মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সাইরেন আর বিস্ফোরণের শব্দ

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র আকস্মিকভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর তেহরানের প্রতিশোধমূলক আঘাতের মধ্য দিয়ে যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে, তার ৩৫তম দিন বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতজুড়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সাইরেনের শব্দ আর বিস্ফোরণ শোনা গেছে। সেই ধারাবাহিকতা আছে শুক্রবারও (৩ এপ্রিল)। বিবিসিসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুরের ঠিক আগে ড্রোন হামলায় কুয়েতের একটি তেল শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির জরুরি সেবা সংস্থাগুলো আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
এছাড়া একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং লবণাক্ত পানি শোধনাগারেও (ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট) হামলা চালানো হয়েছে। কুয়েত কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এই হামলা ইরান থেকে হয়েছে। তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর এর জন্য ইসরায়েলকে দুষছে এবং হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার তাদের আকাশে বেশ কিছু ড্রোন নিক্ষিপ্ত হয়েছে, যা আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। অন্যদিকে বাহরাইনে বিমান হামলার সাইরেন বাজার পর দেশটির নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে একটি ‘নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা’ চালিয়েছে। এই অভিযানে সশস্ত্র সংগঠন হেজবুল্লাহর ১৫ জন সদস্য নিহত হয়েছে বলে দাবি তাদের। এছাড়া বৈরুতের দক্ষিণে একাধিক শহরের বাসিন্দাদের এলাকা থেকে সরে যাওয়ার জন্য নতুন করে নির্দেশ জারি করেছে ইসরায়েল। আইডিএফ জানিয়েছে, গত রাতে ইরান থেকে ইসরায়েলে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে যে, তারা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে একঝাঁক ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র’ ছুড়েছে। গত বৃহস্পতিবার তেহরানের কাছে একটি সেতুতে হামলা চালায় ইসরায়েলি-মার্কিন বাহিনী। ওই হামলার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সময় কাটছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ইরান থেকে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে, যা প্রতিহত করা হয়েছে। যদিও ধ্বংস হওয়া ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আবুধাবিতে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকস্মিক ইরানে বিমান হামলা শুরু করার পর থেকে এ অঞ্চলটি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ওই হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ এ পর্যন্ত এক হাজার ৪০০ জনের মতো মানুষ নিহত হয়েছেন। ইরান তাদের ভূমিতে হামলার জবাবে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে।



