স্থানীয় সংবাদ

দিঘলিয়ায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আত্মঘাতী গুলিতে অকালে জীবন গেলো সাগরের

# থানায় মামলা দায়ের #

দিঘলিয়া প্রতিনিধিঃ দিঘলিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের দেয়াড়া কলোনীর পাশেই চিহ্নিত সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের আতœঘাতী গুলিতেই অকালে জীবন গেলো সাগর (৩০) নামক যুবকের। এ চিহ্নিত সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সকলের বসবাস দেয়াড়া কলোনী এলাকায়। বর্তমানে উল্লেখিত কলোনী এলাকা নানা অপরাধীদের অভয়ারণ্য এমনটাই জানিয়েছেন এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষ ও বিজ্ঞমহল। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়,
গত ৩ ফেব্রুয়ারী এই চিহ্নিত সশস্ত্র সন্ত্রাসীচক্র রাজীব (৩০) নামক জনৈক যুবককে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে দেয়াড়া কলোনী খেয়াঘাটের নৌকায় তুলে মাঝ নদীতে নিয়ে আঘাতের পর আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে মাঝ নদীতে ফেলে দেয়। এ খবর মানুষের মুখে মুখে চাওর হতে থাকলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা গোপনে তদন্ত শুরু করে। গত ৯ ফেব্রুয়ারী খুলনা নৌপুলিশ ভৈরব নদীর ৬ নং ঘাট এলাকা থেকে লাশ উদ্ধারের পর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার গোয়েন্দা তৎপরতা বেড়ে যায়। এ ব্যাপারে খুলনা নগরীর খালিশপুর মেট্রো থানা মামলা দায়ের হয় এবং মামলাটি তদন্ত করছে খুলনা নৌ থানা পুলিশ। এমনটাই জানিয়েছেন খালিশপুর মেট্রো থানার অফিসার ইনচার্জ। এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত চিহ্নিত সন্ত্রাসী চক্র ঘটনার পর আতœগোপনে চলে গেলেও রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে পৃষ্ঠপোষকতাদানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অজ্ঞাত কারণে ঢিলে হওয়ায় এ চিহ্নিত সশস্ত্র সন্ত্রাসীচক্র পুণরায় এলাকায় এসে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তাদের অপতৎপরতার কারণে দেয়াড়া কলোনী এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষ এদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। চুরি, চাঁদাবাজি, হত্যা, ধর্ষণ, মাদকের আমদানি ও বেচাকেনা, ছিনতাইসহ এমন কোন কাজ নেই যা এ চক্র করেনা। রাজীবের পাওনা টাকা দেওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে বলে রাজীবের স্ত্রী জানিয়েছে। রাজীবের পিতাও এমন অভিযোগ করেছেন। কিসের টাকা কি কারণে হত্যা করল রাজীবকে সবকিছু আজও মানুষের মুখে মুখে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও ঘটনা জেনেও কেনো যেনো সেদিন নিরব হয়ে গেলো। এ ঘটনার পর তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তারই ফলশ্রুতিতে তারা দলবদ্ধ হয়ে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে টাকা ছিনতাই কাজে লিপ্ত হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার দেয়াড়া খেয়াঘাটের ব্যবসায়ী জবেদ আলীর পুত্র তাহিদুল ইসলাম (৩০) দোকান বন্ধ করে নগদ টাকাসহ ৩ টা বিকাশ ব্যাংকিং কাজে নিয়োজিত মোবাইল একটা ব্যাগে নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। সে দেয়াড়া স্টিমারঘাট সংলগ্ন মেসার্স পপুলার জুট লিঃ এর পাট গুদামের পাশে এলে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ৬/৭ জনের একটা চিহ্নিত সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল আনুমানিক সোয়া ১ টার দিকে তাকে ঘেরাও করে পথ রোধ করে। কয়েকজন তাকে ঝাপটে ধরে এবং তার হাতে থাকা টাকা ও মোবাইলের ব্যাগ কেড়ে নিতে চেষ্টা করে। এ সময় আগত সন্ত্রাসী চক্রের দলনেতা গুলি করার নির্দেশ দিলে অস্ত্রধারী এক সন্ত্রাসী ব্যবসায়ী তাহিদকে লক্ষ্য করে গুলি করলে গুলি কক্ষভ্রষ্ট হয়ে আগত সন্ত্রাসীর ছুড়া গুলি তাহিদের হাতের নিচ দিয়ে তার শরীর থেতলে গিয়ে আগত সন্ত্রাসীদের অপর সহযোগী সাগরের পাজরে গুলি লাগে। এ সময় গুলির শব্দে কিংকর্তব্য বিমুঢ় হয়ে পড়লে বাকী সন্ত্রাসীরা তাহিদের টাকা ও মোবাইলের ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এঘটনার পর আহতদের ডাক চিৎকারে আসপাশের লোকজন ছুটে এসে আহত তাহিদ ও সাগরকে প্রথমে দিঘলিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাগরকে মৃত ঘোষণা করে। সংবাদ পেয়ে দিঘলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ২৭ মার্চ শুক্রবার সকালে দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহআলম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মৃত সাগরের বাড়ি যান এবং ঘটনার সাথে জড়িত থাকা কতিপয় চিহ্নিত সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন। অতঃপর তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। সাগরের স্বজনরাও খবর পেয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাগরের কাছে যায়। স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে সাগরের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। গতকাল শুক্রবার বিকালে ময়নাতদন্তের পর স্বজনরা লাশ বাড়িতে এনে দাফন কার্য সম্পন্ন করে। এ ছিনতাই ঘটনায় ব্যবসায়ী তাহিদুল ইসলাম বাদি হয়ে দিঘলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ১২ তাং ২৭/৩/২০২৬ ইং। এ মামলার আসামী একজন মৃত্যুবরণ করায় বর্তমানে আসামী ৩ জন। চিহ্নিত সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও তাদের ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীরা ঘটনার পর থেকে আতœগোপনে চলে গেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। অস্ত্র ও ছিনতাই হওয়া টাকাও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button