প্রত্যাশিত পথে এগিয়ে যাক দেশ

# প্রথম মাসে সরকারের শুভ সূচনা #
বাংলাদেশের রাজনীতিতে অতি পরিচিত সংস্কৃতি হলো নির্বাচনের আগে ভূরি ভূরি প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং ভোটের পর সব বেমালুম ভুলে যাওয়া। এ ক্ষেত্রে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এবার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সরকারের মেয়াদের এক মাস হতে না হতেই বেশ কিছু জনবান্ধব কর্মসূচি দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। গতকাল কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিগগিরই সরকার আরো প্রয়োজনীয় কাজে হাত দিতে যাচ্ছে। আমরা সরকারের এসব তৎপরতার পূর্ণ সফলতা কামনা করি। জনগণের রায় নিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু করেছে বর্তমান সরকার। এই হিসাবে ১৭ মার্চ সরকারের মেয়াদ এক মাস পূর্ণ হয়েছে। একটু পেছনে ফিরলে আমরা দেখতে পাব, মেয়াদের মাত্র ২১ দিনের মাথায় জনগণের বহুল প্রত্যাশিত ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে সরকার। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ভাতা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিশ্রুতি পূরণের ধারাবাহিকতায় খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন তারেক রহমান। বলা বাহুল্য, এসব কাজ সাধারণ মানুষের মনে আশার সঞ্চার করেছে। খবরে বলা হয়েছে, এই এক মাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে সরকার সামনের দিনগুলোতেও একইভাবে এগিয়ে যেতে চায়। সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, অর্থনীতি চাঙ্গা করা, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং প্রশাসনে জবাবদিহি নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নতুন দিকনির্দেশনা আসতে পারে। আমরা জানি, বিগত অন্তর্র্বতী সরকারের আমলে দেশের অর্থনীতি ছিল স্থবির, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রায় বন্ধ ছিল। মুদ্রাস্ফীতি, বেকার সমস্যায় সাধারণ মানুষের জীবনে ছিল ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। কাজেই নতুন সরকারের কাঁধে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো দেশের অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনা। প্রবাহ’র আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্ষণের অভিযোগসংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে মন্ত্রণালয়গুলোকে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গত মঙ্গলবার এই নির্দেশ দেন তিনি। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, দেশের চলমান ও পূর্ববর্তী সব ধর্ষণ মামলার বিচার দ্রুত নিশ্চিতে মন্ত্রিসভায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি বিশেষ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এই অপরাধ নির্মূলে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে একটি ‘স্পেশাল ড্রাইভ’ (বিশেষ পদক্ষেপ) নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বলা বাহুল্য, ধর্ষণ এখন সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এমনকি ধর্ষণের ঘটনায় বিচারহীনতা ও দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া অতি সাধারণ ঘটনা। এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে সরকারের কঠোর ও জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ প্রয়োজন। ভুক্তভোগীরা যেন ন্যায্য বিচার পান, এটিই কাম্য। আমরা চাই, সরকারের জনবান্ধব কর্মসূচি আরো বিস্তৃত হোক। দেশের মানুষের প্রত্যাশিত পথে দেশ এগিয়ে যাক। জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি পরিষেবা পৌঁছে যাক। সামনের দিনে বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অনেক চ্যালেঞ্জ থাকবে। আমরা আশা করি, সরকার দক্ষতার সঙ্গে সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দেশকে এগিয়ে নেবে।
