স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অপ-তৎপরতা

রুখে দিল ছাত্র-জনতা : ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ
জড়িতদের গ্রেফতার করে শাস্তির দাবি বিএনপির

স্টাফ রিপোর্টার : নিষিদ্ধ ঘোষিত খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা রূখে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। রোববার রাতে ছাত্র-জনতা দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে শেখ মুজিবুর রহমান এবং শেখ হাসিনার ছবিতে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করে। জুলাই যোদ্ধা রাফসান জানির নেতৃত্বে এ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ও ভাংচুর করা হয়।
এর আগে আজ বিকেলে নগরীর যশোর লোহার রোডের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নীচতলার কলাপসিবল গেটের তালা খুলে দুইতলায় গিয়ে কয়েকজন নেতা-কর্মী শেখ মুজিবুর রহমান এবং শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণ ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে ভিডিও ধারণও করে। যা মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আশপাশের ব্যবসায়ীরা জানান, বিকালে হঠাৎ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ৭/৮ জন নেতাকর্মী নগরীর শহিদ হাদিস পার্ক সংলগ্ন (শঙ্ক মার্কেট) মহানগর ও জেলা কার্যালয়ে যান। এ সময় তারা নিচের মেইনগেটের তালা খুলে দোতলায় যান। সেখানে তারা শেখ মুজিবুর রহমান এবং শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।
এ প্রসঙ্গে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবীর হোসেন বলেন, কে বা কারা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে প্রবেশ করে শেখ মুজিবুর রহমান এবং শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে ফুল দেয়। ঘটনাটি আমরা জেনেছি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ফুটেজ দেখে গ্রেফতার এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যদিও ছাত্র-জনতা ও রেড জুলাই’র যোদ্ধারা বিষয়টি প্রতিহত করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে, নিষিদ্ধ রাজনীতির তৎপরতায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে খুলনা মহানগর বিএনপি। রোববার রাতে দলের খুলনা মিডিয়া সেলের এক বিজ্ঞপ্তিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিনের মাথায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ-এর খুলনা জেলা ও মহানগর কার্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি টানানো ও মাল্যদানের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানানো হয়।
মহানগর বিএনপি মিডিয়া সেলের আহবায়ক মিজানুর রহমান মিলটন কর্তৃক গণমাধ্যমে প্রেরিত বিবৃতিতে বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এ ধরনের কর্মকা- উসকানিমূলক ও সুপরিকল্পিত চক্রান্তের ইঙ্গিত দেয়। এটি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল এবং নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিবৃতিতে জড়িতদের অবিলম্বে শনাক্ত ও গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। অন্যথায় নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিদাতারা হলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ ও ৫ আগস্ট খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি জ¦ালিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button