সম্পাদকীয়

সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে

# ইরান যুদ্ধের থাবা অর্থনীতিতে #

গাজায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধ হয়নি। এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক আইন-কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইরানে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সীমিত সক্ষমতায় ইরানও পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জ্বলে উঠেছে যুদ্ধের আগুন। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও তার বড় ধাক্কা লাগতে পারে, শঙ্কার বার্তা দিচ্ছে বিশেষজ্ঞমহল। আলোচনার পথ পরিহার করে গত শনিবার ইরানজুড়ে আকস্মিক হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এতে প্রথম দিনই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
দেড় শতাধিক স্কুল শিক্ষার্থীসহ পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। এ ধরনের বেপরোয়া, একতরফা পদক্ষেপ আবারও প্রমাণ করল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আসলে আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতির কোনো তোয়াক্কা করেন না। আমরা এ ধরনের আগ্রাসনের নিন্দা জানাই। গাজায় গণহত্যায় ইসরায়েলকে জবাবদিহি করতে ব্যর্থ হয়েছে বিশ্ব। এবার ইরানের ওপর একই ধরনের যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে তেহরান। তেহরান থেকে কালের কণ্ঠের সরেজমিন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর ইরানজুড়ে চলছে মাতম। মসজিদ-ই-জামকারানে লাল পতাকা ওড়ানো হয়েছে এর অর্থ হলো কঠোর প্রতিশোধ নেবে ইরান। এ থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হবে। আর সেটি হলে অর্থনীতিতে মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়বে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে বহির্বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। সন্দেহ নেই, এতে বিশ্বে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে বড় ধরনের চাপে পড়বে বাংলাদেশের জ্বালানি খাত। কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশই আমদানিনির্ভর, যার একটি বড় অংশ আসে কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। আর আমাদের তেল-গ্যাস আমদানির ৯০ শতাংশই হরমুজ প্রণালি নির্ভর। কাজেই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে দেশের সামনে বড় অনিশ্চয়তা অপেক্ষা করছে। জ্বালানি খাত ছাড়াও বাংলাদেশের প্রবাস আয় বা রেমিট্যান্সে খরা দেখা দিতে পারে। কেননা এর বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত শ্রমিকদের কাছ থেকে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ৫০ থেকে ৬০ লাখ বাংলাদেশি মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করছেন। বৈধ-অবৈধ হিসাবে এই সংখ্যা আরো বেশি। তাঁদের কাছ থেকে আসা আর্থিক প্রবাহ বন্ধ হলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসি। তাঁর পরামর্শÍআগাম প্রস্তুতি, কৌশলগত পরিকল্পনা ও বহুমাত্রিক সমন্বয়ই হতে পারে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রধান উপায়। সর্বোপরি যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘসহ বিশ্বনেতাদের উদ্যোগী হতে হবে। আর সে ক্ষেত্রে আলাপ-আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। যুদ্ধ কোনো সমাধান হতে পারে নাÍএই বিষয়টি মোড়ল রাষ্ট্রগুলোকে বুঝতে হবে। তাই আলোচনার পথ উন্মুক্ত করে চলমান সংঘাতের অবসান হবেÍএটিই কাম্য।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button