স্থানীয় সংবাদ

কিন্ডার গার্টেন স্কুলগুলোর শিক্ষা উপকরণ বাণিজ্য রমরমা

শেখ ফেরদৌস রহমান ঃ খুলনায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে কিন্ডার গার্টেন স্কুলগুলো। পাঠদানের পাশাপাশি শুরু করেছে শিক্ষা উপকরণ, কোচিং বাণিজ্য। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য মতে চারশোটির বেশি স্কুলের নিবন্ধন থাকলেও বাস্তবের রয়েছে এর থেকে কয়েকগুণ কিন্ডার গার্ডেন স্কুল। এসব স্কুলে ভর্তির সময়ে ছোট কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অবিভাবকদের একটি মোটা অংকের অর্থ নিয়ে ভর্তি করিয়ে একটি তালিকা হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে স্কুল প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা। এর মধ্যে রয়েছে সরকারী পাঠ্যবইয়ের বাহিরে কিছু বই, ডায়রী, খাতা, টাই, ইউনিফর্ম। পাশাপাশি সব থেকে বেশি বাণিজ্য হচ্ছে কোচিং বাণিজ্য । এ বিষয়ে সচেতন নাগরীক মোঃ বাদশা বলেন, খুলনা নগরীতে শিক্ষা বাণিজ্যের অধিক লাভজনক হওয়ায় নগরীর আনাচে কানাচে এসব কিন্ডার গার্টেন স্কুলের ব্যবসার বিস্তার ঘটছে। এমনকি নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানে নেই কোন জবাবদিহিতা। ফলে অল্প পুঁজি বিনিয়োগ করেই দ্রুত প্রসার ঘটছে এ ব্যাবসা। কোমলমতির শিশু শিক্ষার্থীদের উপর থেকে অতিরিক্ত বই, খাতা’র বোঝা কমানোর নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে কেউ মানছে না সে নির্দেশনা। নগরীর প্রায় পাড়া মহল্লায় এ ধরণের এক বা একাধিক প্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ আছে কি না এ ব্যাপারেও কর্তৃপক্ষের নজরদারি নেই। দেখা গেছে, অনেকগুলো কিন্ডার গার্টেন কিংবা স্কুলের অবস্থা অনেকটা মুরগীর খাঁচার ন্যায় পুরাতন জরাজীর্ণ ভবন বা টিন শেড দিয়ে তৈরি করে স্কুল খুলে বসে আছেন। শুধুমাত্র একটি ভাড়া বাসা কিংবা ভবন নিয়ে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়েই চলছে এমন ব্যবসা। এমনকি এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেতন-ভাতা তেমন না হলেও শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে নানা পন্থায় আদায় করা হচ্ছে প্রচুর অর্থ। ভালো বেতন ভাতা দিতে না পারায় ভালো ও দক্ষ শিক্ষক না রাখায় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার মানও অত্যন্ত নিম্ন। অনেক অবিভাকদের অভিযোগ, এসব স্কুলে টিউশন ফিসহ নানা ধরণের ফি বাবদ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের গুণতে হয় মোটা অংকের অর্থ। এতেই শেষ নয়, প্রতিষ্ঠানে থেকে ক্রয় করতে হয় বই খাতা থেকে শুরু করে জুতো, ইউনিফর্ম, ব্যাচ, বই, খাতা ডায়রীসহ অনেক কিছু। এবিষয়ে ভুক্তভোগী শিশু শিক্ষার্থীর অবিভাবক মো. মামুন হাওলাদার বলেন, কিন্ডার গার্টেন স্কুল শুধু ব্যবসায়িক নজর একটু বেশি। পাঠ্য বইয়ের বাহিরেও কমিশন খেয়ে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে শিশুদের কাঁধে তাদের নিজস্ব সিলেবাসের বইয়ের বোঝা। এসব বই পুস্তক ও আবার তাদের নিয়ন্ত্রিত প্রকাশনী ছাড়া কোন লাইবেরী প্রকাশনা সংস্থায় পাওয়া যায় না। একই কথা বলেন, বয়রা চিলড্রেন ভয়েস স্কুলের অবিভাক মোঃ সেলিম তিনি বলেন, স্কুলটিচারের সর্ব নি¤œ বেতন এক হাজার টাকার বেশি। এই বেতনের পাশাপাশি অন্যান্য খরচ তো আছেই। সব কিছু বুঝলেও আর এসব বিষয়ে প্রতিবাদ ও করা যাচ্ছেনা কারণ সন্তানের শিক্ষা জন্য সব মেনে নিতে হয়। তবে এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করে কোন লাভ নেই। এছাড়া বর্তমান সময়ে বইয়ের, খাতা, কলমসহ অন্যান্য শিক্ষা উপকরণের মূল্য তো বেড়েই চলছে। দাম ও আগের তুলনায় অনেক বেশি। এমনকি বই বাণিজ্য করতে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন বই প্রাপ্তির দোকান নির্দিষ্ট করে দেওয়া বইয়ের দোকান থেকে উচ্চ মূল্যে বই কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে অভিভাবকদের। এসব স্কুলগুলোতে শিক্ষা ব্যবস্থার মান যাই হোক না কেন নির্দিষ্ট দোকান থেকে বই কেনা, নানা কৌশলে বছর ব্যাপী নানা ফন্দি করে অভিভাবকদের কাছ থেকে আদায় করে থাকে বিপুল পরিমাণ অর্থ। এবিষয়ে বয়রা অক্ষর বিদ্যাপিঠ স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক প্রসেনজিৎ সাহা বলেন, আমি শুনেছি বেশ কয়েকটি স্কুল আছে এরা এসব মাত্রাতিরিক্ত শিক্ষা বাণিজ্য করছে। এগুলো করা আদৌ উচিত না। আমার বিদ্যালয়ে এবিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আছে। কোন শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত বই বা অন্য কোন অতিরিক্ত শিক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করা যাবেনা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button