স্থানীয় সংবাদ

আড়ংঘাটা সংঘবদ্ধ দুর্ধর্ষ ডাকাতির ১৭ দিন কেটে গেলেও রহস্য উৎঘটন ও আসামী গ্রেপ্তার হয়নি!

# ৩১ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট #
# মামলার অগ্রগতি, পুলিশের ভূমিকা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী #
# দ্রুত সময়ের আসামী গ্রেপ্তারের দাবি ভুক্তভোগী পরিবারসহ ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসীর #

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা মহানগরীর আড়ংঘাটা থানাধীন মোড়ল পাড়া এলাকায় সংঘবদ্ধ দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় ৩১ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ পৌনে দুই লাখ টাকা ও ১টি মোবাইল ফোন লুট হওয়ার ১৭ দিন কেটে গেলেও ওই ঘটনার রহস্য উৎঘটন ও আসামী গ্রেপ্তারে পুলিশ চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার ও ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসীর অভিযোগ। আলোচিত এ ঘটনার রহস্য উৎঘটন ও আসামী গ্রেপ্তারে পুলিশের অগ্রগতি না ফেরায় ওই এলাকায় একদিকে যেমন জনমনে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। আড়ংঘাটা এলাকায় এমন ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে না তার জন্য প্রশাসনের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারীর পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে আলোচিত দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনার রহস্য উৎঘটন, জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী ও ভিকটিম পরিবার। বিপরীতে পুলিশ বলছে, অগ্রগতির জন্য আড়ংঘাটায় থানায় রুজুকৃত মামলাটি ইতোমধ্যে নগর গয়েন্দা শাখা (ডিবির) নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই ঘটনায় সম্পৃক্ত আসামীদের ইতোমধ্যে শণাক্ত করা হয়েছে, তারা সংঘবদ্ধভাবে খুলনা জেলার বাইরে হতে এসে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে। আসামী গ্রেপ্তার কার্যক্রম চলমান এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তারে সক্ষম হবে পুলিশ।
গত, ৬ ফেব্রুয়ারী (শুক্রবার) দিনগত রাতে আড়ংঘাটা মোড়ল পাড়া এলাকার মরহুম বীরমুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমীনের পুত্র ও দৌলতপুর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, আড়ংঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মতলুবুর রহমান মিতুলের ছোট চাচা কামাল মোড়লের বাড়ীতে ওই দুর্ধর্ষ ডাকাতরি ঘটনা ঘটে। ডাকাতচক্র দলের সদস্যরা ওই পরিবারের সকলকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র (দা) মুখে ফেলে হাত বেঁধে জিম্মি করে ৩১ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ পৌনে ২ লাখ টাকা ও ১ টি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে চলে যায়। ওই ঘটনায় ওই বাড়ীর মালিক কামাল মোড়ল বাদী শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারী) রাতে আড়ংঘাটা থানায় অজ্ঞাতানামা আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১)। এদিকে, মামলার ১৭ দিন কেটে গেলেও এখন পর্যন্ত আলোচিত ওই ডাকাতির ঘটনার রহস্য উৎঘটন ও আসামী গ্রেপ্তার না হওয়াই পুলিশের ভূমিকার প্রতি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ভিকটিম পরিবারসহ এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে মোড়লপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. হাছান জানান, আড়ংঘাটা এলাকায় এতো বড় ডাকাতির ঘটনা আগে কোনো দিন ঘটেনি। ওই ঘটনার ১৭ দিন কেটে গেলো। মামলা হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত পুলিশ ওই ঘটনার রহস্য উৎঘটন ও জড়িত কোনো আসামীকে সামনে আনতে পারলো না। তাহলে পুলিশের প্রতি আমরা কিভাবে আস্থা আনবো। এমন ঘটনায় আমরা এলাকাবাসী নিরাপত্তা নিয়ে নিয়ে চরম শঙ্কিত। একদল ডাকাত এসে সোনা-গহনা, টাকা-পয়সা নিয়ে চলে গেলো, আর পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারলো, তাহলে কি প্রশাসনের থেকে দুস্কৃতিকারীরা বেশি শক্তিশালী?
একই এলাকার বাসিন্দা হাবিব জানান, পাশে বাইপাস সড়ক, এ সড়ক ধরে প্রায় ছোট-বড় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা নতুন কিছু নয়। তবে, আমাদের এলাকায় এতো বড় ডাকাতির ঘটনা প্রথম। ঘটনার ১৭ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত রহস্য উৎঘটন বা কাউকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে সামনে আনতে পারেনি। এতে করে পুলিশের প্রতি এলাকাবাসীর আস্থা কমে গেছে। তাছাড়া প্রশাসনের যে ধরনের জোরদার ভূমিকায় থাকা উচিৎ তা, দৃশ্যমান নয়। পুলিশের টহল জোরদার করা উচিৎ। দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি এলাকাবাসী হিসাবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পুলিশ যদি ওই ঘটনার রহস্য উৎঘটন ও আসামী গ্রেপ্তার করতে পারে, তবে এলাকাবাসী নতুন করে পুলিশের আস্থাবান হবে।
এ বিষয়ে মামলার বাদী কালাম মোড়ল জানান, বাড়ীতে দুর্ষর্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটলো, এতো বড় ঘটনা যা আগে কোনো দিন এই এলাকায় ঘটেনি, এটাই প্রথম। ওই ঘটনার ১৭ দিনে কেটে গেলো। মামলা করলাম, পুলিশ আজ পর্যন্ত ডাকাতির রহস্য উৎঘটন, আসামী গ্রেপ্তার করতে পারলো না। মামলার বাদী হিসাবে আমার চাওয়া কারা এই ওই ঘটনায় জড়িত তাদের পুলিশ শণাক্ত করুক এবং গ্রেপ্তার করুক।
এ বিষয়ে ভিকটিমের ভাতিজা, দৌলতপুর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও আড়ংঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মতলুবুর রহমান মিতুল মোড়ল জানান, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনার ১৭ দিন কেটে গেলো, মামলাও করা হলো। মামলার অগ্রগতি না হওয়াই ডিবির কাছে মামলা হস্তান্তর করার পরও এখন পর্যন্ত ওই ঘটনায়ং জড়িত কোনো আসামী পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারলো না, এটা প্রশাসনের ব্যর্থতা তাছাড়া অন্য কিছু ভাবার সুযোগ নেই। এটা বড় একটা আলোচিত ঘটনা, পুলিশ এখন পর্যন্ত এ ঘটনার কোনো রহস্য উৎঘটন বা গ্রেপ্তারে অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। তাহলে এই এলাকার মানুষ কতটুকু নিরাপদ, আর পুলিশই এলাকাবাসীকে কতটুকু নিরাপত্তা দিতে সক্ষম। ওই ঘটনার রহস্য উৎঘটন ও আসামী গ্রেপ্তার না হওয়াই ইতোমধ্যে এলাকাবাসী পুলিশের প্রতি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং অনাস্থা প্রকাশ শুরু করেছে এবং গোটা এলাকাবাসী তাদের নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত শঙ্কিত। ক্ষুদ্ধ ভিকটিম পরিবারসহ এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে আলোচিত দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনার রহস্য উৎঘটন, জড়িতদের শণাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ( ক্রাইম এন্ড অপারেশনস্) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান জানান, বিভিন্ন আলামত ও বিষয়কে সামনে রেখে তদন্তের কার্যক্রম চলমান আছে। ওই ঘটনায় সম্পৃক্ত আসামীদের ইতোমধ্যে আমরা শণাক্ত করতে পেরেছি, তারা সংঘবদ্ধভাবে খুলনা জেলার বাইরে হতে এসে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে। আসামী গ্রেপ্তার কার্যক্রম চলমান আছে। আশাবাদি দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তারে সক্ষম হবো।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button