খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দন্ত বিভাগের সেবার মান নিয়ে অভিযোগ

# এখানে দাঁত তোলা ছাড়া অন্য কোনো চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাচ্ছে না
# রুট ক্যানেল, ফিলিং, দাঁত বাঁধানো ক্যাপ তৈরি সেবা বন্ধ হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে রোগীরা
খুমেক থেকে, শেখ মোঃ জাকির হোসেন ঃ খুলনার সর্ববৃহৎ সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর বহির্বিভাগের দন্ত বিভাগের সেবার মান নিয়ে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। রোগীদের দাবি, এখানে দাঁত তোলা ছাড়া কার্যত অন্য কোনো চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাচ্ছে না।
রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রুট ক্যানেল, ফিলিং, দাঁত বাঁধানো, ক্যাপ তৈরিÍএসব গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সেবা একেবারেই বন্ধ রয়েছে। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা। ফাতেমা নামের এক ভুক্তভোগী রোগী জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দাঁতের সমস্যায় ভুগছেন। বেসরকারি চিকিৎসকের কাছে গেলে রুট ক্যানেলের জন্য প্রায় ৬ হাজার টাকা চাওয়া হয়। এত টাকা জোগাড় করতে না পেরে তিনি সরকারি হাসপাতালে আসেন। কিন্তু এখানে এসে জানতে পারেন, এ ধরনের কোনো চিকিৎসাই দেওয়া হয় না। পরে চিকিৎসক তাকে শুধু ব্যথার ও গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।
অন্যদিকে, জালাল নামের আরেক রোগী জানান, দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করে দাঁত তুলতে এসেছেন। তার একটি দাঁতে ক্যাপ লাগানোর প্রয়োজন থাকলেও সেটি এখানে করা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “এত বড় হাসপাতাল, কিন্তু দন্ত বিভাগের অবস্থা খুবই শোচনীয়।”
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দন্ত বিভাগে বর্তমানে রয়েছেন পাঁচজন চিকিৎসক ও দুজন টেকনোলজিস্ট। এর মধ্যে একজন প্রেষণে রয়েছেন। এছাড়া বিভাগের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতিই নষ্ট হয়ে গেছে। নেই দাঁতের এক্স-রে মেশিন ও ওপিজি মেশিন, যা আধুনিক দন্ত চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত জরুরি। স্কেলার ট্রিপস মেশিনটিও পুরনো হয়ে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এমনকি প্রয়োজনীয় ফিলিং ম্যাটেরিয়ালসও নেই।
এসব কারণে রুট ক্যানেল, ফিলিং, পুটিং কিংবা ক্যাপ বসানোর মতো চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে রোগীরা হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন এবং তাদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। এ বিষয়ে দন্ত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সাহীদুজ্জামান বাবলু জানান, “আমাদের এখানে অনেক প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে। আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা পাঠিয়েছি, কিন্তু এখনো প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ পাইনি। এজন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সেবা বন্ধ রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারি খরচে যদি এসব চিকিৎসা সেবা চালু করা যায়, তাহলে রোগীদের খরচ যেমন কমবে, তেমনি সময়ও বাঁচবে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা: কাজী মো: আইনুল ইসলাম বলেন আগামী টেন্ডার এ ভারী যন্ত্রপাত্রী টেন্ডার গুরুত্বপূর্ণ যে যন্ত্রপাতিগুলো রয়েছে সেগুলো কেনার চিন্তাভাবনা রয়েছে, এছাড়া ছোটখাটো যে সমস্যাগুলো আছে, সেগুলো খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে, স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ সরবরাহ করে দন্ত বিভাগের পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু করা হোক নইলে সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল বেসরকারি চিকিৎসার ওপর নির্ভর করতে হবে।



