স্থানীয় সংবাদ

প্রতাপ ঘোষের মামলায় বেকসুর খালাস বটিয়াঘাটার ১০ সাংবাদিক, মিথ্যা অভিযোগ প্রমাণিত

মনিরুজ্জামান বটিয়াঘাটা থেকে ঃ বটিয়াঘাটা থানায় দায়ের করা এক আলোচিত মামলায় বেকসুর খালাস পেয়েছেন স্থানীয় ১০ সাংবাদিক। উপজেলা প্রেসক্লাবের কথিত সাংবাদিক প্রতাপ ঘোষের করা ওই মামলায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার আদালত অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় অভিযুক্তদের খুলনার একটি আদালত অব্যাহতি দেন। আদালতের এ রায়ে স্বস্তি ফিরেছে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের মাঝে এবং স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। মামলার এজাহারে প্রতাপ ঘোষ অভিযোগ করেছিলেন, অভিযুক্ত সাংবাদিকরা তার অফিসে জোরপূর্বক প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন। তবে বিচার চলাকালে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তথ্যাদি পর্যালোচনায় আদালত অভিযোগের পক্ষে যথাযথ ভিত্তি খুঁজে পাননি। ফলে অভিযুক্ত সকল সাংবাদিককে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে অভিযোগের অসঙ্গতি ও প্রমাণের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। জানা যায়, ২০২২ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এ মামলাটি দায়ের করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সে সময়কার প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে মূলধারার কয়েকজন সাংবাদিককে হয়রানির লক্ষ্যে মামলাটি করা হয়। সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামাত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয় করার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। মামলায় আসামি করা হয় বটিয়াঘাটা প্রেসক্লাবের তৎকালীন সভাপতি কবির আহমেদ খান, দৈনিক প্রবাহের মনিরুজ্জামান, সময়ের খবরের ইমরান হোসেন সুমন, দৈনিক সংগ্রাম ও দৈনিক জন্মভূমির তরিকুল ইসলাম, দৈনিক আমার সংবাদের মইদুল ইসলাম শাহীন, দৈনিক আজকের পত্রিকা ও দৈনিক খুলনা গেজেটের হিরামন মন্ডল সাগর, দৈনিক লোক সমাজের আহসান কবীর, দৈনিক ইনকিলাব ও দৈনিক খুলনা গেজেটের তুরান হোসেন রানা, অপরাধ অনুসন্ধানের অজিত রায় এবং দৈনিক অনির্বাণের অবলেন্দু বিশ্বাসকে। খালাসপ্রাপ্ত সাংবাদিকরা বলেন, শুরু থেকেই তারা নির্দোষ ছিলেন এবং আদালতের রায়ে সেটিই প্রমাণিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি মিথ্যা মামলার বোঝা বহন করতে হয়েছে উল্লেখ করে তারা জানান, এ রায় তাদের পেশাগত মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। স্থানীয় সাংবাদিক মহল আদালতের এ রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি সত্য ও ন্যায়ের বিজয়। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানি মূলক মামলা দায়েরের প্রবণতা বন্ধ হবে এবং সংবাদকর্মীরা নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button