ভারত মহাসাগরে মার্কিন রণতরীতে ইরানি হামলা

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ পারস্য উপসাগরের সীমা ছাড়িয়ে এবার ভারত মহাসাগরে নিজেদের সামরিক শক্তির জানান দিল ইরান। প্রথমবারের মতো এই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ডেস্ট্রয়ারে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এই হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন আর নির্দিষ্ট কোনো সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সমুদ্রেও ছড়িয়ে পড়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস-৪’ অভিযানের আওতায় এই শক্তিশালী হামলা চালানো হয়। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘গাদর-৩৮০’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ‘তালাইয়ে’ নামের কৌশলগত ক্রুজ মিসাইল। গাদর-৩৮০ একটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। ১ হাজার কিলোমিটার পাল্লার তালাইয়ে স্মার্ট ক্রুজ মিসাইলটি মাঝপথে লক্ষ্য পরিবর্তন করতে পারে, যা রাডার ফাঁকি দিতে অত্যন্ত কার্যকর। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারত মহাসাগরের মতো দূরবর্তী স্থানে মার্কিন নৌবহরকে টার্গেট করা কেবল একটি হামলা নয়, বরং ওয়াশিংটনের জন্য একটি কড়া বার্তা। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, মার্কিন ডেস্ট্রয়ারটি যখন একটি ট্যাংকার থেকে জ্বালানি নিচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই আঘাত হানা হয়। এই অপারেশনাল দুর্বলতার সুযোগ নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা প্রকাশ পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইরানের লক্ষ্যবস্তু কেবল একটি জাহাজেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আইআরজিসি দাবি করেছে, এই অভিযানে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’কেও নিশানা করা হয়েছে। এছাড়া ইসরায়েলের অভ্যন্তরে সংবেদনশীল স্থাপনা এবং কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও সৌদি আরবে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘাঁটিতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। ভারত মহাসাগর বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট। এখানে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার অর্থ হলো বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকি এবং তেলের বাজারে অস্থিরতা। ইরান যদি দীর্ঘ মেয়াদে এই অঞ্চলে মার্কিন উপস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে, তবে তা কেবল সামরিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যেও বড় প্রভাব ফেলবে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরান মূলত তিন স্তরের কৌশল গ্রহণ করেছে: ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে সরাসরি সামরিক জবাব; আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলোয় থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে চাপ সৃষ্টি ও দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে মনস্তাত্ত্বিক বিজয়। সমুদ্র থেকে মরুভূমি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া এই উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। যেখানে মার্কিন-ইসরায়েল জোটকে এখন প্রতিটি পদক্ষেপে নতুন করে হিসাব কষতে হচ্ছে।



