জাতীয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে রেকর্ডসংখ্যক প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনেই জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা বড় ব্যবধানে জয় লাভ করেছেন। শুধু তাই নয়, এবারই প্রথম রেকর্ডসংখ্যক ১৬ প্রার্থীর ১০ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভোটের মাঠে না থাকায় নির্বাচনে মূলত জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। নির্বাচনের মাঠে ঘুরে দেখা গেছে, ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, জাতীয় পার্টিসহ জামানত হারানো প্রার্থীরা পর্যাপ্ত পোলিং এজেন্ট দিতে পারেননি। এদিকে বার বার দল পাল্টানো দুই প্রার্থীও অন্যান্য বারের মতো এ বছরও জামানত হারিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে তিনটি সংসদীয় আসনে অংশ নেওয়া ১৬ জন প্রার্থীর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে ৬ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (গোমস্তাপুর-নাচোল-ভোলাহাট) এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে পাঁচজন করে নির্বাচনে অংশ নেন। এর মধ্যে ওই তিন আসনের জামায়াত ও বিএনপির ছয়জন ছাড়া বাকিরা জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী মোট প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ ভোট পেলে সেই প্রার্থীর জামানত রক্ষা হবে। কিন্তু ১০ প্রার্থীর কেউই মোট ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ ভোট পাননি। ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে পোস্টাল ভোটসহ ১৬০টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ভোটে জামায়াতে ইসলামীর ড. কেরামত আলী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৬ হাজার ৮৯৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা পেয়েছেন ১ লাখ ৬২ হাজার ৫১৫ ভোট। ভোটের ব্যবধান প্রায় ৪৪ হাজার ৩৭৮ ভোট। এ আসনে জাতীয় পার্টির আফজাল হোসেন ২ হাজার ২৬৩ ভোট, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের আব্দুল হালিম ৫৫৭ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনিরুল ইসলাম ১ হাজার ৮৩ ভোট ও ইসলামী ফ্রন্টের নবাব শামসুল হোদা ৪৪৬ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। এ আসনে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী আব্দুল হালিম ৫৫৭ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। এর আগে দুই দফা দল পরিবর্তন করেও একইভাবে জামানত হারান তিনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমাস্তাপুর-ভোলাহাট) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. মিজানুর রহমান বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ১৮৫টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ২২৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আমিনুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ১১৯ ভোট। ভোটের ব্যবধান প্রায় ১৬ হাজার ১০৮। এ আসনে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাদেকুল ইসলাম ৬২৬ ভোট, জাতীয় পার্টির মু. খুরশিদ আলম ৮ হাজার ১৭৫ ভোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইব্রাহিম খলিল ১ হাজার ৬৯ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। এ আসনের এক সময়ের বিএনপি নেতা মু. খুরশিদ আলম ক্ষোভে দল পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগ, পরে স্বতন্ত্র ও গণঅভ্যুত্থানের পর এনসিপির হয়ে মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হয়ে জাতীয় পার্টির হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। কিন্তু ভোটে জামানত হারিয়েছেন। আগেও একবার জামানত হারিয়েছিলেন তিনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে ১৭৩টি কেন্দ্র ছিল। সবকটি কেন্দ্র মিলিয়ে নুরুল ইসলাম বুলবুল পেয়েছেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬৪০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদ পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৭ ভোট। ভোটের ব্যবধান প্রায় ৫৯ হাজার ১৪৮ ভোট। এ আসনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির ফজলুর ইসলাম খাঁন সুমন ৬৩৭ ভোট, ইসলামী আন্দোলনে মনিরুল ইসলাম ৮২০ ভোট ও গণঅধিকার পরিষদের শফিকুল ইসলাম ৩৬১ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। এছাড়াও জেলা নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, এ জেলায় গণভোট ‘হ্যাঁ’ ভোট বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button