জাতীয় সংবাদ

দিঘলিয়ায় দলীয়ভাবে সাড়ে ৮ হাজার ভিজিএফ কার্ডের চাউল বিতরণ

দিঘলিয়া প্রতিনিধি ঃ খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে মোট ভিজিএফ কার্ডের সংখ্যা ৯ হাজার ৮৮৫ টি। এরমধ্যে দলীয়ভাবে আট হাজার ৫৪৫ টি ভিজিএফ কার্ডের স্লিপ বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। বাকি ১ হাজার ৩৪০ টি কার্ডের স্লিপ বিতরণের সুযোগ পেয়েছে চার ইউনিয়নের ৪৮ জন ইউপি সদস্য। নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং মেম্বারদের এ সকল ভিজিএফ কার্ডের স্লিপ বিতরণের বিধান রয়েছে। সরকার প্রতিবছর ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আওতায় ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে সমাজের দুস্থ, অসহায় ও অতি দরিদ্র পরিবারগুলোকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে ১০ কেজি চাউল বিনামূল্যে প্রদান করে থাকে। দিঘলিয়ার সদর, বারাকপুর এবং গাজীরহাট ইউনিয়নে ইতিমধ্যে ভিজিএফ কার্ডের চাউল বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। আজ বুধবার সেনহাটী ইউনিয়নে বিতরণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সদর ইউনিয়নে মোট দুই হাজার ৫২২ টি কার্ডের মধ্যে দলীয়ভাবে বিতরণ করা হয়েছে ২০০০ কার্ডের স্লিপ । বাকী ৫২২ টি কার্ডের স্লিপ বিতরণের সুযোগ পেয়েছে ইউনিয়নের ১২ জন ইউপি সদস্য এবং একজন চেয়ারম্যান। বারাকপুর ইউনিয়নে এক হাজার ৯৫৭ টি কার্ডের মধ্যে এক হাজার ৫০০ কার্ডের স্লিপ বিতরণ করা হয়েছে দলীয়ভাবে। বাকি ৪৫৭ টি কার্ডের স্লিপ বিতরণের সুযোগ দেওয়া হয় ১২ জন ইউপি সদস্যকে। গাজীরহাট ইউনিয়নে এক হাজার ৬৬১ টি কার্ডের মধ্যে এক হাজার ৩০০ কার্ডের স্লিপ দলীয়ভাবে বিতরণ করা হয়। বাকি ৩৬১ টি কার্ডের স্লিপ বিতরণের সুযোগ দেয়া হয় ১২ জন ইউপি সদস্যকে। সেনহাটী ইউনিয়নের ৩ হাজার ৭৪৫ টি কার্ডের মধ্যে তিন হাজার কার্ডের স্লিপ দলীয়ভাবে এবং ৭০০ কার্ড চেয়ারম্যান এবং ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে বিতরণের প্রস্তাবে সমঝোতা না হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে আজ বুধবার দলীয়ভাবে বিতরণকৃত স্লিপের মাধ্যমে চাউল বিতরণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। দিঘলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হায়দার আলী মোড়ল বলেন, ‘সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিবছর আমরা ইউপি সদস্যদের প্রস্তুতকৃত তালিকা অনুযায়ী ভিজিএফ কার্ডের চাউল বিতরণ করে থাকি। কিন্তু এবছর আমরা মাত্র ৫২২ টি কার্ডের চাউল বিতরণের সুযোগ পেয়েছি। বাকি ২০০০ কার্ডের স্লিপ দলীয়ভাবে বিতরণ করা হয়েছে’। সেনহাটী ইউপি চেয়ারম্যান গাজী জিয়াউর রহমান বলেন, ভিজিএফ কার্ডের কিছু অংশ আমরা সারা জীবন দলকে দিয়ে থাকি। কিন্তু এবছর প্রথমে দল থেকে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় ইউনিয়ন পরিষদকে ৭০০ কার্ড দিবে, বাকি ৩ হাজার ৪৫ কার্ড দলীয়ভাবে বিতরণ করবে। কিন্তু ইউপি সদস্যরা এতে কেউ রাজি হয়নি। পরবর্তীতে অর্ধেক কার্ড ইউনিয়ন পরিষদ, বাকি অর্ধেক দলীয়ভাবে বিতরণের সিদ্ধান্ত হলেও পরবর্তীতে আমাকে ৮০০ কার্ড দিয়ে বাকি কার্ড তারা বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়। এ প্রস্তাবে আমি এবং আমার ইউপি সদস্যরা কেউ রাজি না হওয়ায় আমরা কার্ডের চাউল বিতরণের সিদ্ধান্ত ইউএনও’র উপর ন্যাস্ত করি’ এদিকে দলীয়ভাবে বিতরণকৃত কার্ডের চাউল থেকে অনেক দুস্থ, অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবার বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button