সম্পাদকীয়

মোকাবিলায় দরকার সামাজিক সংহতি

বাড়ছে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা

বাংলাদেশে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং মারা যাচ্ছেন ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি। চিকিৎসা বিজ্ঞানে অগ্রগতি প্রশংসনীয় হলেও এই রোগ জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির জন্য এক বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবচেয়ে বড় ঘাটতি হলো প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ, পর্যাপ্ত জনবল ও আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামো। দেশে রেডিওথেরাপি মেশিনের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অতি অপ্রতুল, দক্ষ চিকিৎসক ও নার্সের ঘাটতি রয়েছে, আর ওষুধের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, দেশব্যাপী স্ক্রিনিং সেন্টার স্থাপন, ওষুধের ভ্যাট ও শুল্ক কমানো এবং বেসরকারি উদ্যোগকে উৎসাহিত করা এখন সময়ের দাবি। ক্যানসার চিকিৎসায় মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিম অ্যাপ্রোচ বা টিউমার বোর্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সার্জারি, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির সমন্বয় ছাড়া সঠিক ফলাফল পাওয়া কঠিন। একইসঙ্গে দক্ষ জনবল তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ এবং গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। ওষুধ কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশের একটি অংশ গবেষণায় ব্যবহার করলে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আসবে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আর্থিক সুরক্ষা। ব্যয়বহুল চিকিৎসার কারণে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রের উচিত ক্যানসার রোগীদের জন্য বিশেষ ইন্স্যুরেন্স বা ‘ক্যানসার ফান্ড’ গঠন করা। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তা বৃদ্ধি এবং ওষুধের মূল্য সাধারণের নাগালে রাখা গেলে বহু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হবে। ক্যানসারকে হারানো সম্ভব, যদি আমরা সময়মতো সচেতন হই এবং সম্মিলিতভাবে লড়াই করি। নীতিনির্ধারক, চিকিৎসক, সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং ওষুধ শিল্প- সবার সমন্বিত প্রচেষ্টাই পারে বাংলাদেশকে ক্যানসারের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে। আজ যারা ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছেন এবং যারা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাদের সাহসের প্রতি সম্মান জানিয়েই আমাদের এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button