বিএনপির এমপিদের ‘সংস্কার পরিষদের’ শপথ নেওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে সম্মান জানিয়ে সরকারি দল বিএনপির সদস্যদের ‘সংস্কার পরিষদের’ শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে অস্বীকার করলে ২০২৬ সালের বর্তমান বাস্তবতার অস্তিত্বও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের বিরোধীদলীয় সভাকক্ষে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সংসদ ভবনের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এ কথা বলেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনকে সামনে রেখে বিরোধী দলের করণীয় ঠিক করতে এ সভার আয়োজন করা হয়। সরকারি দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আসুন, জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে সম্মান করি। জুলাইকে সম্মান করলেই ২০২৪-এর চেতনা বেঁচে থাকবে এবং ২০২৬ অর্থবহ হবে। ২০২৪-এর চেতনাকে অস্বীকার করলে ২০২৬-এর অস্তিত্বও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ এ প্রক্রিয়ার পক্ষে রায় দিয়েছেন, একে অগ্রাহ্য করার সুযোগ নেই। গণভোটে যে চারটি বিষয় উত্থাপিত হয়েছিল, আমরা চাই সেগুলো হুবহু বাস্তবায়ন করা হোক।’ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের গুম-খুন, নির্যাতন ও বৈষম্যের অবসানে অসংখ্য শহীদের রক্তের বিনিময়ে এ পরিবর্তন এসেছে। জুলাই আন্দোলন বলেছিল, উই ওয়ান্ট জাস্টিস।
সেই লক্ষ্যেই এবার জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি সংস্কার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহত্তর স্বার্থে আমরা গণভোটের রায় মেনে নিয়েছি। একই অধ্যাদেশের আওতায় আমরা বিরোধী দলের সদস্যরা সংস্কার পরিষদ ও সংসদ সদস্য দুটি শপথই নিয়েছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সরকারি দলের সদস্যরা এখনো সংস্কার পরিষদের প্রথম শপথটি গ্রহণ করেননি।’ সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা একটি দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চাই। আমরা সব বিষয়ে অন্ধভাবে বিরোধিতা করব না, আবার না বুঝে কোনো সহযোগিতাও করব না। দেশ ও জাতির কল্যাণে সরকারের পদক্ষেপে আমাদের সমর্থন থাকবে। তবে দেশের ক্ষতি হয়Íএমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে আমরা আমাদের দায়িত্ব অনুযায়ী কঠোর ভূমিকা পালন করব।’ বিরোধী দলের কর্মপন্থা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ‘প্রথমে আমরা ভুল ধরিয়ে দেব, সংশোধনের সুযোগ ও পরামর্শ দেব। যদি দেখি পরামর্শে কাজ হচ্ছে না, তাহলে প্রতিবাদ করব। তাতেও কাজ না হলে জনগণের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনে সংসদের ভেতরে এবং রাজপথে লড়াই করব। এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। একান্ত বাধ্য না হলে আমরা হুটহাট আদালতে যাওয়ার পক্ষে নই।’ গণতন্ত্রকে টেকসই করতে জাতীয় সংসদের স্পিকার নিরপেক্ষ ও ন্যায়সঙ্গত ভূমিকা পালন করবেন এবং বিরোধী দলকে পর্যাপ্ত কথা বলার সুযোগ দেবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ডা. শফিক। প্রবাসীদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘দেশের বাইরে থাকা প্রবাসীরা আমাদের আত্মার অংশ। জুলাইয়ের উত্তাল দিনগুলোতে তারা রেমিট্যান্স বন্ধ করে এবং প্রবাসে মিছিল-সংগ্রাম করে, কারাবরণ করে যে ভূমিকা রেখেছেনÍতা আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। প্রবাসীদের ভোটাধিকার এবং তাদের মৃতদেহ সরকারি খরচে দেশে আনার যে দাবি আমরা প্রথম তুলেছিলাম, সরকার তার বাস্তবায়ন শুরু করায় এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় খোলায় আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই। জনগণের কল্যাণে সরকার উদ্যোগ নিলে আমরা এভাবেই অভিনন্দন জানাব।’ পরিশেষে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত হয়ে একটি নিরাপদ, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বিরোধীদলীয় নেতা। একইসঙ্গে একাদশ দলের সংসদ সদস্যরা যেন তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেন, সেজন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।



