সম্পাদকীয়

বেসরকারি খাতের সংকট নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, বৈশ্বিক বাজারের চাপ এবং অভ্যন্তরীণ নীতিগত দুর্বলতার কারণে শিল্প-বাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। উদ্যোক্তাদের ভাষায়, উৎপাদন কমছে, বিনিয়োগ থমকে গেছে, আর কর্মসংস্থান সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে।গত কয়েক প্রান্তিকে নতুন বিনিয়োগের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। অনেক কারখানা তাদের পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকও কাজে লাগাতে পারছে না। তৈরি পোশাক খাত, যা দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস, সেখানে অর্ডার কমে যাওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি সংকট ও উচ্চ সুদহার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবাসন, ইস্পাত, সিমেন্ট ও চামড়া শিল্পেও একই চিত্র- অভ্যন্তরীণ ক্ষত গভীর হচ্ছে।উদ্যোক্তারা মনে করছেন, নতুন সরকারকে প্রথমেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। বিনিয়োগকারীরা স্পষ্ট অর্থনৈতিক রোডম্যাপ চান- যেখানে করনীতি, সুদহার, বিনিময় হার ও আমদানিনীতিতে ধারাবাহিকতা থাকবে। নীতির ঘন ঘন পরিবর্তন ব্যবসায়ীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।অবকাঠামো উন্নয়নও এখন জরুরি। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, আধুনিক সড়ক ও বন্দর ব্যবস্থা, এবং ডিজিটাল অবকাঠামো ছাড়া শিল্পোন্নয়ন সম্ভব নয়। একইসঙ্গে প্রশাসনিক পর্যায়ে হয়রানি বন্ধ করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে। উদ্যোক্তারা বারবার বলেছেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও নিরাপত্তাহীনতা ব্যবসার গতি থামিয়ে দিচ্ছে।শ্রম আইন আধুনিকায়ন এবং শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করাও অপরিহার্য। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে শিল্পে স্থিতিশীলতা আসবে না। আর নিরাপত্তাহীনতা থাকলে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন না।নতুন সরকার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য সাহসী পদক্ষেপ অপরিহার্য। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এসেছে নির্বাচনের মাধ্যমে, এখন সেই স্থিতিশীলতাকে কাজে লাগিয়ে অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে হবে। বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করা মানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং জাতীয় অর্থনীতিকে টেকসই পথে এগিয়ে নেওয়া।আমাদের প্রত্যাশা- নতুন সরকার একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রোডম্যাপ তৈরি করবে, যেখানে বেসরকারি খাতকে আস্থায় নিয়ে এগিয়ে যাওয়া হবে। কারণ উন্নয়নের আসল গতি নিহিত আছে উদ্যোক্তাদের হাতে। তাদের সংকট নিরসনই হবে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রথম পদক্ষেপ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button