সম্পাদকীয়

সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ

শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে- এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ এমন একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করছিল। এবার সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলও নির্বাচনের পরিবেশ ও প্রক্রিয়া নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছে, যা আমাদের গণতন্ত্রের জন্য বিশেষ প্রাপ্তি। নির্বাচন কমিশন দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে, আর ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সব সংশয় দূর করেছে। তবে নির্বাচন শেষ হওয়া মানেই কাজ শেষ নয়। বরং এখান থেকেই শুরু হলো নতুন অধ্যায়। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করা ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ, কিন্তু এখন সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জগুলো অপেক্ষা করছে। দেশের অর্থনীতি বর্তমানে গভীর সংকটে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি লাগামহীন, বিনিয়োগ স্থবির, শিল্প-কারখানা উৎপাদন ব্যাহত এবং বেকারত্ব বেড়ে চলেছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট উৎপাদনশীলতাকে অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। নতুন সরকারের সামনে তাই প্রথম দায়িত্ব হবে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজন কাঠামোগত সংস্কার। ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, জ্বালানি সংকট সমাধান, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে শিল্প ও কৃষি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে সরকারকে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হলেও দলীয় বিভাজন ও সংঘাতের সংস্কৃতি এখনও বিদ্যমান। গণতন্ত্রকে টেকসই করতে হলে সহযোগিতা ও সংলাপকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সংসদকে হতে হবে কার্যকর নীতি প্রণয়নের কেন্দ্র। বিরোধী দলকে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে, আর সরকারকে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। গণতন্ত্র কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন নয়; এটি সংলাপ, সমঝোতা ও অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া। সামাজিক স্থিতিশীলতাও জরুরি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে শক্তিশালী করতে হবে। তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়াতে হবে। নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে দুর্নীতি দমন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও এখন অপরিহার্য। বিশ্ব সম্প্রদায় ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে, এখন তাদের সহযোগিতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে নতুন করে এগিয়ে নিতে হবে। বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, নির্বাচন কেবল ভোটের উৎসব নয়; এটি ভবিষ্যৎ নির্মাণের সূচনা। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের চ্যালেঞ্জ আমরা মোকাবিলা করেছি। এখন সময় এসেছে অর্থনীতি, রাজনীতি ও সমাজের নতুন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার। গণতন্ত্রের এই অর্জনকে টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হোক। বাংলাদেশ বারবার প্রমাণ করেছে, সংকট মোকাবিলায় তার সক্ষমতা আছে। এবারও যদি আমরা সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারি, তবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট কাটিয়ে একটি টেকসই ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button