জাতীয় সংবাদ

টিসিবির ট্রাকের পেছনে কেন এত মানুষের ভিড়?

প্রবাহ রিপোর্টঃ সারা দেশে কম দামে টিসিবির পণ্য নিতে মানুষের ভিড় দেখা গেছে। রোজা শুরু হওয়ার দিন অনেক জেলার বিভিন্ন স্থানে ট্রাকে করে তেল-চিনি-ডাল ও ছোলা-খেজুর বিক্রি করেছে টিসিবি। নিত্যপণ্যের চড়া বাজারের কারণে অল্প দামে খাদ্যপণ্য পেতে ট্রাকের পেছনে দেখা যায় শত শত মানুষের দীর্ঘ লাইন। আবার লাইনে দাঁড়িয়ে হাতাহাতি-ধাক্কাধাক্কি করতে দেখা গেছে। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে কেন হঠাৎ এত মানুষের ভিড়।এমন প্রশ্নের জবাবে টিসিবির পণ্য নিতে আসা ক্রেতারা বলছেন, এবার রোজার আগেই প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে। যেসব পণ্যের দাম এক-দুই মাস আগেও কম ছিল, তা বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। চড়া বাজারের এমন পরিস্থিতিতে অল্প দামে এসব খাদ্যপণ্য পেতে ট্রাকের পেছনে ভিড় করেছেন তারা।নওগাঁ শহরের আনন্দনগর এলাকার আছিয়া বেওয়া (৭০)। বয়সের ভারে ন্যুব্জ আছিয়া ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না। টিসিবির ট্রাক থেকে কম দামে সয়াবিন তেল, মসুর ডাল, চিনি, ছোলা ও খেজুর কিনতে লাঠিতে ভর দিয়ে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু ট্রাকের পেছনে তখন অন্তত চার শতাধিক মানুষ। ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কিতে কয়েকবার সারি থেকে ছিটকে পড়েন। শেষ পর্যন্ত তার জায়গা হয় সারির পেছনে।বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে অন্যদের সঙ্গে আনন্দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অপেক্ষা করছিলেন আছিয়া বেওয়া। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কয়েকজন পুলিশ এসে অপেক্ষমাণ লোকজনদের জানায়, টিসিবির ট্রাক আসবে আনন্দনগর খেলার মাঠে। খবর পেয়ে অপেক্ষমাণ লোকজন হুড়মুড় করে বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে খেলার মাঠে যান।ট্রাকের পেছনে মেয়েদের সারিতে দাঁড়ানো আছিয়া বেওয়া বলেন, ‘জোয়ান মহিলারা হামাক ধাক্কা ম্যারে ফেলে দ্যাছে। শ্যাষে বাধ্য হয়ে লাইনের পিছনত দাঁড়াছি। হামি ট্রাকের কাছত য্যাতে য্যাতে জিনিস থাকবে কিনা, আল্লাই জানে। হামি অসুস্থ মানুষ, তাও কেউ অ্যানা সুযোগ দ্যাছে না।’রোজা উপলক্ষে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রির দ্বিতীয় দিনে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে নওগাঁ শহরের আনন্দনগর খেলার মাঠে ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি শুরু করা হয়। সেখানে টিসিবির পণ্য নিতে এসে বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে। লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।শুক্র ও শনিবার ছাড়া সপ্তাহে পাঁচ দিন নওগাঁ শহরের একটি পয়েন্টে ট্রাকে করে তেল, মসুর ডাল, চিনি, ছোলা ও খেজুর বিক্রি করা হচ্ছে। এবার প্রতিটি ট্রাক থেকে একসঙ্গে ৪০০ জন সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য কিনতে পারছেন। গত বছর নওগাঁ পৌর এলাকায় প্রতিদিন ৫টি পয়েন্টে ৪০০ জনের কাছে পণ্য বিক্রি করা হয়েছিল। লম্বা বিরতি দিয়ে পণ্য বিক্রি করায় নি¤œ ও সীমিত আয়ের মানুষ বেশি ভিড় করছেন।টিসিবি সূত্র জানায়, প্রতিটি ট্রাক থেকে ৫৯০ টাকায় ৫ ধরনের পণ্যের প্যাকেজ বিক্রি করা হচ্ছে। এর মধ্যে আছে দুই লিটার ভোজ্যতেল, দুই কেজি মসুর ডাল, এক কেজি চিনি, এক কেজি ছোলা ও আধা কেজি খেজুর। প্যাকেজের সব পণ্য একসঙ্গে নিতে হচ্ছে।লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জুলেখা বেগম বলেন, ‘কাজকাম ফ্যালে দিয়ে হামরা সকাল থেকে বসে আছিনু। আর এখন পিছ থ্যাকে আসে এখন অনেকেই সামনে দ্যাঁড়ে গেছে। হামরা তো ওদের মতো ধাক্কাধাক্কি করতে পারমু না।’টিসিবির ডিলার ও মেসার্স অবন্তিকা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী তারক চক্রবর্তী বলেন, ‘প্রতিদিন টিসিবির বগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে পণ্য নিয়ে আসতে হয়। বগুড়া থেকে ট্রাক আসতে আসতে দুপুর হয়ে যায়। এজন্য সকাল ১০টা থেকে বিতরণ করার কথা থাকলেও দেরি হয়ে যাচ্ছে। বুধবার বিয়াম স্কুলের সামনের মাঠে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হয়েছে। সেখানে ৪০০ জনকে পণ্য বিক্রি করেছি। কিন্তু মানুষ এসেছিল ৬০০-এর বেশি। আজকে আনন্দনগর খেলার মাঠেও ৪০০ মানুষ লাইনে দাঁড়িয়েছে। চাহিদার তুলনায় পণ্য কম থাকায় বিশৃঙ্খলাটা হচ্ছে। গতবারের মতো একসাথে চার-পাঁচটা পয়েন্টে পণ্য বিক্রি করা গেলে এত চাপ হতো না। মানুষ শান্তিমতো পণ্য কিনতে পারতেন।’রমজান উপলক্ষে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রির প্রথম দিনেই লাইনে ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি ও ট্রাকের পেছনে দৌড়ে টিসিবির পণ্য কিনেছেন রাজশাহী নগরের ক্রেতারা। প্রতিদিন নগরের ১৫টি পয়েন্টে মোট ১৫টি ট্রাকে এসব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। রমজান মাসজুড়ে চলবে এই কার্যক্রম। তবে বিক্রির প্রথম দিনই কয়েকটি পয়েন্টে বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে। কোথাও লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে ধাক্কাধাক্কি, কোথাও হাতাহাতি হয়েছে।এবার প্রতি ট্রাক থেকে একসঙ্গে ৪০০ জন সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য কিনতে পারছেন। গত বছর শুরুতে ১০টি পয়েন্টে ২০০ জন করে পণ্য বিক্রি করা হয়েছিল।টিসিবি জানায়, প্রতিটি ট্রাক থেকে ৫৯০ টাকায় পাঁচ ধরনের পণ্যের প্যাকেজ বিক্রি করা হচ্ছে। এর মধ্যে আছে ২ লিটার ভোজ্য তেল, ২ কেজি মসুর ডাল, এক কেজি চিনি, এক কেজি ছোলা ও আধা কেজি খেজুর। প্যাকেজের সব পণ্য একসঙ্গে নিতে হচ্ছে।বানু বেগম নামের আরেক নারী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা ঝগড়া করতে পারি না, কাজকাম ফেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকি। আর পিছ থেকে আইসে মাল নিয়া চলে যায়।’টিসিবির রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক আতিকুর রহমান বলেন, ‘কিছু জায়গায় লাইনে বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সিটি করপোরেশনসহ অন্যদের চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছি আমরা। তাদের সহযোগিতা পেলে বিশৃঙ্খলা কিছুটা কমবে।’খুলনার ১৫ স্থানে টিসিবির ট্রাক সেল কার্যক্রমঃ খুলনায় সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি। মহানগরীর ১৫টি স্থানে ট্রাকের মাধ্যমে পণ্যগুলো বিক্রি শুরু হয় ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে। এই কার্যক্রমের আওতায় বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে তেল, ডাল, চিনি, ছোলা ও খেজুর কিনতে পারছেন ভোক্তারা।টিসিবি সূত্র জানায়, মহানগরীর ১৫টি স্থানে ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানগুলো হচ্ছে বয়রা সরকারি মহিলা কলেজ, প্রান্তিক মার্কেট, টেক্সটাইল মিল রোড, গোবরচাকা পল্লী মঙ্গল স্কুল মাঠ, এরশাদ আলী স্কুল মাঠ, শিশু হাসপাতালের সামনে, বাগমারা মোতালেব চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে, বসুপাড়া এতিমখানা রোড, আলকাতরা ক্লাবের মোড়, খুলনা প্রেসক্লাব, দক্ষিণ টুটপাড়া মসজিদ মাঠ, পাইওনিয়ার সরকারি মহিলা কলেজ, শিপইয়ার্ড রোড চানমারী বাজার, রূপসা ব্রিজের নিচে, আফিল উদ্দিন স্কুল প্রাঙ্গণ ও শিল্পকলা একাডেমি।রমজানে নিয়মিত পণ্যের সঙ্গে অতিরিক্তভাবে ছোলা ও খেজুর বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি প্যাকেজের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৯০ টাকা। প্রতিটি ট্রাক থেকে ৪০০ জন মানুষ পণ্য ক্রয় করতে পারছেন। প্রতিটি প্যাকেজে থাকছে ২ লিটার তেল ২৩০ টাকা, ১ কেজি চিনি ৮০ টাকা, ২ কেজি ডাল ১৪০ টাকা, ১ কেজি ছোলা ৬০ টাকা এবং ৫০০ গ্রাম খেজুর ৮০ টাকা। তবে শুরু থেকেই ট্রাকের পেছনে ভিড় দেখা গেছে।গোবরচাকার বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, ‘বাজারে এক লিটার তেল ১৯৫ টাকা। কিন্তু সরকার এক লিটার তেল দিচ্ছে ১১৫ টাকায়। এটা অনেক সাশ্রয়ী। চিনি, ছোলা, খেজুরও বাজার দরের চেয়ে অনেক কম। যা দরিদ্র মানুষের জন্য খুবই সহায়ক। এজন্য কিনতে এসেছি। বাজারে বেশি দামে কেনার সাধ্য নেই।’শেখপাড়ার বাসিন্দা খলিল মিয়া বলেন, ‘টিসিবির প্রতিটি পণ্য ভালো। বাজারে নি¤œমানের খেজুরই বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজি। সেখানে টিসিবি যে খেজুর দিচ্ছে তার বাজার মূল্য ৪০০ টাকার বেশি। কিন্তু টিসিবি দিচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি দরে।’খুলনা টিসিবির আঞ্চলিক পরিচালক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি ব্যতীত প্রতিদিন ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করা হবে। ফ্যামেলি কার্ডের বাইরেও সাধারণ মানুষ এই পণ্য ক্রয় করতে পারছেন। এক্ষেত্রে কোনও কিছুর প্রয়োজন হবে না। ট্রাক সেলে পণ্যের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ছোলা এবং আধা কেজি খেজুর।’রংপুরে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও পণ্য মিলছে নাঃ রংপুরে ভোজ্যতেল, চিনি ও ছোলাসহ নিত্যপণ্য টিসিবির মাধ্যমে বিক্রি শুরু হলেও বৃহস্পতিবার ভোর থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পণ্য কিনতে না পেরে অনেকে ফিরে গেছেন। ২০৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের রংপুর সিটি করপোরেশনের মাত্র ১৪টি স্থানে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। যা আয়তনের তুলনায় খুবই কম।নগরীর নিউ সেনপাড়া মহল্লার মালতী রানী বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় আসছি। দুপুর ২টা বাজে। এখনও ৫০ জনের পেছনে আছি। শেষ পর্যন্ত পাইনি। আমরা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছি। অথচ ট্রাকের সামনে লাইন না ধরেই অনেকেই পণ্য নিয়ে গেছেন। এসব স্বজনপ্রীতি বন্ধ হওয়া উচিত।’সকাল থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কাছারি বাজার এলাকায় টিসিবির ট্রাকের পেছনে শত শত নারী-পুরুষকে লাইনে থাকতে দেখা গেছে। শেষ পর্যন্ত পণ্য না পেয়ে ফিরে গেছেন অন্তত ৪০ জন। তাদের মধ্যে আছেন মুন্সিপাড়ার আমেনা বেগম ও মোকসেদ আলী জানিয়েছেন, ট্রাকের সংখ্যা আরও বাড়ানো উচিত। একই অবস্থা ছিল প্রেসক্লাবের সামনে থাকা টিসিবির ট্রাকের পেছনেও। গোপালগঞ্জেও দীর্ঘ লাইনঃ গোপালগঞ্জেও পণ্য বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি। বৃহস্পতিবার জেলার সিও অফিসের সামনে টিসিবির ডিলার ট্রাক সেলের পণ্য বিক্রি করেন। যা কিনতে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। জেলা শহরের মোহাম্মদপাড়া জামে মসজিদের পাশে ট্রাক সেলের এ কার্যক্রম শুরু হয়।তবে মাত্র ৪০০ জনের বরাদ্দ থাকায় টিসিবির পণ্য কিনতে আসা অধিকাংশ মানুষ খালি হাতে বাড়ি ফেরেন। রোজায় টিসিবির নিয়মিত পণ্য তেল, ডাল ও চিনির পাশাপাশি ছোলা ও খেজুরও বিক্রি করা হবে। ট্রাকে পণ্য বিক্রির পাশাপাশি স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমেও পণ্য বিক্রি করবে টিসিবি।ট্রাক থেকে একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই লিটার সয়াবিন তেল, দুই কেজি মসুর ডাল, এক কেজি ছোলা, এক কেজি চিনি এবং ৫০০ গ্রাম খেজুর কিনতে পারবেন। এর মধ্যে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম রাখা হবে ১১৫ টাকা। প্রতি কেজি চিনি ৮০ টাকা, মসুর ডাল ৭০ টাকা, ছোলা ৬০ টাকা ও খেজুরের দাম ১৬০ টাকা দরে ক্রেতা হাফ কেজি পাবেন মূল্য ৮০ টাকা। একজন গ্রাহক ৫৯০ টাকার বিনিময়ে ৫ ধরনের ভোগ্য পণ্য একবারই ক্রয় করতে পারবেন।গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের উপসহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা আলী আকবর খান জানান, সরকার নির্ধারিত ২০ দিন ট্রাক সেল কার্যক্রম চলবে। যা আগামী ১২ মার্চ পর্যন্ত চলবে। বরিশালে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য পাননি অনেকেঃ বরিশালেও টিসিবির সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্য বিক্রি কার্যক্রম চলছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে ট্রাক সেলের মাধ্যমে ভোজ্য তেল, চিনি, ডাল, ছোলা এবং খেজুর বিক্রি করা হয়। এসব পণ্য কিনতে আসেন শতশত মানুষ। দীর্ঘ হয় লাইন। যার মধ্যে অধিকাংশই নারী। তাদের অনেকে পণ্য না পেয়ে খালি হাতে ফিরে গেছেন।টিসিবি জানায়, একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই লিটার সয়াবিন তেল, এক কেজি চিনি, দুই কেজি ডাল, এক কেজি ছোলা এবং ৫০০ গ্রাম খেজুর কিনতে পারছেন। এই কার্যক্রম আগামী ১২ মার্চ পর্যন্ত চলবে।সরেজমিনে নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টিভির মাঠ এলাকায় দেখা যায়, ট্রাকে করে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। পণ্য কিনতে প্রায় পাঁচ শতাধিক লোক ভিড় জমিয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশই নারী।সাহিদা আক্তার নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘দেড় কিলোমিটার পথ হেঁটে টিসিবির পণ্য ক্রয় করতে এসেছি। কারণ ৫৯০ টাকায় যে পণ্য এখান থেকে ক্রয় করা যাচ্ছে, তা দোকান থেকে কিনতে দ্বিগুণ লাগবে। এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য পেয়েছি। ট্রাকের সংখ্যা আরও বাড়ানো উচিত।’টিসিবি জানায়, প্রতিটি ট্রাক থেকে ৫৯০ টাকায় ৫ ধরনের পণ্যের প্যাকেজ বিক্রি করা হচ্ছে। এর মধ্যে আছে দুই লিটার ভোজ্যতেল, দুই কেজি মসুর ডাল, এক কেজি চিনি, এক কেজি ছোলা ও আধা কেজি খেজুর। প্যাকেজের সব পণ্য একসঙ্গে নিতে হচ্ছে। সারা দেশেই চলছে টিসিবির কম দামে পণ্য বিক্রির কার্যক্রম। সাতক্ষীরায় ভিড় করেছেন নানা বয়সী মানুষঃ সাতক্ষীরায় বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ন্যায্যমূল্যে নিত্যপণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। সরকারের ভর্তুকি মূল্যে এসব খাদ্যপণ্য কেনার জন্য ভিড় করেছেন নানা বয়সী মানুষজন। এ সময় মানুষকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।রমজানের প্রথম দিন শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। বিকালে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, রমজানে অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিপাকে না ফেলতে পারে, সেজন্য টিসিবির এই উদ্যোগ। সাধারণ মানুষ যাতে সহজে পণ্য পায়, সেদিকে প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে।খাদ্যপণ্য কিনতে আসা সাকিব বলেন, ‘বাজারে ডাল ও তেলের দাম অনেক বেশি। এখানে কিছুটা কম দামে পাচ্ছি। তবে লাইনে মানুষের ভিড় অনেক বেশি। বিক্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা আরও বাড়ালে সবার সুবিধা হতো।’মেসার্স মাওয়া স্টোরের স্বত্বাধিকারী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘সাধারণত টিসিবির পণ্য কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া হয়ে থাকে। তবে রমজান উপলক্ষে বিশেষ বিবেচনায় সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা ভেবে আমরা কার্ড ছাড়াই পণ্য বিক্রি করছি। এতে নি¤œ ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ সরাসরি সুলভ মূল্যে পণ্য কিনতে পারছেন।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button