ব্যবসায়ীদের পাশে থাকতে হবে

# আশার কথা শোনালেন নতুন গভর্নর #
শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ধুঁকে ধুঁকে চলছে। একটির পর একটি ধাক্কা এসে লাগছে দেশের অর্থনীতিতে। করোনা মহামারির প্রকোপ যেতে না যেতেই শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা। দেশে শুরু হয় রাজনৈতিক অস্থিরতা, ঘটে ক্ষমতার পালাবদল। টানা দেড় বছর অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্যকে বাস্তবিক অর্থে যেন রাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ করে তোলা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণমূলক কর্মকা- বেসরকারি খাতকে রীতিমতো টুঁটি টিপে ধরে। ফলে দেশে এখন নতুন বিনিয়োগ নেই বললেই চলে। কর্মসংস্থান বাড়ছে না। ঋণের অতি উচ্চ সুদহারের কারণে ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে শিল্পের উৎপাদন ক্রমেই কমছে। কোনো কোনো শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন সক্ষমতা অর্ধেকে নেমেছে। এতে উদ্যোক্তাদের লোকসান বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বেসরকারি উদ্যোক্তারা যখন চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছেন, তখন আশার কথা শোনালেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি জানান, বন্ধ কারখানা চালু করতে এবং বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংক তাঁদের পাশে থাকবে। গত রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের কনফারেন্স কক্ষে ঢাকার কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের বিজনেস এডিটর, সিনিয়র সাংবাদিক ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় গভর্নর বলেন, ‘কিছু কারখানা আগেই বন্ধ হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর আরো কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সেই কারখানাগুলোকে কিভাবে আবার উৎপাদনে নিয়ে আসা যায়, সেটি আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি। ব্যাংকগুলোকে আমরা সহায়তা করার কথা বলছি, যাতে তারা উৎপাদনে ফিরে এসে ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করে প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যথায় কারখানার সম্পদ দিন দিন নষ্ট হয়ে যাবে এবং ব্যাংক টাকা ফেরত পাবে না।’ গভর্নর বলেন, দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে যে আস্থা দরকার, সেটি তৈরিতে সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকও কাজ করছে। বড় উদ্যোক্তাদের, যাঁরা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছেন, তাঁদের পাশে থাকবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ‘কিছু বড় উদ্যোক্তার সঙ্গে আমরা বসেছি। আরো বসব। তাঁদের সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি’, বলেন তিনি। অর্থনৈতিক কর্মকা- বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৬০০ কোটি টাকার একটি স্টার্টআপ তহবিল গঠন করা হচ্ছে জানিয়ে গভর্নর বলেন, ‘নতুন উদ্যোক্তা তথা স্টার্টআপ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা তহবিলটি দ্রুত চালুর চেষ্টা করছি। এপ্রিল থেকে শুরু হবে এবং জুন মাস থেকে বিতরণ শুরু হবে। যেসব স্টার্টআপ কর্মসংস্থান তৈরি করবে, সেগুলো অগ্রাধিকার পাবে।’ সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নতুন করে বেসরকারি খাতকে সংকটে ফেলেছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তার নানামুখী ক্ষতিকর প্রভাব অর্থনীতিতে পড়বে। দেশে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির গতিশীলতা ধরে রাখার জন্য সুপরিকল্পিত উদ্যোগ নিতে হবে। ব্যবসায়ীদের আস্থায় নিতে হবে।
