খুলনার দৌলতপুর জুট মিল লিজ প্রথায় চালু হলেও লে অফ ঘোষণা করা হলো

স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনার দৌলতপুর জুট মিল লিজ প্রথায় চালু হলেও তা লে অফ ঘোষণা করা হলো । বুধবার বকেয়া একটি বেতন দিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে লে অফ ঘোষণা করা হয়েছে বলে শ্রমিকরা জানান। তবে আজ বৃহস্পতিবার কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে লে অফ ঘোষণা করবেন বলে মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ইসহাক আলী জানান। তিনি জানান, হঠাৎ করে পাটের দাম অনেক বেড়ে গেছে। মিলে কাঁচামাল না থাকার কারণে মিলের উৎপাদন বেশ কিছু দিন যাবৎ বন্ধ রয়েছে। তারপরও শ্রমিকদের হাজিরা চলছিল। বন্ধ অবস্থায় তাদের একমাসের বেতন বুধবার পরিশোধ করা হয়েছে। কাঁচামাল না থাকায় লে অফ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ঈদের আগেই শ্রমিকদের বকেয়া এক মাসের বেতন ও ঈদের বোনাস দেয়া হবে বলে তিনি জানান। মিল শ্রমিক ফরিদ আহমেদ বলেন, এ মিলের মালিক মিজানুর রহমান একজন ফ্যাসিস্ট। তিনি কখনও এ সরকারের ভাল চাইবে না। তারা অনেকটা সরকারের বদনাম করার জন্য এ মিলটি বন্ধ করেছে। শ্রম আইন অনুযায়ী লে অফ কালিন সুবিধা যাতে শ্রমিকরা পায় এ দাবি শ্রমিকদের। তিনি বলেন, তিন বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর লিজের মাধ্যমে দায়সারাভাবে চালু হয়েছে খুলনার দৌলতপুর জুট মিল। আড়াইশ’ তাঁতের মধ্যে এ পর্যন্ত চালু করা হয়েছে মাত্র ২০টি। আগে যেখানে প্রায় ২২শ’ শ্রমিক কর্মরত ছিল সেখানে কর্মসংস্থান হয়েছে দুইশ’র মতো শ্রমিকের। আগের তুলনায় উৎপাদন হচ্ছে অনেক কম। লোকসানের কারণ দেখিয়ে বিজেএমসি ২০২০ সালের ২ জুলাই খুলনা নগরীর খালিশপুর শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত দৌলতপুর জুট মিল বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে ৩০ বছরের জন্য মিলটি ফরচুন গ্রুপকে লিজ দেয়া হয়। গত বছর ৪ সেপ্টেম্বর মিলটি তাদের কাছে হস্তান্তর করে বিজেএমসি। লিজ বাবদ প্রতি বছর ফরচুন গ্রুপকে সাড়ে ৯ লাখ টাকা করে বিজেএমসিকে দিতে হবে। ৫ বছর পরপর ১০ শতাংশ হারে এই রাজস্বের পরিমাণ বাড়বে। লিজ গ্রহণের সময় ফরচুন গ্রুপ বিজেএমসিকে অগ্রিম হিসেবে সাড়ে ৩ কোটি টাকা প্রদান করেছে। মিলটিতে তাঁত রয়েছে মোট ৬১০টি। তবে সর্বশেষ রাষ্ট্রায়ত্ত মালিকানাধীন থাকা অবস্থায় ২৫০টি তাঁত চালু ছিল। লিজ গ্রহণের পর ৩ মাস ফরচুন গ্রুপ ২৫০টি তাঁতের মধ্যে ১৫০টি সংস্কার করে। আগে মিলটিতে সূতা ও পাটের বস্তা তৈরি করা হতো। রাষ্ট্রায়ত্ত থাকা অবস্থায় মিলটিতে ২ হাজার ২৮২ জন শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত ছিল। তবে এ পর্যন্ত নিয়োগ করা হয়েছে মাত্র ২০০ জন। আরেক শ্রমিক মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের পর দিনমজুরি করেছি, তখন একদিন কাজ হতো তো দুই দিন কাজ হতো না। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের তুলনায় তাদের মজুরি কম। এছাড়া মিলটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে আরও অনেক শ্রমিকের কর্মসংস্থান হতো। তার আগেই কর্তৃপক্ষ সরকারের বদনাম করার জন্য এ মিলটি লে অফ করেছে। অবিলম্বে তাদের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করার দাবি জানান তিনি। যখন পাটের দাম কম ছিল তখন না কিনে অসময় প্টা কেনার নাটক করছে তারা। এই ফ্যাসিস্ট কর্তৃপক্ষের বিচার দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, এই মিলে মালিকসহ তার লোকজন প্রায় সবাই আওয়ামীলীগ ঘরনার লোক। তারা এ সরকারের সুনাম হোক তা চাইবে না। এ জন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিতাড়িত করা যায় ততই এ সরকারের মঙ্গল।



