বাগেরহাটের ৪ টি আসনেই বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সুযোগ কাজে লাগাতে চায় জামায়াতে ইসলাম

# ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ #
আজাদুল হক, বাগেরহাট প্রতিনিধি ঃ
চলমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটের ৪ টি নির্বাচনী আসনেই বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত নেতারা বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এ কারনে স্বস্তিতে নির্বাচন করতে পারছেন না বিএনপি দলীয় প্রার্থীরা। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে জেলার ৪টি সংসদীয় আসনেই জামায়াতের প্রার্থীরা বিজয় নিশ্চিত করতে চায়। বিদ্রোহী এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক এমপি বিশিষ্ট শিল্পপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা এম এ এইচ সেলিম একাই ৩টি সংসদীয় আসনে ঘোড়া প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্ব›িদ্ধতা করছেন। জেলা নির্বাচন অফিস সুত্রমতে বাগেরহাট জেলার ৪টি সংসদীয় আসনে এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রচারণায় নেমে পড়েছেন মোট ২৩ জন প্রার্থী। এর মধ্যে এম এ এইচ সেলিম প্রার্থী হয়েছেন বাগেরহাট-১ (ফকিরহাট. মোল্লাহাট ও চিতলমারী), বাগেরহাট-২ (জেলা সদর ও কচুয়া) এবং বাগেরহাট- ৩ (রামপাল ও মোংলা) আসনে। অপর দু’জন স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থীরা হচ্ছেন, বাগেরহাট-১ (ফকিরহাট. মোল্লাহাট ও চিতলমারী) আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সহ- সভাপতি ও জেলা আহবায়ক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী শেখ মাসুদ রানা ও বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা) আসনে বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি বর্তমান আহবায়ক কমিটির সদস্য কাজী খাইরুজ্জামান শিপন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আহবান উপেক্ষা করে বাগেরহাটের সব আসনেই স্বতন্ত্র হিসেবে বিদ্রোহী প্রার্থীরা ভোটের মাঠে থাকায় দলীয়সহ সাধারন ভোটারদের মধ্যে চলছে এখনও আলোচনা-সমালোচনা। দলীয় প্রার্থীসহ বিএনপির নেতা-কর্মীরা রয়েছেন চরম অস্থিরতার মধ্যে। ভোটের লড়াইয়ে এবার আওয়ামী লীগ না থাকায় এবারই প্রথম জেলার সবকটি আসনে বিএনপি প্রার্থীদের বিজয়ী হবার উজ্জল সম্ভাবনা থাকলেও দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারনে তা কঠিন চ্যলেঞ্জের মুখে পড়েছে। বাগেরহাট-১ (ফকিরহাট. মোল্লাহাট ও চিতলমারী) আসনে বিএনপির নতুন মুখ, বিশ^ হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব ও বাংলাদেশ অশ্বিনী সেবা আশ্রমের সভাপতি কপিল কৃষ্ণ মন্ডল ধানের শীষের প্রার্থী। আকস্মিকভাবে কপিল কৃষ্ণ মন্ডল কে ধানের শীষ দেয়ায় এখন দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী বাগেরহাট সদর আসনের সাবেক এমপি এম এ এইচ সেলিম এবং জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি প্রকৌশলী মো. শেখ মাসুদ রানা নির্বাচন করছেন। আর এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মো. মশিউর রহমান খান। এছাড়াও এ আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী আবু সবুর শেখ, এবি পার্টির মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি (জেপি)র এস এম গোলাম সারোয়ার এবং মুসলিম লীগের এমডি শামসুল হক নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ৮৩৮ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭২০ জন। নির্বাচন সচেতন ব্যাক্তিরা বলছেন, প্রতিটি আসনেই বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। আর এবার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোটেই মুলত এমপি নির্বাচিত হবেন বলে সচেতন মহল ধারনা করছেন। এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, “দল আমার ওপর আস্থা রেখেছে। তৃণমূল থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের নেতাকর্মী আমার সঙ্গে আছে। আমরা এই আসন তারেক রহমানকে উপহার দিতে পারব।
বাগেরহাট-২ (বাগেরহাট সদর ও কচুয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির জেলা আহবায়ক কমিটির সদস্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিষ্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। এই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক এমপি এম এ এইচ সেলিমের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। বিএনপির দূর্গে দলের সাবেক এমপি সেলিমের পাশাপাশি জামায়াত প্রার্থী শেখ মনজুরুল হক রাহাতের সাথে প্রতিদ্ব›িদ্ধতা করতে হচ্ছে ধানের শীষের প্রার্থীকে। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৮৮৯ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৭৯ জন আর নারী ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫০৫ জন।
বাগেরহাট- ৩ (রামপাল ও মোংলা) আসনে ধানের র্শীষের প্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও সুন্দরবন সুরক্ষা আন্দোলনে দেশব্যাপী পরিচিত মুখ ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। বিএনপির সাবেক এমপি এম এ এইচ সেলিম বাগেরহাট-১ ও বাগেরহাট-২ আসনের পাশাপাশি একই সাথে বাগেরহাট- ৩ আসনেও স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। অতীতের সব সংসদ নির্বাচনে এই আসনটির বাসিন্ধা না হওয়া প্রার্থীরা জয়লাভ তো দূরের কথা কখনো দ্বিতীয় স্থানেও যেতে পারেনি। তবে, এই আসনে এবার বহিরাগত বিদ্রোহী প্রার্থী বিএনপির ভোট ব্যাংক থেকে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ভোট নিতে পরলে জামায়ত প্রার্থী এ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ শেখের সাথে চ্যলেঞ্জের মুখে পড়বে বিএনপির প্রার্থী। এ আসনে এবার মোটার ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬৫ হাজার ৩২০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৩৪ হাজার ১৬৯ জন এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩১ হাজার ১৪৭ জন।
বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা) আসনে বিএনপির নতুন মুখ বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সাবেক সভাপতি ও মোরেলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য সোমনাথ দে এবার ধানের শীষের প্রার্থী। এই আসনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও জেলা আহবায়ক কমিটির সদস্য কাজী খাইরুজ্জামান শিপন। বিএনপি প্রার্থীকে এখন দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর পাশাপাশি জামায়ত প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. আব্দুল অলীমের সাথে কঠিন চ্যলেঞ্জের মুখে পড়বে হয়েছে। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৮ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৮৮ হাজার ১৬৩ জন এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৯৩২ জন। বাগেরহাটের সব আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকার বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোজাফ্ফর রহমান আলম জানান, মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আহবান উপেক্ষা করে জেলার সব আসনেই বিদ্রোহী প্রার্থীরা ভোটের মাঠে থাকার বিষয়টি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের অবহিত করা হয়েছে। এ জেলায় বিএনপির প্রার্থীদের হারাতে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দলের বিদ্রোহীরা মনোনয় পত্র প্রত্যাহার করেনি। ইতোমধ্যেই জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সব ইউনিটের নেতাকর্মীকে দলীয় প্রার্থীর সাথে সমন্বয় করে বাড়ী বাড়ী গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে বলা হয়েছে। প্রায় সব নেতাকর্মী এরই মধ্যে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রতিদিনই মনিটরিং করা হচ্ছে। বড় বা ছোট যে কোন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্র্থীর পক্ষে কাজ করার প্রমাণ পেলেই তাকে বহিস্কার করতে কোন বিলম্ব হবেনা। নির্বাচনে ভোটারদের নিরাপত্তাসহ লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত হলে বাগেরহাট ১,২ ও ৩ আসনে হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি’র সাবেক জনপ্রিয় এমপি এমএএইচ সেলিম নির্বাচিত হবেন বলে সাধারন ভোটারদের মন্তব্য।



