আহলান সাহলান

রহমত, মাগফিরাত ও মুক্তির বার্তা নিয়ে আবার আমাদের দোয়ারে পবিত্র মাস রমজানুল মোবারক। বিশ্বের মুমিন বান্দারা রমজানকে স্বাগত জানিয়েছেন। মহান আল্লাহতায়ালাও তার অবারিত রহমতের দোয়ার খুলে দিয়েছেন। রমজানের আবহ শুরু হয়ে যায় মূলত আরবি রজব ও শাবান মাস থেকেই। আল্লাহর রাসুল (সা.) মানুষকে রমজানের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অভিশপ্ত শয়তান বন্দি থাকে এ মাসে, তেমনি বরকতের ফল্গুধারা বইতে থাকে। রমজান আরবি মাসের নবম মাস। এটিকে পবিত্র মাস হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। রমজান সব মানুষের জন্যই রহমতস্বরূপ। মানবিক উন্নতি ও সমৃদ্ধির অপার সম্ভাবনা থাকে এ মাসে। মানুষ চাইলে নিজেকে রাঙিয়ে নিতে পারে। অফুরন্ত রহমতের বারিধারায় নিজেকে ধুয়ে মুছে পবিত্র করে তুলতে পারে। ইবাদতের ফল্গুধারায় যেন আমরা হারিয়ে যেতে পারি- এ জন্যই আমলের তাৎপর্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে রমজান মাসের। মূলত বান্দার আল্লাহর দিকে ফেরা ছাড়া আর কোনো পথ নেই। মহান আল্লাহ বলেছেন, ফাফিররু ইলাল্লাহ। আল্লাহর দিকেই ফিরে এসো। পেছন থেকে কোনো বাঘ তাড়া করলে মানুষ যেমন নিজেকে বাঁচাতে চায়, তেমনি আল্লাহর দিকে ভেগে ভেগে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আল্লাহর দিকে ফেরার গুরুত্বপূর্ণ সময় এই রমজান মাস। একবার কেউ যদি আল্লাহর পরিচয় পেয়ে যায়, আল্লাহর ভালোবাসায় আত্মনিমগ্ন হয় তাকে আর কেউ ফেরাতে পারে না। আদতে মানুষের জীবনে রহমতের ছায়া, রহমতের কোমল পরশ একান্ত জরুরি। রহমত দিয়েই শুরু পবিত্র রমজান। রহমতের আবহাওয়ার শক্তিও অনেক বেশি। রহমতের বারিতে যেন ধুয়ে নেয় আমাদের গাঁ-গেরাম। শহর-বন্দর। রহমতবর্ষণের ঢলে হারিয়ে যায় সমগ্র বিশ্বের প্রতিটি মুমিন। কী অনাবিল সুখ এসে তাকে আপন করে নেয়। এই রকমের সুখ-তৃপ্তি আর কোথাও পায় না সে। পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম রহমতের ১০ দিন। বান্দাকে রহমতের বৃষ্টিতে স্নাত করতেই আল্লাহর এই আয়োজন। রহমতের বৃষ্টি জীবন আলোকময় করার জন্য বড় প্রয়োজন। জীবন রাঙাবার জন্য বড় প্রয়োজন। জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে অনাবিল সুখ ও সমৃদ্ধি এনে দিতে পারে রহমতের এই রূপালি আহবান।



