স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় মৎস্য ঘের লুট : অগ্নিসংযোগ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনার লবণচরা ও মাথাভাঙ্গা এলাকায় এক মৎস্য ব্যবসায়ীর ঘের থেকে মাছ লুট, অগ্নিসংযোগ এবং পরবর্তীতে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গতকাল সোমবার সকাল সারে ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী মো: আরিফুজ্জামান।
ভুক্তভোগী মোঃ আরিফুজ্জামান (আরিফ খলিফা) জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে লবণচরা ও মাথাভাঙ্গা এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে মৎস্য চাষ ও নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তার অভিযোগ, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে তার ছোট ভাই মোঃ আসাদুজ্জামান আরমানের মাছের ঘেরের অংশীদার সুবাস বাবুকে স্থানীয় সন্ত্রাসী আইনুল ইসলাম সোহাগ ও তার সহযোগীরা হুমকি দেয়। পরে একই দিন রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে তারা ঘেরে হামলা চালিয়ে সব মাছ লুট করে এবং ঘেরের একটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয় লোকজন ও টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় পরদিন লবণচরা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং-০৮, তারিখ: ১৮/০২/২০২৬)। তবে মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যায়। আরিফুজ্জামানের অভিযোগ, গত ৪ মার্চ রাতে একটি মোবাইল নম্বর থেকে নিজেকে আইনুল পরিচয় দিয়ে তাকে ফোন করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। একই সঙ্গে মাথাভাঙ্গা এলাকায় ব্যবসা চালাতে হলে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। টাকা না দিলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া ২৪ মার্চ দুপুরে ঘেরের পাহারাদার ঝানু বেগম ও সুবাস বাবুকেও পুনরায় হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরদিন ২৫ মার্চ আবারও থানায় গিয়ে বিষয়টি জানালে পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়। সর্বশেষ গত ২৮ মার্চ সকালে মাথাভাঙ্গায় যাওয়ার পথে অভিযুক্ত আইনুল ও তার সহযোগীরা তার মোটরসাইকেল থামানোর চেষ্টা করে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী। এ সময় তিনি বাধা অতিক্রম করে চলে গেলে তাকে গালাগালি ও পুনরায় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্ত আইনুলের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি, হত্যা, চুরি ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button