স্থানীয় সংবাদ

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বহির্বিভাগে চরম অব্যবস্থাপনা

# দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমছেই না #

খুমেক থেকে শেখ মোঃ জাকির হোসেন ঃ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর বহির্বিভাগে চরম অব্যবস্থাপনা, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং টেস্ট কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়মের সঙ্গে হাসপাতালের কিছু সরকারি স্টাফ, আউটসোর্সিং কর্মী ও কয়েকজন চিকিৎসক জড়িত। বহির্বিভাগ ঘুরে দেখা যায়, কোনো কোনো চিকিৎসকের কক্ষের সামনে রোগী নেই, আবার কোথাও উপচে পড়া ভিড়। অনুসন্ধানে জানা যায়, টিকিট কাউন্টারে কর্মরত কিছু ব্যক্তি নিজেদের পছন্দের চিকিৎসকদের কাছে রোগী পাঠিয়ে দেন। এর বিনিময়ে তারা আর্থিক সুবিধা পান বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া টিকিট কাউন্টার থেকে রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। যশোর থেকে আসা রিতা নামে এক রোগী জানান, তিনি নির্দিষ্ট একজন মহিলা চিকিৎসকের কাছে দেখাতে চাইলেও তাকে সেই কক্ষের টিকিট দেওয়া হয়নি। বরং অন্য কক্ষে যেতে বাধ্য করা হয়। পুনরায় অনুরোধ করলে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। অন্য এক ভুক্তভোগী তাহামিনা জানান, সকাল থেকে টিকিট কেটে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও দীর্ঘ সময় চিকিৎসা পাননি। এ সময় কয়েকজন দালাল তাকে বাইরে “ভালো ডাক্তার” দেখানোর প্রলোভন দিয়ে টানাটানি করে। তিনি বলেন “প্রায় তিন ঘণ্টা হয়ে গেছে, এখনো ডাক্তার দেখাতে পারিনি, প্রচ- গরমে খুব কষ্ট হচ্ছে। পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা একেবারেই ভালো না।” রোগীদের অভিযোগ, বহির্বিভাগে দালালদের সক্রিয় উপস্থিতির কারণে সাধারণ রোগীরা প্রতিনিয়ত হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি, টেস্ট কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগও উঠেছে, যেখানে কিছু অসাধু চক্র রোগীদের নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে কমিশন নিচ্ছে।এদিকে, যাদের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারাও যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন তদারকির দায়িত্বে যারা রয়েছেন তাদের ভিতর একাংশও কি এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন? এ বিষয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা: কাজী মো: আইনুল ইসলাম বলেন আসলে কিছু সমস্যা রয়েছে হাসপাতালের বর্হি- বিভাগে সেগুলো সমাধানের জন্য একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে, আমরা সার্বক্ষণিক চেষ্টা করছি বর্হ-বিভাগের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য রোগীদের দুর্ভোগ কমানোর জন্য, আর হাসপাতালে কোন স্টাফ আউটসোর্সিং কর্মী বা ডাক্তারও অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না, পাশাপাশি তিনি সবাইকে একটু সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন কারোর কোন অভিযোগ থাকলে সরাসরি কর্তৃপক্ষকে লিখিত বা মৌখিকভাবে জানার জন্য তিনি অনুরোধ করেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button