সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থেকে ডাকাত সর্দার ইয়ার আলী গ্রেফতার অস্ত্র : গুলি ও মাদক উদ্ধার

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ঃ সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থেকে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার ইয়ার আলীসহ তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও পুলিশের যৌথবাহিনী। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের শংকরপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের বাড়ি থেকে ডাকাত সর্দার ইয়ার আলীকে এবং তারই দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় কৃষ্ণনগর এলাকা থেকে তার সহযোগী আরিফুল ইসলাম উজ্জ্বলকে মোটর সাইকেলসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি, দুটি ওয়াকিটকি ও ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। এদিকে, তাদের গ্রেপ্তারের পর এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ডাকাত সর্দার ইয়ার আলী (৪৪) কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের শংকরপুর গ্রামের আব্দুল জব্বার তরফদারের ছেলে এবং তার সহযোগী আরিফুল ইসলাম উজ্জ্বল (৩৪) একই উপজেলার বেনাদোনা গ্রামের মাহমুদ আলী বিশ^াসের ছেলে।
কালিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজীব হাসান জানান, আন্তঃজেলা ডাকাত দলের প্রধান ইয়ার আলী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরি, ডাকাতি, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা- পরিচালনা করে আসছিলো। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার ও র্যাব-৬ এর সাতক্ষীরা ক্যাম্পের কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জায়েন উদ্দীন মুহাম্মদ জিহাদের নেতৃত্বে পুলিশ ও র্যাবের একটি টিম শুক্রবার রাতে উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের শংকরপুর গ্রামে অভিযান চালান। এসময় ওই এলাকার জনৈক আলমগীরের বাড়ি থেকে ইয়ার আলীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি, ২টি ওয়াকিটকি সেট ও ১০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ইয়ার আলীর বিরুদ্ধে কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটাসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, হত্যা, চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ ২৪টির অধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সে পলাতক ছিল। তার দেওয়া তথ্য মতে পরে ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় কৃষ্ণনগর এলাকা থেকে তার সহযোগী আরিফুল ইসলাম উজ্জ্বলকে মোটর সাইকেলসহ গ্রেপ্তার করা হয়। সম্প্র্রতি মৌতলার এক বিকাশ এজেন্টকে জখম করে ১০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ইয়ার আলীর সম্পৃক্ততা ছিলো। জিজ্ঞাসাবাদে ছিনতাইয়ের ঘটনায় তার ভাই বাহার আলী আলী, রামনগরের ইয়াবা ব্যবসায়ি সাইফুল, বিল্লাল হোসেন, আলেক ওরফে ইসলাম, আশাশুনির জহুরুল ও হাবিবুল্লাহ জড়িত ছিল বলে স্বীকার করে। ইয়ার আলী গ্রেপ্তারের আগেই যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে তার ভাই সন্ত্রাসী বাহার আলী পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরো জানান, গ্রেপ্তারকৃত দূধর্ষ ডাকাত ইয়ার আলী ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।



