২৩ বছরে ২৭ বার অগ্নিকান্ড : পুড়ছে শতাধিক একর বনভূমি!

# সুন্দরবনে দাহ্য পদার্থ নিয়ে প্রবেশে বনবিভাগের কঠোর নজরদারি #
আবু-হানিফ (শরণখোলা) বাগেরহাট প্রতিনিধি ঃ শুষ্ক মৌসুমে সুন্দরবনে অনাকাঙ্ক্ষিত অগ্নিকান্ড প্রতিরোধে এবার কঠোর অবস্থানে বন বিভাগ। প্রথমবারের মতো নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রবেশপথে বিড়ি-সিগারেট ও যেকোনো দাহ্য পদার্থ নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।এ ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বন সংলগ্ন এলাকায় পোস্টার, হ্যান্ডবিল বিতরণ, আলোচনা সভা ও সতর্কতামূলক মাইকিং চলছে।
বন বিভাগ বলছে,শুষ্ক মৌসুমে একটু অসতর্ক মুহূর্তই বিপর্যয় ডেকে আনে। তাই আগে ভাগে নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা, উত্তর রাজাপুর,দক্ষিণ রাজাপুর, মোরেলগঞ্জের জিউধারা, নিশানবাড়িয়া ও মোংলা উপজেলার জিউধরা, চিলা, জয়মুনি, কপিলমুনির প্রবেশ পথে জেলে,বাওয়ালী ও স্থানীয় কেউ বিড়ি-সিগারেট কিংবা দাহ্য পদার্থ নিয়ে ঢুকতে পারবেন না।
অগ্নিকা-ের বেশিরভাগ ঘটনার পেছনে মানুষের অসচেতনতা বা দুর্বৃত্তের হাত থাকে। তাই প্রচারণার পাশাপাশি টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত ২৩ বছরে ২৭ বার অগ্নিকা-ে শতাধিক একর বনভূমি পুড়ে গেছে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে। শরণখোলা উপজেলার রাজাপুর ভোলারপাড় গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন আমাদের জীবন-জীবিকা। যেখান থেকে আয় না করলে সংসার চলে না। সেখানে এক শ্রেণির মানুষ ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য বৃহত্তম স্বার্থ নষ্ট করছে। বারবার আগুনে বন পুড়তে দেখে আমাদের কষ্ট হয়।বন বিভাগের এই উদ্যোগকে আমরা সমর্থন করি।কেউ নিষেধাজ্ঞা না মানলে কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন,গত দুই দশকে অগ্নিকা-ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।তাই এবার প্রতিরোধেই জোর দিচ্ছি। বনসংলগ্ন এলাকায় প্রতিদিন মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের সহযোগিতা ছাড়া বন রক্ষা সম্ভব নয়। আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছি।বন বিভাগের তদন্তে আগের অগ্নিকা-গুলোর ঘটনায় একশ্রেণির স্থানীয় দুর্বৃত্ত চক্রের সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছে।এবার যাতে এমন কোনো ঘটনা না ঘটে, সে জন্য টহল বাড়ানো হয়েছে এবং প্রবেশপথগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে এই জনপদ এখনও টিকে আছে শুধু সুন্দরবনের আশ্রয়ে।
দেশের সর্ব দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের অববাহিকায় গড়ে উঠেছে এ বিশ্ব ঐতিহ্য। এর অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সারা বছরই ভ্রমণ পিপাসুদের হাতছানি দেয়।তবে সুন্দরবন এখন অস্তিত্ব সংকটে। কিছু মানুষের লোভ-লালসা আর অপকর্মের শিকার হচ্ছে বননির্ভরশীল মানুষ ও গোটা বনের জীববৈচিত্র্য।



