সম্পাদকীয়

টিকাদান ত্বরান্বিত করুন

# হামে শতাধিক শিশুর মৃত্যু #

প্রতিরোধযোগ্য হামের কারণে এ ধরনের মহামারি আকারের বিস্তৃতি আগে কখনো দেখা যায়নি। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির কারণে শিশুদের এই রোগটি যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু গত অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ায় হাম এখন মহামারির রূপ নিয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৭৯২ জন শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে ১০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে এই পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন, মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে। কারণ অনেকেই ছোটখাটো ক্লিনিকে চিকিৎসা করান, অনেকে বাড়িতেই চিকিৎসা করানÑসেসব মৃত্যুর হিসাব জাতীয় হিসাবে খুব কমই এসেছে। এদিকে ২৮ মার্চ প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, দেশের ৬৪ জেলায়ই হাম ছড়িয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ জেলা ও তিন সিটি উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে। জনসংখ্যার অনুপাতে রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় কক্সবাজারে সবচেয়ে বেশি রোগীর চাপ দেখা গেছে। এখানকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে গত জানুয়ারি থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত আট হাজার ৭৫৯ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। এ ছাড়া বরগুনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, নাটোর জেলাসহ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন ও বরিশাল সিটি করপোরেশনকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার গত বুধবার থেকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা গতকাল রবিবার থেকে শুরু হয়েছে। বর্তমান সরকার দ্রুততম সময়ে টিকা আনানোর পদক্ষেপ নিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, জুন নাগাদ টিকাদান পুরোদমে শুরু করা যাবে। এর আগে সীমিত মজুদ দিয়ে জরুরি বিবেচনায় টিকাদান কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া হবে। জানা যায়, অতীতে ৯৫ শতাংশের বেশি শিশু ইপিআই কর্মসূচির আওতায় থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তা ৬০ শতাংশের কাছাকাছি নেমে আসে। আর তারই পরিণাম হচ্ছে বর্তমানে মহামারি আকারে হামের প্রাদুর্ভাব। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) উপপরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানান, প্রাথমিকভাবে বেশি আক্রান্ত এলাকাগুলোতে দুই সপ্তাহব্যাপী জরুরি টিকাদান কার্যক্রম চালানো হবে। প্রয়োজনে সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে। এরই মধ্যে ২০-২১টির বেশি আক্রান্ত উপজেলা চিহ্নিত করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা অফিস আদেশে বলা হয়, আপৎকালীন নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং হামের টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করতে সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এভাবে সারা দেশে টিকার অভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুকে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবহেলাজনিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছেন। প্রয়োজনে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এর আগে সারা দেশে শিশুদের রক্ষায় প্রয়োজনে যুদ্ধকালীন জরুরি বিবেচনায় টিকাদান কর্মসূচি চালিয়ে নিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button