কোন খাদ্য ইফতারের জন্য উপকারি ? :ডা. গাজী মিজানুর রহমান

দিনভর না খেয়ে থাকার পর ইফতারর জন্য এক ধরনের শক। তাই হঠাৎ অতিরিক্ত ভাজাপোড়া বা মিষ্টি খেলে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়। ইফতার হওয়া উচিত পরিমিত, সুষম এবং ধীরে ধীরে। ইফতার শুরু করবেন যেভাবে ২টি খেজুর ও এক গ্লাস পানি দিয়ে শুরু করা ভালো। এরপর হালকা স্যুপ, ফল বা ছোলা জাতীয় প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। কিছু সময় বিরতি দিয়ে মূল খাবার গ্রহণ করুন। এভাবে খেলে রক্তে শর্করার ওঠানামা কম হয় এবং হজম সহজ হয়। সুস্থ মানুষের জন্য ভাজাপোড়া কমিয়ে বেকড বা সেদ্ধ খাবার বেছে নিন। ফল, শাকসবজি, ডাল, ডিম বা মাছ রাখুন।
অতিরিক্ত মিষ্টি ও কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য
একসাথে বেশি খাওয়া যাবে না। কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত খাবার যেমন ওটস, ডাল, সবজি রাখুন। অতিরিক্ত মিষ্টি, শরবত ও ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলুন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ও ইনসুলিনের সময় সামঞ্জস্য করুন। হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য লবণ ও তেল কম ব্যবহার করুন। ডিপ ফ্রাই খাবারের বদলে গ্রিল বা সেদ্ধ খাবার নিন। লাল মাংস কমিয়ে মাছ ও সবজি বাড়ান। গ্যাস্ট্রিক বা আলসার রোগীদের জন্য
অতিরিক্ত মসলা ও তেল এড়িয়ে চলুন। খালি পেটে অতিরিক্ত ভাজা খাবার বা ঝাল খাবেন না। ইফতার দেরি না করে সময়মতো করুন। কিডনি রোগীদের জন্য পানি ও লবণের পরিমাণ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করুন। উচ্চ পটাশিয়ামযুক্ত ফল খাওয়ার আগে পরামর্শ নিন। কিছু সাধারণ ভুল। একসাথে অনেক ভাজাপোড়া। অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয়। খুব দ্রুত খাওয়া। পানি না খাওয়া। রোজা আমাদের সংযম শেখায়। ইফতারেও সেই সংযম বজায় রাখা জরুরি। সুস্থ থাকতে চাইলে ইফতার হোক হালকা, সুষম এবং সচেতনতার সাথে। স্বাস্থ্য ঠিক থাকলে ইবাদতও হয় প্রশান্ত মনে।



