স্থানীয় সংবাদ

একের পর এক নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা প্রমাণ করে বর্তমান সরকার নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে : বেগম নাজমুন নাহার নীলু

# জামায়াতে ইসলামী খুলনা মহিলা বিভাগের ইফতার মাহফিল #

খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য বেগম নাজমুন নাহার নীলু অভিযোগ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা প্রমাণ করে সরকার নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। এ সব ঘটনার দায় সরকারকে নিতে হবে। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আশ্রয়-প্রশ্রয় পাচ্ছে। সামাজিক অবক্ষয় চরমে পৌঁছেছে বলেই ছয় বছরের শিশুও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, যা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, সরকার প্রধানের বিভিন্ন কার্যক্রমের সংবাদ গুরুত্বসহকারে প্রচার হলেও দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনাগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন। তিনি দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রশাসনকে রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগের আহ্বান জানান। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় নগরীর হোটেল সিটি ইন এ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগরী মহিলা বিভাগের উদ্যোগে এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা মহানগরী মহিলা বিভাগীয় সেক্রেটারি বেগম শামসুন নাহারের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা ছিলেন যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মাসুমা পারভীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা মহিলা অঞ্চল পরিচালিকা বেগম রেজাউননেছা ও খুলনা জেলা মহিলা সেক্রেটারি অধ্যাপিকা আইনুন নাহার আঞ্জু। মহানগরী মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি নফিসা সিদ্দিকাহ ও অধ্যাপিকা তানজিলা খাতনের পরিচালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন মহানগরী মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি রেবেকা ইসলাম ও বেগম হোসনেয়ারা, ছাত্রীসংস্থার মহানগরী সভানেত্রী সাবিনা খাতুন, বেগম নাজমুন নাহার, বেগম আলেয়া, বেগম আজিজুন নাহান, এডভোকেট সাখিযা লিটন, সালমা আফিকা, ডা. ফেরদৌসী আক্তার, সাহিত্যিক শামীমা মীতা, ইঞ্জিনিয়ার মুনিয়া তামীম মুনা, অধ্যাপিকা শাহিনা পারভীন, অধ্যাপিকা বুশরা বেগম, এডভোকেট নিগার সুলতানা জানি, এডভোকেট হাসিনা, নাইস, এলিজাবেথ, সোহেলী শারমিন, কামরুজ্জামান বেবি, ডা. আসমা, ডা. আলভী প্রমুখ।
প্রধান অতিথি বেগম নাজমুন নাহার নীলু আরও বলেন, পবিত্র কুরআন নাজিলের মাস মাহে রমযানের পুরোপুরি হক আদায়ে সবাইকে সকল প্রকার প্রস্তুতি নিতে হবে। তাকওয়া আল্লাহ ভীতি অর্জনের মাধ্যমে রমযানকে কাজে লাগাতে হবে। বেশি বেশি ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে রমযানে ঈমানকে মজবুত করতে হবে। হালাল উপার্জনের মাধ্যমে নেকির পাল্লা ভারী করার উত্তম সময় হচ্ছে রমযান। রমযানকে সামনে রেখে অসৎ উপায়ে মজুদদারী করা হারাম। রোযাদাররা যাতে জুলুমের শিকার না হন সে জন্য অসাধু ব্যবসায়ীদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। গরিব মিসকিনকে বেশী বেশী দান খয়রাত করতে হবে। একজন রোযাদারকে ইফতার করালে ওই রোযাদারের পুরো সওয়াব লাভ করা যাবে, তবে তার রোযার সওয়াব কম হবে না। রমযানে বেশী বেশী ইবাদত বন্দেগির বদৌলতে বাকি ১১ মাস যাতে আমরা গুনাহমুক্ত জীবন যাপন করতে পারি সে দিকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তিনি পবিত্র মাহে রমযানের শিক্ষাকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে আত্মগঠন, তাক্বওয়া অর্জন এবং ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণে যাকাতের ভুমিকা উল্লেখ করে প্রধান বক্তা মাসুমা পারভীন বলেন, অনেকে যাকাতের অর্থে শাড়ী ক্রয় করে তা বন্টন করে থাকেন। এভাবে যাকাত আদায় হয়ে গেলেও আসলে প্রকৃতপক্ষে যাকাত গ্রহণকারীর তেমন উপকার হয় না। তাই যাকাত বন্টনের উত্তম পন্থা হলো যাকাত যাদেরকে প্রদান করা যায়, তাদেরে একজনকইে বা একটি পরবিারকেই যাকাতের সর্ম্পূণ র্অথ দিয়ে স্বাবলম্বী করে দেয়া ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button