জাতীয় সংবাদ

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২০১ নম্বর কক্ষ হয়ে উঠেছে দেশ পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিয়মিত অফিস করছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিয়ম মেনে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে রাত পর্যন্ত অফিস করতে দেখা যাচ্ছে তাকে। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা সময় দিচ্ছেন সচিবালয়ে। তার দীর্ঘ সময় উপস্থিতি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝেও নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। এর আগে কোনো প্রধানমন্ত্রীকে সচিবালয়ে নিয়মিত অফিস করতে দেখা যায়নি। ফলে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২০১ নম্বর কক্ষ এখন কার্যত দেশ পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কর্মকা- সেখান থেকেই পরিচালিত হচ্ছে। পাশের সভাকক্ষে গত চার দিনে মন্ত্রিসভার বৈঠকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সচিবালয়ে অভূতপূর্ব কর্মচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। প্রশাসনিক সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মন্ত্রীরাও ইতোমধ্যে পুরোদমে কাজ শুরু করেছেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকারের চতুর্থ কর্মদিবসে সকাল ৯টা ২০ মিনিটে সচিবালয়ে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিকেল সাড়ে ৪টায় বের হন। এদিনও ১ নম্বর ভবনের ২০১ নম্বর কক্ষে বিভিন্ন সভা ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। সকাল থেকেই অধিকাংশ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নির্ধারিত সময়েই নিজ নিজ দপ্তরে পৌঁছান। গত কয়েক দিনের সৌজন্য ও পরিচিতি পর্ব শেষ করে তারা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। প্রশাসনে গতি ফেরানো এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নেওয়াই এখন তাদের মূল লক্ষ্য। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রশাসনিক কাজের গতি আনতে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিয়মিত অফিস করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সে অনুযায়ী ২০১ নম্বর কক্ষটি প্রধানমন্ত্রীর অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। কক্ষে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভিডিও কনফারেন্সিং সুবিধা এবং দাপ্তরিক নথি সংরক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গত চার দিনের কর্মকা- সম্পর্কে সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন। বিশেষ করে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। ঈদের আগেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচি এবং জাতীয় পর্যায়ে ‘নদী-খাল-জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি’ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে দ্রুত স্মার্ট কৃষক কার্ডের পাইলট প্রকল্প শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথম দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সচিবালয়ে পৌঁছে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১ নম্বর কক্ষে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। সচিবালয়েই মধ্যাহ্নভোজ ও যোহরের নামাজ আদায় করেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনার নির্দেশ দেন। বিকেল ৩টায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নিয়ে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের নির্দেশ দেন তিনি। বিকেল ৪টায় সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। আসর ও মাগরিবের নামাজও আদায় করেন। সেদিন সচিবালয়েই তার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ রেকর্ড করা হয়। রাত সাড়ে ৭টার দিকে তিনি সচিবালয় ত্যাগ করেন। দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় এনএসআই মহাপরিচালক, ১০টায় ডিজিএফআই মহাপরিচালক এবং সাড়ে ১০টায় তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাড়ে ১১টায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় অংশ নেন। দুপুর ২টায় বৃক্ষরোপণ ও নদী-খাল পুনঃখনন কর্মসূচি বিষয়ক সভায় যোগ দেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও তিনি তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করেন। তিনি এও জানিয়েছেন, এখন থেকে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও অফিস করবেন। তৃতীয় দিন সকাল ৯টা ৫ মিনিটে সচিবালয়ে এসে ২০১ নম্বর কক্ষে ধারাবাহিক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সচিব, সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল বিষয়ে বিশেষ সভা। স্থানীয় সরকার, স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। পরে ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠন’ বিষয়ক সভায় অংশ নেন। চতুর্থ দিন সকাল ৯টা ২০ মিনিটে সচিবালয়ে প্রবেশ করে ২০১ নম্বর কক্ষে একাধিক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। দুপুরে ‘কৃষক কার্ড’ চালু সংক্রান্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সভা শেষে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে স্মার্ট কৃষক কার্ড চালু করা হবে। কৃষকরা সরাসরি রাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন এবং উৎপাদন-সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সুবিধা পাবেন। কৃষি জ্ঞান, যন্ত্রপাতি, সার, কীটনাশক, বীজসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সহজলভ্য করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করবেন। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button