চাঁদা না পেয়ে কলেজশিক্ষককে মারধর : রাজশাহীতে ২ ছাত্রনেতা গ্রেপ্তার

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ রাজশাহীতে চাঁদা না পেয়ে এক কলেজশিক্ষককে মারধরের অভিযোগে দুই ছাত্রনেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিক্ষক আসাদুজ্জামান জুয়েলের দায়ের করা মামলায় শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত ১২টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার (৭ মার্চ) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক জুয়েল রাজশাহী মহানগরের শাহ মখদুম কলেজের সহকারী অধ্যাপক।
গ্রেপ্তার দুই ছাত্রনেতা হলেন শাহ মখদুম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মারুফ শিহাব এবং রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান চন্দন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বোয়ালিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জানান, শনিবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত ৫ মার্চ থানায় দায়ের করা এজাহারে শিক্ষক আসাদুজ্জামান জুয়েল উল্লেখ করেন, গত তিন মাস ধরে ছাত্রদল নেতা শিহাব ও চন্দন তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় গত বছরের ২৬ নভেম্বর তারা চাকু দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখান এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। এজাহারে আরও বলা হয়, সর্বশেষ গত বুধবার (৪ মার্চ) রাত ১০টার দিকে কাদিরগঞ্জ এলাকায় তার বাসার নিচে তাকে একা পেয়ে মারধর করেন এবং আবারও প্রাণনাশের হুমকি দেন। তবে গ্রেপ্তারের আগে শুক্রবার রাত ১০টায় মহানগরীর নিউমার্কেট এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন ছাত্রদল নেতা শিহাব ও চন্দন। সেখানে তারা দাবি করেন, শিক্ষক আসাদুজ্জামান জুয়েল আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং বিভিন্নভাবে দলটির পক্ষে কাজ করেন। তিনি নিয়মিত কলেজে দায়িত্ব পালন করেন না এবং শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেন। তারা আরও বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষক জুয়েল আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করেছেন। এছাড়া গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মহানগরীর কুমারপাড়ায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলীয় ব্যানার টাঙানোর ঘটনার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় তিনি তাদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ করেছেন বলে তারা দাবি করেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষক আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, তাদের অসংখ্য ভয়েস রেকর্ড তার কাছে রয়েছে। তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিরোধিতা করেননি, বরং সহযোগিতা করেছেন। তিনি নিয়মিত কলেজে ক্লাস নেন। নিজেদের বাঁচাতে তারা নানা ধরনের কথা বলছেন। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান বলেন, মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এখন অভিযোগের তদন্ত করা হবে।



