তালায় সাস পরিচালকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি করে জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ!

# ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন #
তালা প্রতিনিধি ঃ তালার এনজিও সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা (সাস) এর পরিচালক শেখ ইমান আলীর বিরুদ্ধে ইউপি চেয়ারম্যানের ওয়ারেশ কায়েম সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যের জমি দখলে পায়তারা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। উত্তরণের মালিকানাধিন ওই জমি দখল নিতে সাস পরিচালকের প্রতারণার ঘটনা ফাঁস হওয়ায় এলাকার মানুষের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে উক্ত জালিয়াতির ঘটনায় সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) তালায় সংবাদ সম্মেলন করেন ওই জমির এস.এ রেকর্ডীয় মালিকের পক্ষে শিবপুর গ্রামের আমির আলী খানের ছেলে মো. মুক্তার আলী খান।
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তার খান বলেন, তালা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কলেজ সংলগ্নে মাঝিয়াড়া মৌজার এস.এ ৯২৪ খতিয়ানের ১৪১২ দাগের ৪৯ শতক জমির রেকর্ডীয় মালিক কেরামত আলী খান, আমীর আলী খান, আনার আলী খান ও আয়জান বিবি। এদের মধ্যে কেরামত আলী খান ও আয়জান বিবি তাদের মালিকানাধিন অংশের ৩৩ শতক জমি ২০/০৪/১৯৬৫ সালে ৭৭৮ নং দলিলে শাহাপুর গ্রামের ইউসুফ মোল্যা ও ছাকাউদ্দীন মোল্যার নিকট বিক্রি করেন। দীর্ঘদিন এই জমি বিধি মোতাবেক ভোগ দখল করাকালে বিগত ০৩/০১/১৯৭৭ তারিখে ইউসুফ মোল্যা ও সাকাউদ্দীন মোল্লা উক্ত এস.এ ৯২৪ খতিয়ান ভুক্ত ১৪১২ দাগের ৩৩ শতক সম্পত্তি ১০ নং কোবলা দলিলমুলে মাঝিয়াড়া গ্রামের আব্দুস সবুর খাঁ’র নিকট হস্তান্তর করেন। আব্দুস সবুর এই জমি নিজ নামে নামপত্তন পূর্বক সরকারী কর-খাজনা পরিশোধ করে দীর্ঘ বছর শান্তিপূর্ন ভোগ দখল করেন। বিগত ১৯/০৭/২০২১ তারিখে ২৩৯৫ নং কোবলা দলিলমূলে আব্দুস সবুর উক্ত ৩৩ শতক জমির মধ্য হতে ২৭ শতক জমি তালাস্থ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উত্তরণ’র পক্ষে পরিচালক বরাবর হস্তান্তর করেন। সেই থেকে উত্তরণ এই জমির নামপত্তন (৬৫২৬/২০২৩-২০২৪) পূর্বক শান্তিপূর্ন ভোগ দখলরত আছে।
মুক্তার খান বলেন, উত্তরণের মালিকানাধিন এই জমি অবৈধভাবে জবর-দখল নিতে স্থানীয় এনজিও সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা (সাস) এর পরিচালক শেখ ইমান আলী দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরণের অপতৎপরতায় লিপ্ত ছিলেন। কিন্তু আইনগতভাবে তিনি কিছু করতে না পেরে সর্বশেষ অপকৌশলের অবলম্বন করে পরিকল্পিতভাবে একটি জাল ওয়ারেশ কায়েম সনদ তৈরি করে।
তিনি জানান, এস.এ রেকর্ডীয় মালিক আয়েজান বিবি তাঁর অংশের সম্পত্তি ১৯৬৫ সালে কোবলা দলিলমুলে হস্তান্তর করেছিলেন। অথচ ওই একই সম্পত্তি সাস পরিচালক হাতিয়ে নেবার জন্য আয়েজানের মৃত্যু পরবর্তীতে তালা সদর ইউপি চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে একটি ভূয়া ওয়ারেশ কায়েম তৈরি করে। যেখানে আয়েজান বিবির ওয়ারেশ হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের সাথে তাঁর আদৌ কোনও সম্পর্ক নেই। অবৈধ ওই ওয়ারেশ কায়েম সনদ দেখিয়ে উপজেলা ভূমি অফিসের সাথে প্রতারণাপূর্বক একটি তঞ্চকি নাম পত্তন (৭১০৪/২০২৫-২০২৬) করে। পরবর্তীতে উক্ত তঞ্চকি নাম পত্তন ব্যবহার করে এনজিও সাস’র পক্ষে পরিচালক শেখ ইমান আলী গত ২২/০১/২০২৬ ইং তারিখে তালার ইসলামকাটি সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের ৩৬০নং কোবলামূলে প্রতারনামূলক ভাবে তৈরি করা ভূয়া ওয়ারেশদের কাছ থেকে একটি তঞ্চকি দলিল রেজিষ্ট্রি করে নেন। এর পরবর্তীতে সাস পরিচালক কর্তৃক প্রতারণার মাধ্যমে জমি রেজিষ্ট্রির ঘটনাটি জানাজানি হবার পর জমির পূর্ব মালিকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার প্রতিকার পেতে সাস পরিচালক ইমান আলীর বিরুদ্ধে তালা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। এছাড়া জাল ওয়ারেশ কায়েমের মাধ্যমে সৃষ্ট নামপত্তন বাতিল করার জন্য উত্তরণের পক্ষে তালা উপজেলা ভূমি অফিসে ১৫০ ধারায় অপর একটি মামলা দায়ের করা হয়, যা’ বিচারাধিন রয়েছে।
এ ব্যাপারে তালা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক জানান, জাল ওয়ারেশ কায়েম সংক্রান্ত এক অভিযোগ পাওয়ার পর ইউনিয়ন রেজিষ্টার পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, ৫৮৩/২০২৫ নং স্মারকের ওয়ারেশ কায়েম সনদে আয়েজান বিবি, স্বামী মৃত আক্কাজ আলী মোল্যার যে ওয়ারেশ কায়েমটি সঠিক নয়। এবিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তদন্তপূর্বক একটি প্রত্যয়ন পত্র ইতোমধ্যে প্রদান করা হয়েছে। এদিকে সাস পরিচালক শেখ ইমান আলীর জাল-জালিয়াতির ঘটনার তদন্তপূর্বক যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ভুক্তভোগী মুক্তার খান প্রশাসনের নিকট আবেদন করেছেন।



