স্থানীয় সংবাদ

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নানা অনিয়ম এখন নিয়মে পরিণত

মোঃ মোকাদ্দেছুর রহমান রকি যশোর থেকে
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের মধ্যে মাদকসহ বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী বিক্রি এখন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। একবার কারাগারের ভিতরে গিয়ে এর রহস্য চোখে পড়বে বলে জানিয়েছেন মুক্তি পাওয়া বিভিন্ন হাজতী আসামীরা। আর এসব কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রন করছেন খোদ জেলার। তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগীতায় এই কারবার ভিতরে এখন ওপেন সিক্রেট। তাছাড়া, কারারক্ষিদের মাধ্যমে বিভিন্ন কৌশল নিয়ে নানা অনিয়ম এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া এক হাজতী আসামী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন,বর্তমানে বাইরের চেয়ে কারাগারের ভিতরে মাদকদ্রব্য বেচাকেনা ওপেন সিক্রেট। যেখানে সাধারণ মানুষের আড়ালে কারাগারের ভিতর সেখানে এখন মাদকদ্রব্য ছড়াছড়ি। আর এই বেচাকেনার কাজে সহযোগীতায় রয়েছেন কারাগারে দায়িত্বরত ভিতরের সুবেদার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। তিনি খোদ কারাগারের একজন কর্মকর্তার পরোক্ষ সহযোগীতায় বন্দি কয়েদীদের এই কাজে সহযোগীতায় নেমেছেন।
সূত্রগুলো জানিয়েছেন,কারাগারে কয়েদী আসামীদের বিভিন্ন চালি রয়েছে। যেই চালিতে দন্ড প্রাপ্ত বন্দিরা কাজ কর্ম করে দিন অতিবাহিত করেন। তেমনই তাঁত চালিতে রয়েছেন কয়েদী নাহিদ ও রিন্টু। এই দু’জন র্দীঘ কয়েক বছর কয়েদী হিসেবে এই চালিতে থাকার সুযোগে তারা কারাগারের ভিতরে কয়েদী ও হাজতি আসামীদের কাছে চড়া মূল্যে গাঁজা বিক্রি করেন। গাঁজা বিক্রির পাশাপাশি এরা দু’জন গ্যাস লাইট,গ্যাস লাইটের পাথর,তাদের হাতে তৈরীকৃত টুপি চড়া মূল্যে পিসির মাধ্যমে বেচাকেনা করে থাকে। তাঁত চালিতে গাঁজাসহ বিভিন্ন পন্য সামগ্রী বিক্রির পাশাপাশি এরা বিভিন্ন খাবার তৈরী করে বন্দিদের মাধ্যমে চড়া মূল্যে বিক্রি করে থাকে। ভিতরে বন্দিদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা সুবেদার হাবিবুর রহমান শীতল এসব জেনেও অজ্ঞাত কারনে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেন না। মাস দুয়েক পূর্বে নাহিদ ও রিন্টুকে গাঁজা বেচাকেনার সময় তৎকালীন সুবেদার আলমগীর ধরে ফেললেও তাদের বেচাকেনা বন্ধ হয়নি। বরং তাদের অবৈধ কারবার আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।
কারাগারের সূত্রগুলো আরো জানিয়েছেন, জেলার আবিদ আহমেদ এর মদদে কারারক্ষি আব্দুর রাজ্জাক ও বাপ্পি কারারক্ষিদের বিভিন্ন ডিউটিতে বন্টনের কাজে লাইস দায়িত্ব পালন করেন। রক্ষিরা কারাগারের বিভিন্ন সুবিধাস্থানে ডিউটির জন্য লাইস ম্যানে থাকা রক্ষি রাজ্জাক ও বাপ্পি সাথে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করে তাদের সুবিধাস্থানে ডিউটি পালন করে থাকেন। বাপ্পি লাইস দায়িত্ব পাশাপাশি গেট অর্ডারের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া,কারা রক্ষিদের জন্য কারারের অভ্যন্তরে অবস্থিত পিসিআরের বাড়ি বন্টনের দায়িত্ব পালন করছেন কারারক্ষি আলামিন। তিনি কারারক্ষিদের কাছ থেকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে পিসিআরের বাড়ি বরাদ্ধ দেন। যে রক্ষি টাকা দেন না তাকে জানান পিসিআরের বাড়ি খালি নেই। কারারক্ষি আলামিন রক্ষিদের জন্য নির্মাণকৃত পিসিআরের বাড়ি বরাদ্দের ক্ষেত্রে এসব কর্মকান্ড করেন জেলার আবিদ আহমেদ এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগীতায়। সূত্রগুলো আরো জানিয়েছেন, কারারক্ষি নুরুজ্জামান কারারক্ষিদের বরাদ্ধকৃত ছুটি বন্টনের দায়িত্ব পালনের সুযোগে অবৈধভাবে উৎকোচ আদায় করেন। নিয়ম মোতাবেক মাস কয়েক পূর্বে এই কারাগারে যোগদান করার পর জেলার আবিদ আহমেদ এর নজরে এসে সংস্থাপনের দায়িত্ব গ্রহন করেন। যে সব রক্ষিরা কারারক্ষি নুরুজ্জামানকে খুশি করেন তাদেরকে ছুটি পেতে কোন বেগ পেতে হয়না। আর যারা রক্ষি নুরুজ্জামানের চাহিদা মেটাতে অনিহা প্রকাশ করেন তাদের বছরে সরকারি বরাদ্ধকৃত ছুটি পেতে নানা সমস্যায় পড়তে হয়।

 

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button