জাতীয় সংবাদ

যেভাবে ১৮০ দিবসের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে জুলাই জাতীয় সনদ

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ জুলাই জাতীয় সনদ কিভাবে বাস্তবায়ন হবে তা আদেশে বলা হয়েছে। এছাড়া ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ শপথ নেওয়ার পর প্রথম অধিবেশন থেকে ১৮০ কার্যদিনের মধ্যে এর কার্যক্রম সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। কিন্তু আদেশ অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদে বিএনপি শপথ না নেওয়ায় এর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে যে আদেশ জারি করা হয়েছে, তাতে এর ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে, ‘২০২৪ সালের জুলাই আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায়ের প্রকাশকে। ওই আদেশে আরও বলা হয়, সুশাসন, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায় বিচার এবং কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ করার উদ্দেশ্যে অন্তর্র্বতীকালীন সরকার ৬টি কমিশন গঠন করে। তাদের দেওয়া সুপারিশে জাতীয় ঐক্যমতের লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যমত কমিশন গঠন করা হয়। এরপর কমিশন গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল ও জোটের সহিত আলোচনা করে সংবিধান সংস্কারসহ অন্যান্য সুপারিশ সংবলিত জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ প্রণয়ন করে এবং রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহ সম্মিলিতভাবে উক্ত সনদে স্বাক্ষর ও তা বাস্তবায়নে অঙ্গীকার করে। এ সব প্রস্তাব বাস্তবায়নে জনগণের অনুমোদন প্রয়োজন এবং সে উদ্দেশ্যে গণভোট অনুষ্ঠান, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও সংবিধান সংস্কার করার অবশ্যকতা রয়েছে। এ আদেশ অনুসারে গণভোট সম্পন্ন হয়। এতে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়। আদেশের ৭ ধারায় বলা হয়েছে, হ্যাঁ জয়যুক্ত হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন হবে। এ পরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হতে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সনদ ও গণভোটের ফল অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে। এটি সম্পন্নের পর পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে। ৮, ৯, ১০ ধারায় শপথ, সভা প্রধান নির্বাচন ও কোরাম পরিচালনা নিয়ে বলা হয়েছে। ১১ ধারায় দায়মুক্তি ১২ ধারায় সংবিধানে অন্তভূক্তির বিধান রয়েছে। বিএনপি জুলাই সনদের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) দিয়ে রেখেছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সংসদের নিম্ন কক্ষের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের হার অনুযায়ী উচ্চকক্ষ গঠনে তারা দ্বিমত পোষণ করেছে। দলটি নিম্ন কক্ষে নির্বাচিত সদস্যের হার অনুযায়ী উচ্চ কক্ষ গঠনের কথা বলেছে। দলীয় প্রধান ও সরকারপ্রধান একই ব্যক্তি হতে পারবে না, এই প্রস্তাবে ভিন্নমত দিয়েছে বিএনপি। পাবলিক সার্ভিস কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে বিরোধী দলকে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়োগ কমিটি গঠনের বিরোধিতা করে দলটি। এসব কমিশনে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগের কথা বলেছে বিএনপি। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ছাড়া এ নির্বাচনে কি বৈধতা আছে? নির্বাচনে যে মেজরিটি পেলো, সংবিধানে কোথায় বলা আছে এখন যে নির্বাচন হবে? একটা মাত্র ভিত্তি সেটা হলো জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ। এটি মেনে নিয়েই তো নির্বাচনে অংশ নিলো। পাশ করেছে ফেল করেছে। এখন যদি বলে এটা মানি ওটা মানি না তাহলে নির্বাচনই তো প্রশ্নবিদ্ধ হবে। শপথ প্রশ্নবিদ্ধ হবে, সরকার গঠনও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তবে সুপ্রিম কোর্টের আরেক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সংসদের সার্বভৌম ক্ষমতা খর্ব করার কোনো সুযোগ নেই। সংসদের ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপের কোনো সুযোগ নেই। সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায় আছে, যেখানে বলা হয়েছে, ভবিষ্যৎ সংবিধান কী করবে, এ ধরনের কোনো বাধ্যবাধকতা আরোপের কোনো সুযোগ নেই। তাই যেই আদেশটা তারা জারি করেছে, এটার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। তবে রাজনৈতিক দলগুলো যে ঐকমত্য পোষণ করেছে, সেটার হয়তো একটা নৈতিক বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে বিএনপি যেহেতু সরকার গঠন করতে যাচ্ছে এবং প্রস্তাবনার কতিপয় বিষয়ে তাদের দ্বিমত রয়েছে। তাই তারা হয়তো তাদের মতো করে বাস্তবায়ন করবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button