জাতীয় সংবাদ

সরকারি দলের সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়া জুলাইকে অবজ্ঞার শামিল : ডা. শফিকুর রহমান

প্রবাহ রিপোর্ট : ভিন্ন চিন্তা সত্ত্বেও জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা এবং গণভোটের রায়ের প্রতি সম্মান দেখানো রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের পবিত্র দায়িত্ব মনে করেই ঐকমত্যের ভিত্তিতে ১১ দলীয় জোটের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি সরকারি দল শপথ না নিয়ে জুলাইকে উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করেছে। এতে জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে তাদের অবস্থান বলে আমরা মনে করি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দুটি শপথ গ্রহণ ও দলীয় সংসদীয় বৈঠক শেষে বের হওয়ার পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের সংসদ সচিবালয় থেকে যে পত্র বা চিঠি দাওয়াতনামা দেওয়া হয়েছিল, সেখানে দুটি শপথের কথা উল্লেখ ছিল। বলা হয়েছিল সংসদ সদস্য হিসেবে আমরা প্রথমে শপথ নেব। একটা সাদা ফর্ম আমাদের বিলি করা হবে। প্রয়োজনীয় লেখা শেষ করে আমরা সেটা জমা দেব।
আরেকটা শপথ হবে জুলাই চার্টার এবং গণভোটের যে প্রজ্ঞাপন হয়েছিল তার ভিত্তিতে। সেই শপথটা গণভোটের শপথ, সংস্কারের শপথ। এখানে সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে আমরা আরেকটা শপথ নিতে হলে প্রবেশ করার পর সংসদ সচিব আমাদের জিজ্ঞেস করলেন যে, ‘স্যার সকালবেলা সরকারি দল শপথ নিয়েছেন। তারা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আপনারা কী করবেন?’ আমরা তখন বললাম যে, আমরা দুটিরই শপথ নিতে এখানে এসেছি। আমাদের তো গভীর রাতে আপনারা দাওয়াতনামা পাঠিয়েছেন। তারপরে আমাদের কোনো কনসার্ন থাকলে আগেই আমরা জানাতাম।
আমরা কেন দুইটা শপথ নিলাম? প্রশ্ন তুলে জামায়াত আমির বলেন, জামায়াত কেন দুটো আর ওনারা কেন একটা শপথ নিলেন? ওনারা কেন নিলেন তার ব্যাখ্যা ওনারা দিয়েছেন। আমরা যে ব্যাখ্যাটা দিতে চাই— আমরা মনে করি যে ২৬-এ কোনো নির্বাচন হওয়ার কথাই ছিল না। এই ২৬ সালের নির্বাচনটা হয়েছে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের কারণে। আমরা গভীর শ্রদ্ধার সাথে যাদের কারণে আজকের এই নির্বাচন, আজকের এই সংসদ, আমি তাদেরকে স্মরণ করছি যারা জীবন দিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন; আল্লাহ তাদেরকে শহীদ হিসেবে কবুল করুন। যারা লড়াই করে আহত হয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন তাদের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা; আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সুস্থতার নিয়ামত দান করুন। আর নির্বিশেষে গোটা দেশবাসী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সেদিন লড়াই করেছিল, আমরা তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা আজ হয়তো শপথ নিতে ভিন্ন চিন্তা করতে পারতাম। কারণ জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের রায় এই দুইটার প্রতি সম্মান দেখানো রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের পবিত্র দায়িত্ব, আমরা গণ্য করেছি। আমরা গণভোটের রায়কে সম্মান করেছি, জুলাই আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করেছি, যারা আমাদের ভোট দিয়েছেন তাদেরকে সম্মান করেছি।
তিনি বলেন, আমরা একমত হয়েছি যে এই শপথ নেওয়া আমাদের কর্তব্য। তবে আমরা মনে করি সরকারি দল শপথ না নিয়ে তারা জুলাইকে উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করেছে। এতে জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে তাদের অবস্থান বলে আমরা মনে করি।
জামায়াত আমির বলেন, সংস্কারের বিপরীতে তাদের এই অবস্থান স্পষ্ট। যদিও তারা ব্যাখ্যায় বলেছেন যে সংসদ বসে তারপরে প্রভিশন ক্রিয়েট করে, এটা তারা দেখবেন। আমরা এটা দ্রুত দেখতে চাই। যদি তারা জুলাইকে সম্মান করেন, যদি সংস্কারকে তারা ধারণ করেন, যদি আজকে যিনি প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেবেন (ইতোমধ্যে নিয়েছেন) তিনি নিজেও নির্বাচনে ক্যাম্পেইনে গিয়ে বলেছেন যে আপনারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলুন– যদি এর প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল হন, আমরা মনে করি তারা ওই শপথটাও নেবেন।
কার কাছে শপথ নেবেন সে দাবি আমরা করব না। ওনাদের পছন্দমতো অ্যাপ্রোপ্রিয়েট অথরিটির কাছে ওনারা নিতে পারেন। আমাদের কোনো অসুবিধা নাই। কিন্তু আমরা দেখতে চাই জুলাই সম্মানিত হয়েছে এবং জুলাই স্বীকৃত হয়েছে। জুলাইকে অসম্মান ও অশ্রদ্ধা করে স্বীকৃতি না দিয়ে ২৬-এর এই পার্লামেন্ট নিশ্চয়ই কোনো গৌরবের আসনে বসতে পারবে না।
ডা. শফিকুর রহামন বলেন, আমরা আশা করেছিলাম তারাও শপথ নেবেন দুইটা, আমরাও নেব দুইটা সকালবেলা। তারপরে তারা আমাদের অথরিটির পক্ষ থেকে দাওয়াত করেছিলেন বিকেলের অধিবেশনে, যেখানে মন্ত্রিপরিষদের শপথ হবে সেখানে অংশগ্রহণ করার জন্য। আমরা প্রত্যেকে তিনটা করে কার্ডও পেয়েছিলাম। মানসিক প্রস্তুতি আমাদের ছিল।
তিনি বলেন, কিন্তু আমরা এসে ধাক্কা খেয়েছি। আমরা আমাদের জুলাই শহীদদের অশ্রদ্ধা করতে পারি না, জুলাই যোদ্ধাদেরকেও আমরা অশ্রদ্ধা করতে পারি না। যার কারণে আমাদের শত ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বিকেলের এই শপথ অনুষ্ঠানে আমরা যে অংশগ্রহণ করতে পারলাম না, আমাদের একটা আফসোসের জায়গা থেকে গেল।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button