হঠাৎ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো খুলনাসহ সারাদেশ : রিখটার স্কেল ৫.৪

# উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরায় ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত #
# পাকা ঘর বাড়িতে ফাঁটল
# এই নিয়ে ২য় বার কাঁপলো সাতক্ষীরা #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ জুম্মার নামাজ চলাকালে হঠাৎ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। নামাজরত অবস্থায় মসজিদ দুলে ওঠায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক দফা ঝাঁকুনির পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয় বলে জানিয়েছে খুলনা আবহাওয়া অধিদপ্তর। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪। খুলনা আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি এলাকা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সাতক্ষীরা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন। তিনি বলেন, সাতক্ষীরা জেলা ও এর আশপাশ এলাকায় ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছে এবং সেখানে শক্ত কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের সময় খুলনা নগরীর বিভিন্ন মসজিদে জুম্মার নামাজ চলছিল। কোন কোন স্থানে নামাজ শেষে দোয়া ও মোনাজাত চলছিল। হঠাৎ ঝাঁকুনি অনুভব করায় অনেক মুসল্লি আতঙ্কিত হয়ে মসজিদ থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। নগরীর বহুতল ভবন ও বাসাবাড়িতেও কম্পন টের পাওয়া যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে ভূমিকম্পের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মাসের প্রথম ২৬ দিনে অন্তত আটবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর আগে বুধবার রাতে মিয়ানমারে উৎপত্তি হওয়া ৫ দশমিক ১ মাত্রার একটি মাঝারি ভূমিকম্পে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা কেঁপে ওঠে। গত ১ ফেব্রুয়ারি সিলেটে ৩ মাত্রার মৃদু কম্পনের মধ্য দিয়ে মাসের ভূকম্পন শুরু হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি একই দিনে তিনবার কম্পন অনুভূত হয়, যার মধ্যে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ৪ দশমিক ১ মাত্রা এবং মিয়ানমারে ৫ দশমিক ৯ ও ৫ দশমিক ২ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প ছিল। এছাড়া ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটে আরও দুবার এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতকে ৪ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। এদিকে আমাদের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি বদিউজ্জামান জানান, সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। আকস্মিক এই কম্পনে সাতক্ষীরা সদর, আশাশুনি ও তালাসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশকিছু ঘরবাড়ি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ফাটল, কয়েকটি কাঁচাঘর বাড়ি ধসে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূমিকম্পটি অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেয়। তবে, এর উৎপত্তি স্থল আশাশুনি উপজেলায় বলে জানা গেছে। খুব অল্প দিনের ব্যবধানে সাতক্ষীরা জেলায় নতুন করে এই নিয়ে ২য় বার বড় ভূকম্পন অনুভূত হল। এর আগে উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলা। জেলা প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবাইকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪। গুগলের অ্যান্ড্রয়েড আর্থকুয়েক অ্যালার্ট সিস্টেমের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪.৯। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল খুলনা জেলা শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং সাতক্ষীরা থেকে ১৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৫ কিলোমিটার। গুগলের অ্যান্ড্রয়েড আর্থকুয়েক অ্যালার্ট সিস্টেমের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি স্থল ছিল আশাশুনি উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরত্বে। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা এবং পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কিছু এলাকাতেও (যেমন বারাসাত) এই ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে, তাৎক্ষণিকভাবে এই ভূমিকম্পে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সাতক্ষীরা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।



