টার্গেট কিলিং আতঙ্কে নগরী : ৫ দিনে ৩ হত্যা

# খুলনায় প্রকাশ্যে শ্রমিকদল নেতা খুন #
কামরুল হোসেন মনি ঃ খুলনা মহানগরীতে প্রকাশ্যে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে রূপসা উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি ও রূপসা–বাগেরহাট আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মাসুম বিল্লাহকে (৫৫)। বুধবার (৪ মার্চ) রাত ৯টার দিকে ডাকবাংলা মোড়ের বাটা শোরুমের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের মৃত মিনহাজ উদ্দীন মুন্সীর ছেলে। তিনি র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী মিনা কামাল ওরফে ফাটাকেষ্ট’র ছোট ভাই বলে জানা গেছে।
পরিকল্পিত ‘কন্ট্রাক্ট কিলিং’: পুলিশ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত প্রায় ৯টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত মাসুম বিল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়, পরে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনা মহানগর পুলিশ-এর উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো: তাজুল ইসলাম বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত কন্ট্রাক্ট কিলিং। সাতজন সন্ত্রাসী টাকার বিনিময়ে এ হত্যাকা-ে অংশ নেয়। ‘বি’ কোম্পানির সক্রিয় সদস্যরা জড়িত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার পর অশোক ঘোষ নামে এক ব্যক্তিকে একটি বিদেশি পিস্তলসহ আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) খুলনা সদর থানার এসআই আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ওসি মো. কবির হোসেন।
একই রাতে গুলিবিদ্ধ রিকশাচালক ঃ
একই রাতে খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে হাবিবুর রহমান নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে লবনচরা থানাধীন রহমতিয়া জামে মসজিদের পাশে এ ঘটনা ঘটে। আহত হাবিবুর সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি এলাকার বাসিন্দা, পেশায় রিকশাচালক।
লবনচরা থানার ওসি মো. তুহিনুজ্জামান জানান, সন্ত্রাসীরা অন্য একজনকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে হাবিবুর গুলির সামনে পড়ে যান। গুলি তার পিঠের ডানপাশে বিদ্ধ হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়।
গুলিতে আহত আজিজের মৃত্যু ঃ
গত ১ মার্চ রাতে নগরীর আরেকটি ঘটনায় প্রতিপক্ষের গুলিতে গুরুতর আহত হন আ. আজিজ (৩৫)। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তাকে প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছিল।
পুলিশ জানায়, মোটরসাইকেলে আসা দুই সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং পরে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। আজিজ খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
দিঘলিয়ায় যুবদল নেতা খুন ঃ এদিকে দিঘলিয়া উপজেলায় পথের বাজারের ইজারা নিয়ে দলীয় কোন্দলের জেরে যুবদল নেতা খান মুরাদ খুন হন। তিনি সেনহাটি ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। গত শুক্রবার বিকেলে বাজার এলাকায় হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাড়ছে উদ্বেগ ঃ ডাকবাংলা মোড় খুলনার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা। প্রকাশ্যে এমন হত্যাকা-ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ী ও পথচারীরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে নগরীতে সহিংসতার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে খুলনায় অতীতেও সহিংসতার নজির রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্রুত বিচার ও কার্যকর আইন প্রয়োগ না হলে টার্গেট কিলিংয়ের প্রবণতা আরও বেড়ে যেতে পারে। বর্তমানে পুরো মহানগরীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।



