ডলার হঠাতে ইরানের নতুন চাল : তেল বিক্রি হবে এখন ইউয়ানে

# বিশ্বজুড়ে ডলারকে প্রাধান্য দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাড়াবাড়ি, বিকল্প চিন্তা করছে বাকি শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো #
প্রবাহ রিপোর্ট ঃ বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্য কমাতে এবার বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ইরান। বিশ্বজুড়ে ডলারকে প্রাধান্য দেওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বেচ্ছাচারিতা, বাড়াবাড়ি চরমে পৌঁছেছে বলছেন বাকি শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে ডলারের বদলে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে লেনদেনের পরিকল্পনা করছে তেহরান। শনিবার (১৪ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই পরিকল্পনার কথা জানান। ইরানি ওই কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কথা ভাবছে। তবে এক্ষেত্রে একটি বড় শর্ত জুড়ে দেওয়া হবে; আর তা হলো তেলের দাম পরিশোধ করতে হবে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে। সাধারণত বিশ্ববাজারে তেলের লেনদেন ডলারে হলেও, ইরান এখন সেই প্রথা ভেঙে চীনের মুদ্রাকে প্রাধান্য দিতে চাইছে। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই অস্থিরতায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এখন সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ২০২২ সালের জুলাই মাসে তেলের দাম যে পর্যায়ে ছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তাকেও ছাপিয়ে গেছে। এতে করে বৈশ্বিক শেয়ারবাজার এবং জ্বালানি খাতে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এদিকে জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি দিয়ে জাহাজ চলাচল থমকে গেলে তার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার জানিয়েছেন, প্রণালিটি বাধাগ্রস্ত হলে খাদ্য, ওষুধ ও সারের মতো জরুরি সামগ্রীর সরবরাহ যেমন কঠিন হয়ে পড়বে, তেমনি বাড়বে পরিবহন খরচও। যা বিশ্বজুড়ে এক ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে। মূলত জ্বালানি বাণিজ্যে ডলারের প্রভাব কমিয়ে চীনের ইউয়ানকে প্রতিষ্ঠিত করার এই চেষ্টা সফল হলে বৈশ্বিক অর্থনীতির সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



