জাতীয় সংবাদ

অপচয় বন্ধে নজর নেই, লোকসানী সাবসিডিয়ারির অডিট খরচ ৪৬ লাখ টাকা

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ এনআরবিসি ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান এনআরবিসি সিকিউরিটিজ মূলত পুঁজিবাজারে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় ও মার্জিন লোনের ব্যবসা করে থাকে। বিগত ২ বছরের অধিক সময় শেয়ার মার্কেটে মন্দা অবস্থা বিরাজ করায় সকল সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠান মুনাফার ধারায় ছিল না। এনআরবিসি সিকিউরিটিজটি ট্রেডিংয়ের দিক থেকে গত ৫ বছরে শীর্ষ ১০ এর মধ্যে থাকলেও অব্যাহত মন্দার কারণে ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো পরিচালনগত লোকসানে পতিত হয়। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গত বছর এই সিকিউটিজটি ৪ কোটি টাকা লোকসান করে। এর কারণ অনুসন্ধানে এনআরবিসি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ একটি ফরেনসিক অডিটের আয়োজন করেছে। একটি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট প্রতিষ্ঠানকে এই ফরেনসিক অডিটের কাজ দেওয়া হয়েছে। এই অডিটের জন্য প্রতিষ্ঠানটির ব্যয় হবে ৪৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে অডিট প্রতিষ্ঠান পাবে ৪০ লাখ টাকা এবং বাকি ৬ লাখ টাকা খরচ হবে ভ্যাট বাবদ। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছর ১ লাখ টাকায় অডিট কার্যক্রম সম্পূর্ণ করে থাকে। এনআরবিসি সিকিউরিটিজের কার্যক্রম এতই কম যে, ফরেনসিক অডিটের নামে ৪৬ লাখ টাকা খরচ করার কোনো প্রয়োজন হয় না। বাংকের আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ব্যবস্থা যথেষ্ট বলে মনে করেন ব্যাংকের কর্মীরা। এদিকে ফরেনসিক অডিট করায় ওই প্রতিষ্ঠানে বিও হিসাবদারীদের তথ্যের গোপনীয়তা সংক্রান্ত বিধান লঙ্ঘন হচ্ছে।
বিএসইসি আইনের সংশিষ্ট ধারা লঙ্ঘন করে তাদের বিনিয়োগ তথ্য বাইরে চলে যাচ্ছে বিধায় তাদের অনেকেই বিও হিসাব বন্ধ করে অন্য সিকিউরিটিজে চলে যাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা আশাঙ্কা প্রকাশ করেছেন, প্রতিষ্ঠানটি রুগ্ন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। কিন্তু সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান খুবই রাগাম্বিত ভঙ্গিতে কথা বলায় কেউ ৪৬ লাখ টাকা খরচে ফরেনসিক অডিট করার বিষয়ে আপত্তি করার সাহস পায়নি। জানতে চাইলে এনআরবিসি সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান আবুল বশর বলেন, ‘এত টাকা ব্যয়ে অডিট করার কথা নয়। তবে ঠিক কত টাকায় অডিট করা হয়েছে তা আমার জানা নেই। জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছর ১ লাখ টাকায় অডিট কার্যক্রম সম্পূর্ণ করে থাকে। এনআরবিসি সিকিউরিটিজের কার্যক্রম এতই কম যে, ফরেনসিক অডিটের নামে ৪৬ লাখ টাকা খরচ করার কোনো প্রয়োজন হয় না। বাংকের আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ব্যবস্থা যথেষ্ট বলে মনে করেন ব্যাংকের কর্মীরা। তারা বলছেন, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তৌহিদুল আলম খান এনআরবিসি সিকিউরিটিজ কর্মীদের বিভিন্ন রকম ধমক ও চাকুরিচ্যুতির হুমকি দিয়ে আসছেন। এ কারণে ব্যাংকের টাকা অপচয় হলেও কেউ কিছু বলতে সাহস পাচ্ছে না। অর্থের অপচয়ের আরও উদাহরণ রয়েছে ব্যাংকে। এনআরবিসি ব্যাংকের তেজগাঁও উপশাখা, মহাখালী শাখা এবং প্রধান কার্যালয় হিসেবে হাদী ম্যানশনের ফ্লোর এক বছরের অধিক সময় ধরে ভাড়া টানা হলেও এখনো এগুলোতে অফিস স্থানান্তর করা হয়নি। সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা আবুল বশর পরিবার নিয়ে চট্টগ্রামে থাকেন। মিটিংয়ের জন্য ঢাকা আসেন। এজন্য তাকে বিমানের আপ-ডাউন ভাড়া দেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। প্রথম ৩-৪ মাস তিনি এনআরবিসি সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান হিসেবে ১ লাখ করে টাকা নিয়েছেন, যা তার পাওয়ার কথা নয়। এছাড়া মিটিং ফি বাবদ ১০ হাজার করে টাকা নেন। ইন্টেরিয়র ডেকরেশনে বর্তমান ম্যানেজমেন্ট আগের তুলনায় বেশি খরচ করেছে যা ব্যাংকের বোর্ড ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অপেশাদার আচরণের কারণে হয়েছে বলে মনে করছেন ব্যাংকটির কর্মকর্তারা। রাজধানীর দিলকুশায় এনআরবিসি সিকিউরিটিজের কার্যালয়ে চেয়ারম্যানের জন্য একটি বিলাসী কামরা বানানো হয়েছে। অথচ ওই সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালে পরিচালনগত লোকসান করেছে ৪ কোটি টাকা। আইন অনুযায়ী এনআরবিসি ব্যাংকের মনোনীত পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসাবে এনআরবিসি সিকিউরিটিজের কার্যালয়ে এ ধরনের অফিস রাখার সুযোগ নেই, যা আইনের সুস্পুষ্ট লঙ্ঘন। বিগত সময়ে এনআরবিসি সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যানের এ ধরনের রুম ছিল না। জানা গেছে, সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা আবুল বশর পরিবার নিয়ে চট্টগ্রামে থাকেন। মিটিংয়ের জন্য ঢাকা আসেন। এজন্য তাকে বিমানের আপ-ডাউন ভাড়া দেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। প্রথম ৩-৪ মাস তিনি এনআরবিসি সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান হিসেবে ১ লাখ করে টাকা নিয়েছেন, যা তার পাওয়ার কথা নয়। এছাড়া মিটিং ফি বাবদ ১০ হাজার করে টাকা নেন। এ বিষয়ে আবুল বশর বলেন, ‘প্রথমে আমাকে গাড়ি মেইনটেন্যান্সের জন ১ লাখ করে টাকা দিলেও পরে আর আমি তা নেইনি।’ তবে এনআরবি সিকিউরিটিজ সূত্রে জানা যায়, আবুল বশর তাকে মাসে ১ লাখ টাকা দিতে বাধ্য করেছিলেন। পরে বিষয়টি আইনসিদ্ধ না হওয়ায় তা অনেক কষ্টে বাদ দেওয়া হয়। এছাড়াও গত জানুয়ারি মাসে একটি পুরস্কার প্রাপ্তির পেছনে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বড় অঙ্কের একটি অর্থ ব্যয় করেছে বলে জানা গেছে। এভাবে টাকার বিনিময়ে পুরস্কার প্রাপ্তি ভালো চোখে দেখছেন না ব্যাংকটির কর্মীরা। এনআরবিসি ব্যাংকের কর্মীরা বলছেন, ব্যাংকটির প্রধান শক্তি এর দেশব্যাপী বিস্তৃত শাখা ও উপশাখা, মাঠ পর্যায়ের কয়েক হাজার উদ্যমী কর্মী এবং গণমানুষের উপযোগী বিভিন্ন লোন প্রোডাক্ট যেমন মাইক্রো ক্রেডিট, নিউজেন, উন্নয়ন বিনিয়োগ প্রভৃতি। এইসব লোন প্রোডাক্টে এনআরবিসি ব্যাংকের ২০২৪ সালের মার্কেট শেয়ার ছিলো প্রায় ৪০-৭০ শতাংশ।
মাঠের কর্মীদের দৃঢ় অবস্থানের কারণে এখনও ব্যবসা চলমান। বোর্ড ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তৌহিদুল আলম খানের অপেশাদার আচরণ ও অদক্ষতা কারণে বাংকটির সকল পর্যায়ের কর্মীরা অতঙ্কিত এবং ইতিমধ্যে প্রায় ২৫০ কর্মী ব্যাংক হতে চলে গেছেন, যার ফলে শাখা পর্যায়ে লোকবল সংকট দেখা দিয়েছে। কর্মকর্তাদের দাবি, এরকম অপেশাদার আচরণ ও অদক্ষতার ঘটনা না ঘটলে ২০২৫ সালে ব্যাংকটি পরিচালন মুনাফা ৪৫৭ কোটি টাকার পরিবর্তে ৮২০ কোটি টাকা হতে পারত।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button