সম্পাদকীয়

খাল খনন কর্মসূচি সফল হোক

# সরকারের এক মাস #

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের মেয়াদ গতকাল মঙ্গলবার একমাস পূর্ণ হলো। এই স্বল্প সময়ে সরকার ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফসহ বেশ কিছু ইতিবাচক কর্মসূচি চালু করেছে, যা জনমনে আশার সঞ্চার করেছে। সর্বশেষ গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। এর মাধ্যমে দেশের কৃষিক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আশা করা হচ্ছে। তবে এসব কর্মসূচি পুরোপুরি বাস্তবায়নে সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বহুল আলোচিত কর্মসূচি ছিল খাল খনন। ‘সবুজ বিপ্লব’ দিয়ে তিনি দেশের কৃষিকে সমৃদ্ধ করেছিলেন। একই স্বপ্ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত সোমবার দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরের সাহাপাড়া খালটি পুনঃখননের মধ্য দিয়ে সারা দেশে ৫৪টি জেলায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের মালিক হচ্ছেন জনগণ। মালিক যদি সঙ্গে থাকে, তাহলে আমরা যেকোনো পরিকল্পনা সফল করতে পারব।’ আমরা সরকারের এসব জনবান্ধব কর্মসূচির সফলতা কামনা করি। খাল খনন ও পুনঃখননের মাধ্যমে জনগণ কী কী সুফল পাবে তা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সাহাপাড়া খাল খনন প্রকল্পের সুবিধা পাবে প্রায় ৩১ হাজার কৃষক। প্রায় এক হাজার ২০০ হেক্টর জমি সেচ সুবিধার আওতায় আসবে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করেন। এ কথা ঠিক যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের স্বল্প সময়ের মধ্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে হাত দিয়েছে। এ ছাড়া তারেক রহমানের সাধারণ চলাফেরা অনেককে আকৃষ্ট করেছে। আমরা চাই, সরকারের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকুক। অন্যদিকে বিশ্লেষকরা সরকারের উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি নিয়ে সতর্ক করেছেন। কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় ৫০ লাখ গ্রামীণ দরিদ্র পরিবারকে মাসে আড়াই হাজার টাকা করে দিলে বছরে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। চার কোটি পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনা হলে, বছরে প্রায় ৯৬ হাজার কোটি থেকে এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এই বিপুল অর্থের সংস্থান কিভাবে হবে? সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, ‘এটি বিশাল আর্থিক প্রতিশ্রুতি। বিএনপি বিভিন্ন উৎস থেকে এই অর্থ জোগাড় করার কথা বললেও সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ এখনো পরিষ্কার নয়।’ আমরা আশা করছি, সরকার দক্ষতার সঙ্গে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করলে অনেক কঠিন পথ অতিক্রম করা যায়। তাতে জনগণও আস্থা ফিরে পাবে। প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, জনগণ সঙ্গে থাকলে যেকোনো পরিকল্পনার বাস্তবায়নই সম্ভব।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button