স্থানীয় সংবাদ

কেকেবিএইউ’র ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা উদ্ভাবন করলো মানবদেহে ব্যবহারযোগ্য কৃত্রিম হাত

খবর বিজ্ঞপ্তি : দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে হাত হারানো বা জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে সহজতর করতে খুলনা খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থীরা সম্প্রতি উদ্ভাবন করলেন স্মার্ট প্রস্থেটিক হ্যান্ড বা কৃত্রিম হাত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের একটি দল সফলভাবে তাদের গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও প্রযুক্তির সংমিশ্রণে মানবকল্যাণে ব্যবহৃত এই কৃত্রিম হাত উদ্ভাবনে সক্ষম হয়েছে, উদ্ভাবিত এ কৃত্রিম হাতটি মানুষের হাতের মতো নড়া চড়া, রক-পেপার-সিজারস গেম খেলা, কোনো বস্তুকে আঁকড়ে ধরা ও সরানো ও চিমটি কাটাসহ হাত মুঠ করতে পারে। আধুনিক সেন্সর, মোটর এবং কন্ট্রোল সিস্টেম ব্যবহারের মাধ্যমে এই কৃত্রিম হাতটিকে আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান, কৃত্রিম হাত অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় উন্নত দেশগুলোর মতো এদেশের হাত হারানো সাধারণ মানুষ তা ক্রয় করে ব্যবহার করতে পারে না। ফলে হাতবিহীন অবস্থায় জীবনের বাকী দিনগুলো অসহায়ভাবে কাটাকে হয়। তাদের কথা চিন্তা করে কম খরচে কার্যকর এ কৃত্রিম হাতটি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। ব্যবহারকারী তার পেশীর সিগনালের মাধ্যমে হাতটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই কৃত্রিম হাতটি ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা সম্ভব বলে মনে করছেন উদ্ভাবকসহ সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্প দলের সদস্যরা ছিলেন স্বপ্নীল দাস, এম শাহারিয়ার আলম, পাথন চৌধুরী এবং আবু হুরায়রা তাজ। তারা জানান, ভবিষ্যতে এই কৃত্রিম হাতটি ইএমজি সেন্সর মাসল সিগনাল যুক্ত করে এটি আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং অচিরেই পূর্ণ রোবট তৈরি করতে সক্ষম হবো। উদ্ভাবনী দলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ডেজিগনেট) প্রফেসর ড. মোঃ আনিসুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের তৈরিকৃত কৃত্রিম হাত দেখান। তিনি প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের এ সৃজনশীল কাজের জন্য বিশ^বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান এবং প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়াসহ প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন নতুন গেজেট উদ্ভাবনে উৎসাহ প্রদান করেন এবং বিশ^বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ^াস দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা শিক্ষার্থীদের এ উদ্ভাবনকে রোবোটিক্স, চিকিৎসা প্রযুক্তি ও মানকল্যাণে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button