যায় লোকজনের ভিড়। মুক্তার আলীর ছেলে মুরশিদুল মারুফ জানান, ককটেল বিস্ফোরণের পর তাঁরা বাসা থেকে বাইরে এসেছিলেন। তখন কাউকে দেখতে পাননি।
মোক্তার আলী বলেন, বাড়িতে বিস্ফোরণের পর তিনি কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ফোন করেন। পরে পুলিশ তাঁর বাসার সামনে আসে। প্রশাসনের কাছে তিনি বাড়ির সামনে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেওয়ার দাবি জানান।
কেশবপুর থানার ওসি শুকদেব রায় বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ তাৎক্ষণিক মোক্তার আলীর বাসার সামনে যায়। সেখান থেকে জর্দার কৌটার ভাঙা অংশ ও স্কচটেপ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলমান।
কেশবপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন, তিনি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা শুনেছেন। কেশবপুর থানার ওসি এ বিষয়ে তদন্ত করছেন। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীর সদস্যরাও সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।



