আনিস আলমগীরের জামিন

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীর জামিন পেয়েছেন। এর ফলে তার বিরুদ্ধে থাকা দুটি মামলাতেই জামিন হওয়ায় কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী। বুধবার (১১ মার্চ) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে একই আদালত গত ২৮ জানুয়ারি এ মামলায় আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছিলেন। মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৫ জানুয়ারি সাংবাদিক আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করে দুদক। মামলায় বলা হয়, তার নামে প্রায় ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৫ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়, পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা। অন্যদিকে আনিস আলমগীরের বৈধ আয়ের উৎস থেকে মোট আয় পাওয়া গেছে ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। এর মধ্যে অতীত সঞ্চয়, টক শো ও কনসালট্যান্সি, প্লট বিক্রি এবং ব্যাংক সুদের অর্থ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই হিসাবে তার ঘোষিত আয়ের তুলনায় ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার অতিরিক্ত সম্পদ পাওয়া গেছে, যা দুদকের মতে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত। এদিকে, গত ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার একটি জিম থেকে বের হওয়ার সময় আনিস আলমগীরকে হেফাজতে নেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
সেই রাতেই জুলাই রেভ্যুলেশনারি অ্যালায়েন্সের কেন্দ্রীয় সংগঠক আরিয়ান আহমেদ রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আনিস আলমগীর, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ চারজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় ১৫ ডিসেম্বর আদালত আনিস আলমগীরের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে গত ৮ মার্চ তিনি ওই মামলায় জামিন পান। সবশেষে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায়ও জামিন পাওয়ায় তার মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি।



