স্থানীয় সংবাদ

তালায় ২য় শ্রেণির ছাত্রীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করলো প্রধান শিক্ষক

# বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর বিদ্যালয় ঘেরাও #

বি. এম. জুলফিকার রায়হান, তালা ঃ তালার রায়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণির এক ছাত্রীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত আহত করা হয়েছে। পরীক্ষা দিতে না পারায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওই শিশু ছাত্রীকে পিটিয়ে আহত করে। ঘটনার পর অভিভাকরা গুরুতর আহত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে তালা হাসপাতাল নিয়ে আসেন। এসময় বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামের ৫/৬শ’ নারী-পুরুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওই স্কুল ঘিরে ফেললে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। প্রায় ৫ঘন্টা অবরুব্ধ থাকার পর প্রশাসন দীর্ঘ প্রচেষ্টায় তাদের উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে খলিলনগর ইউনিয়নের ৬৫ নং রায়পুর সরকারি প্রাথমকি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী নির্যাতনের এই ঘটনা ঘটে। শারীরিক নির্যাতনের শিকার শিশু ছাত্রী রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা।
শিশুটির মা জানান, বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর মেয়ের কান্না করছে- এমন খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। সেসময়ে মেয়ের কান্নার বিষয় জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আবুল হাশেম একটি চড় মারার কথা স্বীকার করে। পরে মেয়েকে বাড়িতে আনার পর মেয়ের পিঠে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। এছাড়া কান দিয়ে রক্ত বের হওয়াসহ মুখ ফোলা দেখার পর প্রধান শিক্ষক আবুল হাশেম মেয়েকে ব্যপক মারপিট করেছে বলে বোঝা যায়। এতে অসুস্থ্য মেয়েকে দ্রুত তালা হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। শিশুটির মা বলেন, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এদিন বিদ্যালয়ে অংক পরীক্ষা নেওয়া হয়। ওই পরীক্ষা দিতে না পারায় প্রধান শিক্ষক মেয়েকে অমানুষিক মারধর করে। আহত শিশু ছাত্রী জানায়, স্যার আগে না জানিয়ে আজ অংক পরীক্ষা নিয়েছিল। আমি পরীক্ষা না পারলে স্যার আমার কানে, পিঠে ও মুখে খুব মারে।
এদিকে, শিশুকে মেরে রক্তাক্ত করার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত নারী ও পুরুষ বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষক আবুল হাশেমকে খুজতে থাকে। এসময় শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের গেট ও দরজা বন্ধ করে দিলে ক্ষুব্ধ জনতা বিদ্যালয় ঘিরে ফেলে। এরফলে শিক্ষকরা দীর্ঘ সময় রুমে অবরুব্ধ থাকে। একপর্যায়ে সন্ধ্যার পরে বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করে তালা থানা পুলিশ এবং তালা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃনাল কান্তি রায় অবরুব্ধ শিক্ষকদের উদ্ধার করেন।
এবিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি ছুটি নিয়ে চিকিৎসাধিন রয়েছেন। রায়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শিক্ষার্থী নির্যাতন এবং শিক্ষকদের অবরুদ্ধ রাখার ঘটনা শোনামাত্র সেখানে সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা অফিসার এবং থানা পুলিশ উপস্থিত হয়ে সন্ধ্যার পরে বিষয়টি নিষ্পত্তিসহ শিক্ষকদের উদ্ধার করেন। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনসহ তাকে প্রত্যাহার করে নেয়া হবে বলে তিনি জানান। এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষক জি এম আবুল হাশেম বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, শিক্ষার্থীকে ২ টি চড় মেরেছিলাম। এবিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
শিশু শিক্ষার্থীকে রক্তাক্ত আহত করার ঘটনায় শিশুটির মা উপজেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এছাড়া, সঠিক বিচার পেতে শিশু নির্যাতন আইনে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তালা থানায় ফৌজদারী মামলা করা হবে বলেও তিনি জানান।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button