স্থানীয় সংবাদ

খুলনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে হিসাবরক্ষক তরিকুলকে ঘিরে ঘুষ কেলেঙ্কারি : তদন্ত কমিটি গঠন

# প্রবাহে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসলো স্বাস্থ্য বিভাগ #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক (বড় বাবু) মোঃ তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ ও নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগ।
খুলনা বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) দপ্তর থেকে জারি করা এক আদেশে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গত ২৯ মার্চ খুলনা বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ভারপ্রাপ্ত ডা: মো: মুজিবুর রহমান এর স্বাক্ষরিত এক পত্রে আদেশে জানানো হয়, গত ১৬ মার্চ ও ২৯ মার্চ তারিখে দৈনিক প্রবাহ পত্রিকায় প্রকাশিত পৃথক দুটি প্রতিবেদনে তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ পায়। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গঠিত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে খুলনার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা: মোঃ মিজানুর রহমানকে। কমিটির অপর সদস্য হিসেবে রয়েছেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা: মোঃ রবিউল ইসলাম। কমিটিকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রকাশিত সংবাদসহ মোট পাঁচ পৃষ্ঠার সংযুক্তি কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির সভাপতি ডা: মো: মিজানুর রহমান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত কমিটি আগামী ৮ এপ্রিল থেকে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ দৈনিক প্রবাহ পত্রিকায় “খুলনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর আগে ১৬ মার্চ একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও ঘুষ সংক্রান্ত আরও একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। এরই মধ্যে ভুক্তভোগী আউটসোর্সিং কর্মচারীরা গত ২৫ মার্চ খুলনা বিভাগীয় পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তারা বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই দিনে আল-আরাফাত সার্ভিসেস (প্রা:) লিমিটেডের খুলনা প্রতিনিধি মোঃ জাফর ইকবালও পৃথক একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের ভিত্তিতেই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দাবি করেছে, তদন্তের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম বিভিন্ন দপ্তরে তদবির শুরু করেছেন, যাতে তদন্ত প্রতিবেদন তার অনুকূলে আসে।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button