স্থানীয় সংবাদ

খুলনার পদ্মা মেঘনা ও যমুনাকে ঘিরে তেল চোরদের মহাজোট

# কালো টাকার পাহাড় গড়ে কেউবা হয়েছেন প্রখ্যাত কেউবা কুখ্যাত #

দিঘলিয়া প্রতিনিধি ঃ দিঘলিয়া উপজেলার খালিশপুর থানার কাশিপুর এলাকায় গড়ে ওঠা জ্বালানি তেল সরবরাহে মেসার্স পদ্মা মেঘনা ও যমুনাকে ঘিরে তেল চোরদের সিন্ডিকেট। তেল চুরি করে কালো টাকার সম্পদ গড়ে সমাজে কেউবা পরিচিতি লাভ করেছে হাজী সাহেব আবার কেউবা প্রভাব প্রতিপত্তিশীল ব্যক্তিত্ব। থেমে নেই তেল চুরির মহোৎসব। কেউবা চুরি করছে সুকৌশলে ডিপোগুলো থেকে কেউবা চট্রগ্রাম থেকে তেল লোড করে আসা ভৈরব নদের ট্যাংকারগুলো থেকে। এখানের এই ডিপোগুলো থেকে ট্যাংলরি ও রেলের ওয়াগনগুলো নানা রকম জ্বালানি তেল লোড নিয়ে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলার নানা ডিলারের ডিপোগুলোতে যাওয়ার পথে রাস্তার দুই ধারে নির্মিত স্থাপনা থেকে হোসপাইপ দিয়ে বালতি ভরে তেল চুরির ঘটনা অহরহ। ডিপোগুলোর প্রধান ফটক থেকে নতুন রাস্তা পর্যন্ত রাস্তার পাশে গড়ে তোলা হয়েছে তেলচোরদের স্থাপনা। কারো কারো স্থাপনা বেড়া দিয়ে ঘেরা, কারো পাকা দোকানে শার্টার লাগানো। কেউবা সরকারি বিএল কলেজের জায়গা অবৈধ দখলে নিয়ে ঘর করে কেউবা কাশিপুরের বালির ঘাটে স্থায়ী ঘর করে তেল চুরি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে অবাধে।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, খুলনার দিঘলিয়া থানার ফরমাইশখানা বার্মাশেল খেয়াঘাট এবং মেসার্স পদ্মা, মেসার্স মেঘনা ও মেসার্স যমুনাকে ঘিরে কাশিপুর এলাকায় গড়ে উঠেছে জ্বালানি তেল চোরদের সিন্ডিকেট। রাতের আঁধারে চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন প্রকার জ্বালানি তেল নিয়ে আসা ট্যাংকারগুলো যখন ভৈরব নদের মাঝে নঙ্গর করে ডিপোগুলোতে তেল আনলোড করার জন্য অপেক্ষা করে তখনই দুই পারের সংঘবদ্ধ চোর চক্র ট্যাংকার থেকে তেল চুরির মহোৎসবে মেতে ওঠে। এই তেল চুরির ব্যবসা চালিয়ে খুলনা নগরীর ৭ নং ওয়ার্ডের কেউ কেউ আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনেছেন। কালো টাকার প্রভাবে সুরম্য অট্টালিকার মালিক। কেউ হয়েছেন প্রখ্যাত সমাজ পতি আবার কেউ বনেছেন কুখ্যাত। বর্তমানেও এদের অপতৎপরতায় খুলনা নগরীর খালিশপুর থানার কাশিপুর এলাকায় অবস্থিত মেসার্স পদ্মা, মেসার্স মেঘনা ও মেসার্স যমুনা তেল ডিপো বর্তমানে মহা সংকটে ও ঝুকির মধ্যে। ডিএসগণ থাকেন চাপে ও আতঙ্কে। এদিকে দিঘলিয়া উপজেলার বার্ম্মাশেল খেয়াঘাটের আশপাশ বর্তমানে রাতের আঁধারে তেল চোরদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। তেল চোরদের সিন্ডিকেট ও আধিপত্যের লড়াইয়ে খুন হয় বাচ্চু, সাকিব ও মামুন। আর এই তেল চুরির পাশাপাশি এ এলাকায় গড়ে উঠেছে মাদক ও নানা অপরাধীদের অভয়ারণ্য। আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরাও রাতের আঁধারে কাঁঠালতলা এসে চা চক্রে মিলিত হয় বলে জানা গেছে। এখানেরই এক যুবক নৌপুলিশের পক্ষে ট্রলার নিয়ে জাহাজে জাহাজে গিয়ে টাকা তুলে বলেও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়। এ এলাকা থেকে কয়েক মাস আগে কনডোম রিপন নামে এক সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রেফতার হলেও তার সহযোগীরা ও তার বহনকৃত অস্ত্র এবং পৃষ্ঠপোষকতায় জড়িত মাদক সরবরাহকারী ও মাদক বিক্রেতামহল রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষের জোর দাবী এ সকল অপরাধমূলক কাজের সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button