স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় ব্যস্ত সড়কগুলো কার্যত অঘোষিত পার্কিং জোন : নীরব প্রশাসন

কামরুল হোসেন মনি ঃ খুলনা মহানগরীতে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর সামনে অবাধ যানবাহন পার্কিং এখন নগরবাসীর জন্য এক নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। একই চিত্র দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনেও। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পার্কিং সুবিধা না থাকা কিংবা থাকলেও তা সাধারণ রোগী ও দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত না রাখায় সড়কের বড় একটি অংশ দখল করে রাখা হচ্ছে গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে। ফলে ব্যস্ত সড়কগুলো কার্যত অঘোষিত পার্কিং জোনে পরিণত হয়েছে।
গত কয়েকদিন খুলনা মহানগরী ব্যস্ততম সড়কগুলোতে সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায়-বিশেষ করে হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘিরে থাকা সড়কগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি লেগেই থাকে। এতে স্বাভাবিক যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়ে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে রোগী ও তাদের স্বজন-সবাই পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।
খুলনা মহানগরীর কেডিএ এভিনিউর ময়লাপোতা এলাকায় প্রায় ২০-২৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের সংখ্যাই বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডক্টরস পয়েন্ট, সিটি ইমেজিং সেন্টার খুলনা লিমিটেড, আই প্যাভিলিয়ন এ-ফ্যাকো সেন্টার, ফিজিওথেরাপি সেন্টার এবং সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অনেক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের সামনে দিনের বেশিরভাগ সময়ই সড়কের বড় অংশ জুড়ে যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। একই পরিস্থিতি আযম খান সরকারি কমার্স কলেজসংলগ্ন সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে সড়কেও।
স্থানীয় বাসিন্দা মোসলেম উদ্দিনসহ একাধিক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বছরের পর বছর ধরে এই সড়কের অর্ধেকেরও বেশি জায়গা দখল করে রাখা হচ্ছে। হঠাৎ করে গাড়ি থামানো বা ঘোরানোর কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। পথচারীদের চলাচলও হয়ে উঠেছে অনিরাপদ। তাদের অভিযোগ, এসব নিয়ন্ত্রণে আইন থাকলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। এখন পর্যন্ত এদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নজির নেই।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, জরুরি সেবার যানবাহনও এই যানজট থেকে রেহাই পাচ্ছে না। অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত আটকে পড়ছে সড়কে, যা গুরুতর রোগীদের জন্য তৈরি করছে জীবনহানির আশঙ্কা। অনেক ক্ষেত্রে রোগী ওঠানো-নামানোর সময় পুরো রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কোনো প্রতিষ্ঠান চালুর আগে নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা মানা হচ্ছে না। আবার কিছু প্রতিষ্ঠানে পার্কিং সুবিধা থাকলেও তা কেবল কর্মকর্তা ও স্টাফদের জন্য সীমিত, সাধারণ মানুষের জন্য নয়। ফলে বাধ্য হয়ে রোগী ও স্বজনদের সড়কেই যানবাহন রাখতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে কেএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-দক্ষিণ) খোন্দকার হোসেন আহম্মদ বলেন, তাদের নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় অভিযান পরিচালনায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর নির্ভর করতে হয়। মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। ঈদের পর ব্যস্ততম সড়কগুলোতে অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সিটি কর্পোরেশনকে অনুরোধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ক্ষুব্ধ নগরবাসীর দাবি, অবৈধ পার্কিং বন্ধে নিয়মিত অভিযান, জরিমানা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর ব্যবস্থা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় এই সমস্যা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button